সারদাকাণ্ডে ইনি-ও জেলে ছিলেন, তবে কি মুকুলের রাস্তায় হেঁটে পেলেন স্বস্তি
সারদাকাণ্ডে চলতি বছরের শুরুতেও জেলে ছিলেন মনোরঞ্জনা। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন আছেন তিনি।
মনোরঞ্জনা সিং। পেশা সাংবাদিকতা। অসমের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ মাতঙ্গ সিং-এর স্ত্রী। সারদাকাণ্ডে চলতি বছরের শুরুতেও জেলে ছিলেন মনোরঞ্জনা। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন আছেন তিনি।

শীর্ষ আদালতে মনোরঞ্জনার আইনজীবী জানিয়েছিলেন যে তাঁর ক্লায়েন্ট প্রবলভাবে অসুস্থ। জেলে থাকতে থাকতে এই অসুস্থটা এতটাই বেড়েছে যে তিনি হাঁটা-চলা করারও শক্তি হারিয়েছেন। তাঁকে একস্থান থেকে অন্যস্থানে নিয়ে যেতেও নাকি হুইলচেয়ার লাগে। হাসপাতালের বেডে তাঁকে একপাশ থেকে অন্যপাশে ফেরাতেও লোক লাগে।
এহেন মনোরঞ্জনাকে এবার দেখা গেল এক্কেবারে নতুন অবতারে। হার্লে ডেভিডসন মোটর বাইকের সামনে দাঁড়িয়ে একটি ছবি সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। ছবির তারিখ দেখা যাচ্ছে ৩ ডিসেম্বর। তাঁকে দেখে কোনওভাবেই বোধ হয় না যে তিনি খুবই অসুস্থ যে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেন না। আর যিনি হাঁটা-চলার ক্ষমতাই হারিয়েছেন সেই তিনি কী করে হার্লে ডেভিডসনের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন?

২০১৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মনোরঞ্জনার জামিনের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তাঁকে যখন বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, দেখে মনে হচ্ছিল সত্যি মুমূর্ষূ অবস্থা তাঁর। এমন গুরুতর অসুস্থ কোনও ম্যাজিক চিকিৎসায় রাতারাতি শুধু সুস্থ-ই হলেন না এক্কেবারে মোটরবাইকে সওয়ারি করার ক্ষমতাও পেয়ে গেলেন? সত্যিকারেই তৈরি হচ্ছে বহু প্রশ্ন।

শুধু হার্লে ডেভিডসন-এর মতো মোটরবাইকের পিছনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলাই নয়, মনোরঞ্জনা সিং আরও কিছু ছবি আপলোড করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সে সব ছবিতে দিব্যি তাঁকে হাঁটতে-চলতে ফিরতে দেখা যাচ্ছে। যে মানুষটি কয়েক মাস আগেও মর মর অবস্থায় ছিলেন তিনি এমনভাবে হাঁটা-চলা করছেন দেখলে অলৌকিক শক্তিকে স্মরণ করতে হয়।

গ্রেফতারের পর পর-ই হাইপার টেনশন-সহ একাধিক রোগের কথা বলে সিবিআই হেফাজত থেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মনোরঞ্জনা সিং। এসএসকেএম হাসপাতালে পর্যন্ত থাকতে রাজি হননি তিনি। সিবিআই তাঁর ঠিক মতো চিকিৎসা করাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছিলেন মনোরঞ্জনা। এর জন্য তিনি আদালতের অনুমতি নিয়েই নিজস্ব খরচে কলকাতায় এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
কম করেও পনেরো মাস সিবিআই হেফাজতে জেলে ছিলেন মনোরঞ্জনা। কিন্তু, এর অধিকাংশ সময়টাই তিনি কাটিয়েছিলেন বেসরকারি হাসপাতালের লাক্সারি স্যুটে। মনোরঞ্জনার জামিনের কম বিরোধিতা করেনি সিবিআই।
সারদাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন সিবিআই থেকে আদালত সবখানেই বারবার অভিযোগ করেছিলেন যে তিনি মাতঙ্গ সিং এবং তাঁর তৎকালীন স্ত্রী মনোরঞ্জনা সিং-এর মালিকানাধীন এন ই টেলিভিশন নিউজ গ্রুপ-কে কিনতে গিয়ে প্রতারনার শিকার হন। মাতঙ্গ সিং এবং তাঁর স্ত্রী দু'জনেই টিভি চ্য়ানেল বিক্রির জন্য তাঁর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিলেও কাগজে সই করেননি বলেও অভিযোগ করেছেন সুদীপ্ত।
সারদাকাণ্ডে শুধু মনোরঞ্জনাই নয় তাঁর মতো আরও বহু প্রভাবশালীদের নাম জড়িয়েছে। এঁদের মধ্যে কাউকে কাউকে গরাদের পিছনেও বহুদিন কাটাতে হয়েছে। মনোরঞ্জনা আপাতত জামিনে বাইরে। একটা সময় কংগ্রেসের যথেষ্টই ঘণিষ্ট ছিলেন মনোরঞ্জনা এবং তাঁর প্রাক্তন স্বামী মাতঙ্গ। অথচ, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় মনোরঞ্জনার অ্য়াকাউন্টের কভার পেজে দেখা যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদীর বিশাল ছবি।

এমনকী মনোরঞ্জনা তাঁর সোশ্য়াল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে মোদী এবং বিজেপি বিরোধীদের তুলোধনা করছেন। বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন তিনি।

সারদাকাণ্ডে নাম জড়িয়ে আছে মুকুল রায়-এরও। এখনও পর্যন্ত সিবিআই তাঁকে একবারই জেরা করেছে। এরপর থেকেই রহস্যময়ভাবে তৃণমূল থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে নেন মুকুল। সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগও দিয়েছেন মুকুল। বিজেপি বিরোধীদের দাবি, সমঝোতা করেই কি তাহলে সরদা থেকে রেহাই পেয়ে আছেন মুকুল? তাই কংগ্রেসের ঘণিষ্ট মনোরঞ্জনার এখন বিজেপি প্রীতি দেখে অনেকে এখন মুকুলের উদাহরণই টানছেন। মনোরঞ্জনাও কি সারদাকাণ্ডে রেহাই পেতে কি মুকুল ফর্মূলা অনুসরণ করছেন? চলছে জোর জল্পনা।












Click it and Unblock the Notifications