রাম নবমীর সংঘর্ষের পর জেএনইউতে গেরুয়া পতাকা, ব্যানার, অভিযোগ হিন্দু সেনার বিরুদ্ধে
রাম নবমীর দিনের সংঘর্ষের পর শুক্রবার ১৫ এপ্রিল হিন্দু সংগঠনের সেনারা জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গেরুয়া পতাকা লাগিয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। শুধু তাই নয়, অভিযোগে এও বলা হয় যে এই সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বর জুড়ে পোস্টার লাগিয়েছে, যাতে লেখা রয়েছে 'ভাগওয়া জেএনইউ’ (গেরুয়া জেএনইউ)।

প্রসঙ্গত শুক্রবারের এই ঘটনার আগে ১০ এপ্রিল রাম নবমীর দিন জেএনইউ চত্ত্বর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বামপন্থী পড়ুয়া ও অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যদের সংঘর্ষের জেরে। বামপন্থী পড়ুয়াদের অভিযোগ ছিল যে রাম নবমীর দিন তাঁদের হস্টেলে আমিষ খাবার খেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে এবিভিপির সদস্যদের অভিযোগ বাম পড়ু্য়ারা তাঁদের রাম নবমী উৎসব উদযাপনে বাধা দিচ্ছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে অজ্ঞাতপরিচয় এবিভিপি সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। অন্যদিকে এবিভিপি সদস্যরাও পাল্টা অভিযোগ করেছে পুলিশের কাছে। একজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন যে তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ার পরও তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।
এই ঘটনার পরই জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনও রকম হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। হিংসার সঙ্গে যদি কোনও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের শান্তি বজায় রাখার আর্জও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ পশ্চিম দিল্লির ডিসিপি মনোজ সি শুক্রবার জানান যে ওই পতাকাগুলি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, 'শুক্রবার আমাদের নজরে এসেছে যে জেএনইউ এর চারপাশে রাস্তার ধারে কিছু পতাকা এবং ব্যানার লাগানো হয়েছে। এগুলো অবিলম্বে অপসারণ করা হয়েছে এবং উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
রাম নবমীর ঘটনার পর এবিভিপির সভাপতি রোহিত কুমার সোমবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, আমিষ খাবার পরিবেশন নিয়ে তাদের কোনও আপত্তি নেই। যে যার ইচ্ছে মত খাবার খেতেই পারে। তিনি আরও বলেন তাঁরা একই সময় হস্টেলে ইফতার ও পুজো করতেন। কিন্তু রবিবার ইচ্ছেকৃতভাবে রামনবমীর পুজোতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। বামপন্থী ছাত্ররাই এই ঘটনার জন্য দায়ি। ছাত্রদের মধ্যে বিদ্বেষ তৈরি করা বামপন্থী ছাত্রদের নতুন এজেন্ডা বলেও দাবি করেছেন তিনি। রামনবমীর পুজো ভেস্তে দেওয়াই বামপন্থীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অন্যদিকে পুরো দাবি উড়িয়ে দিয়েছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ এবিভিপি ইচ্ছেকৃতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শান্তি ভঙ্গ করেছে।












Click it and Unblock the Notifications