৪ ডিসেম্বর নিষিদ্ধ হয়েছিল সতীদাহ, নারী-অধিকারে দিনটি মাইলফলক

জোর করে বা ভুল বুঝিয়ে সদ্য স্বামীহারা মেয়েদের তোলা হত জ্বলন্ত চিতায়। আগুনে পুড়ে গিয়ে যখন গা থেকে খসে পড়ত মাংস, তখন পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠত লোকজন। অসহায় বিধবার আর্ত চিৎকার যাতে কেউ শুনতে না পায়, সেই জন্য তারস্বরে বাজানো হত ঢাকঢোল। ধুনো ছড়িয়ে অন্ধকার করে দেওয়া হত চারদিক।
সতীদাহ নিবারণে রাজা রামমোহন রায়ের ভূমিকা সবারই জানা। তাঁকে যোগ্য সমর্থন দিয়েছিলেন বড়লাট লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক। ১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর সতীদাহ বিরোধী নির্দেশনামায় স্বাক্ষর করে তা কার্যকর করার নির্দেশ দেন এই মহামতি ইংরেজ। তবে ওইদিন থেকে শুধু বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে (এখনকার পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওডিশা এবং বাংলাদেশ) নিষিদ্ধ হয়েছিল সতীদাহ।
সতীদাহ নিষিদ্ধ হওয়ায় তৎকালীন ব্রাহ্মণ সমাজপতিরা বেজায় রেগে যান। রাজা রামমোহন রায়ের বিরুদ্ধে অশ্লীল ভাষায় ছড়া কাটা শুরু হয়। লন্ডনে ব্রিটিশ সরকারের কাছে আপিল মামলা করে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা হেরে যায়। প্রসঙ্গত, সতীদাহ থাকুক, এই মর্মে যাঁরা লন্ডনে আপিল করেছিলেন, তাঁদের অন্যতম হলেন কলকাতার শোভাবাজার রাজবাড়ির রাজা রাধাকান্ত দেব। ছেঁদো যুক্তি সাজিয়ে রামমোহন রায়ের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে কুপোকাৎ হন।
১৮৩০ সালে বোম্বাই এবং মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতেও সতীদাহ নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। দেশীয় মহারাজাদের দ্বারা শাসিত ভূখণ্ডে মোটামুটি আরও কয়েক বছর সতীদাহ ব্যবস্থা চালু ছিল। ১৮৬১ সালে মহারাণী ভিক্টোরিয়া গোটা ভারতবর্ষে সতীদাহ নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করেন। বেন্টিঙ্কের পথ অনুসরণ করে সেই সময় বড়লাট লর্ড ক্যানিং-ও কড়া মনোভাব নেন। ব্রিটিশ সরকারের কড়াকড়িতে সেঁধিয়ে যেতে বাধ্য হয় সতীদাহের সমর্থকরা।












Click it and Unblock the Notifications