রাজস্থানে নতুন মন্ত্রিসভায় কার দাপট? কোন বার্তা দিলেন সচিন পাইলট
রাজস্থানে নতুন মন্ত্রিসভায় কার দাপট? কোন বার্তা দিলেন সচিন পাইলট
রাজস্থানে নতুন মন্ত্রিসভার রদবদল করা হচ্ছে। আজই শপথ নেবেন নতুন মন্ত্রীরা। তার আগে অশোক গেহলট বনাম সচিন পাইলটের দলাদলিতেই নাকি এই রদবদলের সিদ্ধান্ত। এই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এদিকে আবার সামনেই পাঁচ রাজ্যের ভোট। প্রতিবেশী রাজ্য পাঞ্জাবের দলাদলি দেখে অনেকেই মনে করছেন রাজস্থানেও হয়তো তাই চলছে। তবে সব জল্পনাতে জল ঢেলে সচিন পাইলট সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার রদবদের মধ্যে কেউ গ্রুপবাজি খুঁজবেন না।

রাজস্থানে মন্ত্রিসভার রদবদল
রাজস্থানে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ আজ। গতকালই একের পর এক মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন রাজস্থানের মন্ত্রিসভা থেকে। নতুন করে একেবারে নতুন মোড়কে সাহানো হচ্ছে মন্ত্রিসভা। পাঞ্জাবের ভোটের আগে প্রতিবেশী রাজ্য রাজস্থানে হঠাৎ করে কংগ্রেস সরকারের মন্ত্রিসভায় রদবদল ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সচিন পাইলটের সঙ্গে অশোক গেহলটের বিরোধ মেটাতেই কি কংগ্রেস হাইকমান্ডের এই সিদ্ধান্ত। এই নিয়ে জল্পনার পারদ চড়ছে। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের সঙ্গে দেখা করেছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিত সিং চান্নি।

সচিন পাইলটের বার্তা
গতবছরই হঠাৎ করে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন রাজস্থানের দাপুটে কংগ্রেস নেতা সচিন পাইটল। যাকে দলের ইয়ং ব্রিডেগ বলা হত। জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার বিজেপিতে যোগদানের পরেই সচিন পাইলটের বিদ্রোহী হয়ে ওঠাকে অনেকেই সহজ ভাবে দেখেননি। মনে করা হচ্ছিল সচিনও বোধ হয় বিজেিপতে যোগ দিতে চলেছেন। কিন্তু সেটা ঘটেনি। অশোক পাইলটের সঙ্গে চরম মতভেদের জেরেই তিনি বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন। সচিনকে ফের মন্ত্রিসভায় আনতে শেষে ময়দানে নামের রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। শেষ পর্যন্ত সচিন পাইলট গেহলটের মন্ত্রিসভায় যোগদিয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু তাঁর বেশ কিছু শর্ত মেনে নিতে হয়েছিল রাহুলদের। হঠাৎ করে রাজস্থানে এই মন্ত্রিসভার রদবদল কি সেই শর্তের মধ্যেই পড়ে এই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। যদিও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহনের আগে সাংবাদিক বৈঠক করে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন। তিনি বলেছেন দলের মধ্যে কোনও গোষ্ঠিদ্বন্দ্ব নেই। বলা ভাল গ্রুপবাজি চলছে না। রাজস্থানের উন্নয়নের স্বার্থেই রদবদল করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। নিজের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখতে সচিন পাইলট বলেছেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে একাগ্রতার সঙ্গে দলের হয়ে রাজস্থানের জন্য কাজ করেছেন তিনি। গত ২০ বছর ধরে তাঁকে যা দায়িত্ব দল দিয়েছে সেটা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন তিনি। পরবর্তীকালে দল যা দায়িত্ব দেবে সেটাও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব বলে জানিয়েছেন তিনি।

হাইকমান্ডই শেষ কথা বার্তা দিচ্ছেন রাহুল
সোনিয়া গান্ধীর কার্যকালের মেয়াদ শেষ হয়ে এসেছে। ফের রাহুল গান্ধীতে সভাপতি পদে বসানোর তোরজোর চলছে। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। রাহুল গান্ধিও গড়রাজি নন বলেই তাঁর বার্তায় বুঝিয়েছেন। সেই পথে এগোনের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। কংগ্রেসে সিধুকে প্রদেশ সভাপতি করার মধ্যে যে রাহুলের হাত রয়েছে সেটা স্পষ্ট। কারণ অমরিন্দরের সঙ্গে সিধুর প্রবল বিরোধ জেনেই ২০২২-র বিধানসভা ভোটের আগে পাঞ্জাব কংগ্রেসের দায়িত্ব সিধুর হাতে দেওয়া হয়েছে। তার নেপথ্যে রয়েছে রাহুল আর প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সিদ্ধান্ত তাতে কোনও সন্দেহ নেই। পাঞ্জাবের পর রাজস্থানেও সেই বার্তা দিতেই এই রদবদল বলে মনে করা হচ্ছে । হাইকমান্ডই যে দলের শেষ কথা সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

টার্গেট ২০২৪
২০২৪-র লোকসভা ভোটকে টার্গেট করে এগোচ্ছে কংগ্রেস। রাজস্থানে মন্ত্রিসভার রদবদনে লোকসভা ভোটকে টার্গেট করেই বলে মনে করা হচ্ছে। সচিন পাইলটও এদিন স্পষ্ট জানিয়েছেন ২০২৪-ল লোকসভা ভোটে রাজস্থানে সবকটি আসন পাবে কংগ্রেস। বিজেপির নাম চিহ্ন থাকবে না রাজ্যে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সম্প্রতি হিমাচল প্রদেশের উপনির্বাচনে বিজেপি কংগ্রেসের কাছে গোহারা হেেরছে। সেখানে সংগঠন নিয়ে চাপে রয়েছে বিজেপি। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে জেপি নাড্ডার নেতৃত্ব নিয়েও। সামনেই আবার ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। কৃষি আইন প্রত্যাহার করে নিয়ে মোদী সরকার চমক দিয়েছে ঠিকই কিন্তু সব জায়গায় এই ম্যাজিক কাজ করবে না বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications