বুঝতেই তো পারছেন ম্যাম..., জবাবে ‘অতিথি দেব ভব’-র নমুনায় তাৎপর্যপূর্ণ টুইট সায়নীর
বুঝতেই তো পারছেন, ম্যাম..., জবাবে ‘অতিথি দেব ভব’-র নমুনায় তাৎপর্যপূর্ণ টুইট সায়নীর
ত্রিপুরায় পা দিয়েই তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তারপর দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহা ও জয়া দত্তদেরও হেনস্থা হতে হয়। এমনকী গ্রেফতার পর্যন্ত হতে হয়। তারপর নিগ্রহের স্বীকার হন দেলা সেন-সহ দুই রাজ্যসভার সাংসদও। এবার কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হল তৃণমূলের যুব সভানেত্রী সায়নী ঘোষকে।

ত্রিপুরার কাছে অতিথি দেব ভব, বিপ্লব-বার্তাই সার
তৃণমূল এবার ত্রিপুরাকে পাখির চোখ করেছে। সেইমতো প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক টিমের ২৩ সদস্যকে তৃণমূল সমীক্ষার জন্য পাঠিয়েছিল ত্রিপুরায়। তাঁদেরকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়। তৃণমূলের প্রতিবাদে পিকের টিম-মেম্বারদের ছাড়া হয়। তারপর বিজেপিশাসিত ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বার্তা দেন, ত্রিপুরার কাছে অতিথি দেব ভব।

অভিষেকের ত্রিপুরা যাত্রা থেকে সায়নীর সামনে বাধা
বিপ্লব দেব মুখে অতিথি দেব ভবও কথা বললেও আদতে কিন্তু তার কোনও নমুনা এখনও মেলেনি। বরং তৃণমূল ত্রিপুরায় সংগঠন বিস্তার শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক বাধা খাঁড়া করা হয়েছে। অভিষেকের ত্রিপুরা যাত্রা থেকে শুরু করে সায়নী ঘোষদের সামনে বাধার পাহাড় তৈরি করে তৃণমূলকে আটকানোর চেষ্টা চলছে ত্রিপুরায়।

পরিকল্পনা করে হোটেল ঘন্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, ত্রিপুরায় তৃণমূলকে কোনও হোটেল দেওয়া হচ্ছে না। কোনও মাইক্রোফোন দেওয়া হচ্ছে না। আর এদিন তৃণমূলের যুব সভানেত্রী সায়নী ঘোষ অভিযোগ করেন, সম্পূর্ণ পরিকল্পনা করে হোটেল ঘন্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং করে রাখা হচ্ছে। এরপর তিনি টুইট করে ক্ষোভ উগরে দিলেন ত্রিপুরায় বিজেপি পরিচালিত সরকারি প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

ইচ্ছে করে হোটেল অন্ধকার করে রাখা হচ্ছে ত্রিপুরায়
সায়নী ঘোষ অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার গভীর রাতে ত্রিপুরার পাঁচতারা হোটেলে কারেন্ট চলে যায়। দীর্ঘক্ষণ কারেন্ট অফ ছিল। এমনকী কর্তৃপক্ষ দুর্ব্যবহার করতেও ছাড়ছে না। হোটেলে অস্বস্তিকর অবস্থা ভিডিও করেন সায়নী। তিনি দাবি করেন ইচ্ছে করে হোটেল অন্ধকার করে রাখা হচ্ছে। আর সবটাই হচ্ছে ত্রিপুরার বিজেপি সরকারের অঙ্গুলিহেলনে।
|
বুঝতেই তো পারছেন, ম্যাম..., বলছে হোটেল কর্তৃপক্ষ
সায়নী ভিডিওতে বলেন, আমার জীবনে এমন অভিজ্ঞতা প্রথম হল। পাঁচতারা হোটেলেও কারেন্ট চলে গেল। বাহ ভালো কাজ করেছ বিজেপি। কিন্তু মনে রেখো ত্রিপুরায় খেলা হবেই। কেউ আটকাতে পারবে না। এই লোডশেডিং নিযে প্রশ্ন করা হলে হোটেল কর্তৃপক্ষ বলেন, বুঝতেই তো পারছেন, ম্যাম...।

অতিথি দেব ভব-র উদাহারণ ড্রেনের জলে ভাসছে
সায়নী বলেন, প্রায় আড়াই ঘণ্টার মতো হোটেলে কারেন্ট ছিল না। তার পুরোটাই ইচ্ছাকৃত। হোটেল থেকে সায়নীদের বলা হয়েছিল রেস্টুরেন্ট চত্বহরে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করা যাবে না। তৃণমূল যাতে মিটিং না করতে পারে, তার জন্যই এক কড়াকড়ি বন্দোবস্ত। জেনেশুনে এসব করা হয়েছে। সব দেখে যুবনেত্রী জানিয়েছেন, অতিথি দেব ভব-র উদাহারণ ড্রেনের জলে ভাসছে। আরও একটি টুইট করে সায়বনী লেখেন, হোটেলে তাদের ভালো খাবারও দেওয়া হচ্ছে না।

ত্রিপুরায় বিজেপির ‘শাসন’ চলছে, সুশাসনের ডাক তৃণমূলের
ত্রিপুরায় বিজেপির এই 'শাসন' চলছে তৃণমূল পা রাখার পর থেকেই অভিষেকের কনভয়ে কালো পতাকা দেখানো থেকে শুরু করে লাঠির বাড়ি পর্যন্ত মারা হয়েছিল। যা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছিলেন অভিষেককে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছিল। বুলেট প্রুফ গাড়ি বলে অভিষেক রক্ষা পেয়েছেন। কিন্তু দেবাংশু-সুদীপ-জয়ারা রক্ষা পাননি। তাঁদের উপর পাথরবৃষ্টি করা হয়েছে। কোনওরকমে রক্ষা পেলেও পুলিশি হেনস্থার মুখে পড়তে হয় তাঁদের।

তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখে তৃণমূলের একের পর এক নেতা
শেষমেশ দেবাংশুদের ১৪ জনকে মহামারী আইনে গ্রেফতার করা হয়। দিনভর নাটকের পর আদালত থেকে তাঁরা মুক্তি পান জামিনে। তাঁদের ফিরিয়ে আনা হয় কলকাতায়। এরপর প্রতিবাদ চলতে তাকে। প্রতিবাদে নেমে হেনস্থার শিকার হতে দোলা সেন ও অপরূপা পোদ্দারকে। তারপর যুব সভানেত্রী সায়নী ঘোষ ত্রিপুরা যান। তাঁকেও তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হয় এদিন।

ত্রিপুরা থেকে বিজেপিকে হটানোই লক্ষ্য ২৪-এর আগে
ত্রিপুরায় ২০২৩-এ বিধানসভা নির্বাচনে। সেই নির্বাচনকে পাখির চোখ করেছে তৃণমূল। বাংলা জয়ের পর ত্রিপুরা থেকে বিজেপিকে হটানোই লক্ষ্য তাদের। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিকে মোক্ষম ধাক্কা দেওয়ার আর একটা প্রচেষ্টা তৃণমূলের। ২০২৩-এর ভোটে বিজেপিকে হারিয়ে ত্রিপুরায় তৃণমূলের মা-মাটি-মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে কোমর বেঁধেছেন মমতা-অভিষেকরা। পিকে-মুকুলের মতো কৌশলীদের নিয়ে তৃণমূল ঝাঁপাচ্ছে ত্রিপুরা দখলে।












Click it and Unblock the Notifications