লাল-সবুজ বোতলে সাইকেল ছাপ, ভোটের আগে সুগন্ধি চমক, পারফিউম বাজারে আনল সমাজবাদী পার্টি
লাল-সবুজ বোতলে সাইকেল ছাপ, ভোটের আগে সুগন্ধি চমক, পারফিউম বাজারে আনল সমাজবাদী পার্টি
ভোটের আগে বড় চমক সমাজবাদী পার্টির। দলের নামে বাজারে পারফিউম আনলেন অখিলেশ যাদব। লাল সুবজ বোতলের গায়ে সাইকেল ছাপ। যদিও এবার আগেই অখিলেশ যাদব ঘোষণা করেছেন তিনি ভোটে দাঁড়াবেন না। সেই মত ঘর গোছাতে শুরু করেছে দল। যেবার অখিলেশ যাদব মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন সেবার রাজ্যের সব ছাত্রছাত্রীদের ট্যাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার কী হবে সপার নতুন চমক। সেই অপেক্ষাতেই ছিল দল। একদিকে যখন বিজেপি অযোধ্যাকে ইউএসপি করে এগোচ্ছে। অন্যদিকে অখিলেশ যাদব দলের নামে পারফিউম এনে বড় চমক দিয়েছেন।

দলের নামে সুগন্ধী বাজারে আনল সপা
হাতে মাত্র আর কয়েকটা মাস সময়। তারপরেই উত্তর প্রদেশের হাইভোল্টেজ নির্বাচন। ইতিমধ্যেই উত্তর প্রদেশে যাতায়াত শুরু করে দিয়েছেন মোদী-শাহ। এক প্রকার বলতে গেলে বিজেপি প্রচার শুরু করে দিয়েছে। বিজেপিকে টক্কর দিতে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে সমাজবাদী পার্টিও। যদিও অখিলেশ নিজে এবার ভোটে লড়বেন না বসে জানিয়েছেন। সেকারণে দল একটু অন্য সমীকরণে সাজানো চলছে। ইতিমধ্যেই ব্রাহ্মণ এবং উচ্চ বর্ণের ভোটারদের টার্গেট করে এগোতে শুরু করে দিয়েছে তারা। তার সঙ্গে যুব সম্প্রদায়কেও টার্গেট করেছে সপা। ভোটের আগে বড় চমক বাজারে নিয়ে এসেছে তারা। নাম দেওয়া হয়েছে সমাজবাদী পারফিউম। দলের পতাকার রঙেই লাল সবুজ করা হয়েছে সুগন্ধীর বোতলের রং। একেবারে দামি পারফিইমের মতই দেখাচ্ছে সমাজবাদী পারফিউমের অবয়ব। ব্র্যান্ডিংয়েই চমক দিয়ে ফেলেছে তারা।

সুগন্ধীর নেপথ্যে বার্তা
সমাজবাদী পারফিউমের নেপথ্যে রয়েছে এক বিশেষ বার্তা। সমাজবাদী পার্টি নেত্রী পদ্মিনী জৈন মঙ্গলবার এই সুগন্ধীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ২২ রকমের সুগন্ধী তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ ২২ রকমের গন্ধ রয়েছে এই সমাজবাদী পারফিউমের। যার যেটা পছন্দ তিনি সেটা ব্যবহার করতে পারেন। দলের বার্তা এই সুগন্ধী ২০২২ সালের সবরকম ঘৃনা ভুলিয়ে দেবে। দামি ব্র্যান্ডের পারফিউমের মতই এর প্যাকেজিং করা হয়েছে। পারফিউম যে বাক্সে রাখা হয়েছে তার মধ্যে অখিলেশ যাদবের ছবি রয়েছে। তার সঙ্গে দলের ছবি সাইকেলও দেওয়া হয়েছে। আর পারফিউমের বোতলের রং করা হয়েছে লাল এবং সবুজ। তাতে সাইকেল ছাপ। দোকানে বাজারে সর্বত্র এই পারফিউম পৌঁছে দিয়ে সমাজবাদী পার্টির প্রতিককে মানুষের মনে গেঁথে ফেলতে চাইছে দল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য উত্তর প্রদেশের কনৌজকে সুগন্ধী নগরী বলা হয়ে। এখানে প্রাচীন আমল থেকেই হরেক রকমের আতর তৈরি হয়। যার কদর বিশ্বজোড়া। কনৌজের এই বিশেষত্বকে কাজে লাগিয়েই ভোটের বাজারে ঝাঁপাচ্ছে সমাজবাদী পার্টি।

প্রচারে জোর
বিজেপি প্রচার শুরু করতেই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টিও প্রচার শুরু করে দিয়েছে। দীপাবলি মিটতেই শুরু হয়ে দিয়েছে তোরজোর। গত ১২ অক্টোবর অবশ্য সমাজবাদী পার্টি বিজয় যাত্রা শুরু করেছিল। সেখানেই অখিলেশ যাদব বার্তা দিয়েছিলেন তাঁর দল কোনও ভাবেই অন্য কোনও বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটে যাবে না। এক্ষেত্রে অখিলেশের ইঙ্গিত ছিল কংগ্রেসের দিকে। গতবারের ভোটে উত্তর প্রদেশের ভোটে ভরাডুবি হয়েছিল কংগ্রেসের। গোটা দেশে কংগ্রেসের হাল দেখে আর জোটের পথে হাঁটতে চাইছে না সমাজবাদী পার্টি। ছোট ছোট দল গুলির সঙ্গে অবশ্য জোটের পথ খোলা রেখেছে তারা। অর্থাৎ এবারের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা ভোটে চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনাই বেশি। কারন বহুজন সমাজ পার্টিও অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে হাত মেলাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। এদিকে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে বৈঠক করেছে বহুজন সমাজপার্টির নেতারা।
তাতে উদ্বেগ বেড়েেছ মায়াবতীর।

অযোধ্যাই মূল অ্যাজেন্ডা
অযোধ্যাই মূল ইস্যু। এবিপি সি ভোটার যদিও দাবি করেছে এবারও বিজেপি জিতবে। অর্থাৎ যোগীই ক্ষমতায় আসবে আবার। কিন্তু টক্কর কড়া হবে বলেই দাবি করেছে। সমাজবাদী পার্টি ব্রাহ্মণ ভোট টানবে বলে দাবি করেছে এবিপি সি ভোটার। কারণ গত ৫ বছরে ব্রাহ্মণরা যোগী সরকারের উপর রুষ্ট হয়ে উঠেছে। তার একমাত্র কারণ একাধিক এনকাউন্টারে ব্রাহ্মণদের মৃত্যু। তারপর থেকে অখিলেশের উপরেই ফের ভরসা করতে শুরু করেছেন তাঁরা। এদিকে বিজেপি পাখির চোখ করেছে অযোধ্যাকে। সেকারণে অযোধ্যাকে সামনে রেখেই তাঁরা এগোচ্ছে। দীপাবলিতেও এলাহি আয়োজনে সাজানো হয়েছে অযোধ্যাকে। অযোধ্যার কাজের গতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে যোগীর কাছে তথ্য নিয়েছেন। কিন্তু এরই মাঝে লখিমপুর খেরির ঘটনা কাঁটা হতে পারে যোগী প্রশাসনের। কারণ উত্তর প্রদেশের ভোটে কৃষকরা একটা বড় ফ্যাক্টর। মোদী সরকারের কৃষি আইন কীভাবে এই ভোটে কাজ করবে সেটাই এখন দেখার।












Click it and Unblock the Notifications