Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

ভারতীয় অর্থনীতির ক্রাইসিস ম্যানেজার থেকে 'অ্যাক্সিডেন্টাল পিএম', যুগের সমাপ্তি ঘটিয়ে প্রয়াত মনমোহন সিং

দুর্নীতি মোকাবেলায় সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এটি এমন একটি বিষয় নয় যা শুধুমাত্র একটি দলই সম্পন্ন করতে পারে। তাঁকে সকলে যতই নীরব প্রধানমন্ত্রী তকমায় ভূষিত করুন না কেন, তাঁর কর্মসূচি উক্তি এবং শান্ত স্বভাবই ছিল তাঁর পরিচয়। তিনি ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। ২০২৪ সালের অন্তিম মুহূর্তে এসে রাজনৈতিক ইন্দ্রপতন ভারতে। প্রয়াত হলেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। বৃহস্পতিবার তাঁকে ভর্তি করানো হয় দিল্লির এইমসে। রাত ৮টা নাগাদ তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালের জরুরি বি‌ভাগে। সবরকম প্রচেষ্টার পরেও শেষ রক্ষা হলো না। চলে গেলেন দেশের 'অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার'। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

চতুর্দশতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০০৪ সালের ২২শে মে শপথ গ্রহণ করেন মনমোহন। কংগ্রেস পরিচালিত ইউপিএ সরকারের পর পর দুবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশকে পরিষেবা দিয়েছেন তিনি। তবে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই নয়, মনমোহন সিংয়ের কর্মজীবনের পরিসর আরও বিস্তৃত। ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর হিসাবে কর্মরত ছিলেন তিনি। এরপর ভারতীয় যোজনা কমিশনের সহ অধ্যক্ষ এবং রাজীব গান্ধীর সময় ১৯৯১ থেকে পরবর্তীতে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ভারতের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব অত্যন্ত সুকৌশলতার সঙ্গে সামলেছেন তিনি। ১৯৯২ সালে ভারতীয় অর্থনীতির কঠিন সময়ে শক্ত হাতে লাগাম ধরেছিলেন মনমোহন। হয় কাজ করো নয় ইস্তফা দাও, সরকারি কর্মচারীদের এই নির্দেশ দিয়ে আপাত শান্ত মনমোহন সিং সেই সময় বুঝিয়েছিলেন তাঁর দৃঢ়তা।

১৯৩২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন অবিভক্ত পাঞ্জাবের গাহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন মনমোহন সিং। পিতা গুরুমুখ সিং ও মাতা অমৃত কৌরের সন্তান ছিলেন তিনি। প্রাথমিক শিক্ষার পর চন্ডিগড়ের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬২ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.ফিল ডিগ্রি অর্জন করেন।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর জীবন ঠিক বর্ণময় বলা চলে না, বরং বেশি করে কর্মময় বলা চলে। চিনের সঙ্গে বাণিজ্য নীতি, একের পর এক বিদেশী নীতি, এবং ভারতীয় অর্থনৈতিক সমাজের পূর্ণ সংস্কারক হিসাবে মনমোহন সিংয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সুদক্ষ বক্তা না হলেও মনমোহন সিং ছিলেন বিচক্ষণ শাসক। ব্যক্তিগত জীবনেও ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। এখান থেকেই অর্থনীতিতে বিশেষ পারদর্শিতা তাঁকে নিয়ে এসেছে দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসকের আসনে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং রাশিয়ার জন্ম লগ্ন থেকে ভারতের সঙ্গে সে দেশের বন্ধুত্বের প্রধান সেতুবন্ধ ছিলেন মনমোহন সিং।

তবে অর্থমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী সব ক্ষেত্রেই একাধিক বিতর্ক এবং সমালোচনা ঘিরে ধরেছিল মনমোহন সিংয়ের নামের সঙ্গে। কমনওয়েলথ গেমস, কয়লা কেলেঙ্কারি এবং টুজি স্পেক্ট্রাম দুর্নীতির মত বিতর্কিত বিষয়ে তাঁর সরকারের নাম জড়িয়েছে। কিন্তু সব কিছুর সঙ্গে সঙ্গেই ছিল প্রশংসা এবং জন সমর্থনও। মনমোহন সিংয়ের দূরদর্শিতার পরিচয় পাওয়া যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে। বামেদের প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও পরমাণু চুক্তি সইয়ের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন মনমোহন। নরম মনের মনমোহন সিংয়ের মধ্যেই ছিল কঠিনতম সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা। আর্থিক সংস্কারের পাশাপাশি গরিব জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত, অসম থেকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে কাজ করে গিয়েছেন মনমোহন সিং। সম্প্রতি সংসদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন তিনি। হুইল চেয়ারে বসেই আসেন ভোট দিতে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সেই কর্তব্য নিষ্ঠার প্রশংসা করতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।

রাজনৈতিক জীবন থেকে ব্যক্তিগত জীবন, সত্যিই একজন সুশিক্ষিত, বিনম্র এবং কর্তব্যপরায়ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন মনমোহন সিং। ৯২ বছর বয়সে এসে নিরব হয়ে গেলেন ভারতের সবথেকে স্বল্পভাষী প্রধানমন্ত্রী। অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার নন, ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারক হিসেবেই ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে মনমোহন সিংয়ের নাম।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+