হুঁশিয়ারির পরেও দমে যেতে রাজি নন! এবার গেহলটের সঙ্গে কংগ্রেসকেও নিশানা, দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনশন শুরু করেছিলেন। যা এখনও চলছে। তবে দুর্নীতিরে বিরুদ্ধে পাশে পাননি নিজের দল কংগ্রেসকে। বরং কংগ্রেস তাঁকে দল বিরোধী কাজের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। এবার নিজের দলকেই দুর্নীতি নিয়ে আক্রমণ কতরলেন রাজস্থনের কংগ্রেস নেতা সচিন পাইলট।
সচিন পাইলটের সঙ্গে অশোক গেহলটের বিরোধ পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের সময়কার দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত না করার অভিযোগে। তিনি অনশন শুরু করার পরেও বিষয়টিকে একরকম উপেক্ষাই করছেন রাজস্থান সরকার। আপাতত নীরব অশোক গেহলট এবং কংগ্রেস উভয়েই।

সচিন পাইলট বলেছেন কংগ্রেস যখন রাজস্থানে বিরোধী দল ছিল, সেই সময় তিনি কিংবা অশোক গেহলট সবাই জমি মাফিয়া, বালি মাফিয়া-সহ অনেক বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু পরে কংগ্রেস সরকার আসার পরে এইসব অভিযোগের পর্যাপ্ত তদন্ত হয়নি।
সচিন পাইলট বলেছেন, বিজেপির শাসনের সময়ে যে দুর্নীতি হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু এটা তাদের সহ্য হয়নি। তিনি আরও বলেছেন বসুনব্ধরা রাজের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির মামলাগুলি হয়েছিল, সেগুলি নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তিনি করেছেন।

নিজের শুরু করা অনশনের কথা বলতে গিয়ে প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী সচিন পাইলট সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলেছেন, কংগ্রেস মহাত্মা গান্ধীর গল এবং সত্য অনুসরণ করে চলে। তিনি ১১ এপ্রিল অনশন শুরু করেছিলেন। তারপর দুসপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
সচিন পাইলট বলেছেন, রাজস্থানের নাগরিকদের সামনে তারা বসুন্ধরা রাজে সরকারের দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। যে কারণে সাধারণ মানুষ কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছিলেন। তবে সরকার তা নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
জয়পুরে অনশন সমাপ্ত করার ঘোষণা করে সচিন পাইলট বলেছেন, বিরোধীরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তাঁর এই অনশন দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করবে। তিনি বলেছেন, দুবার দুর্নীতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটকে চিঠি গিয়েছিলেন, কিন্তু কোনও উত্তর পাননি।

২০১৮ সালেক শেষে রাজস্থানে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। সেই সময় অশোক গেহলটের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার ছিলেন সচিন পাইলটও। কিন্তু কংগ্রেস তৃতীয়বারের জন্য গেহলটকে বেছে নেয়। এরপর ২০২০-র জুলাইয়ে পাইলট ও কংগ্রেস বিধায়কদের একটি অংশ রাজ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি করে গেহলটের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
সেই সময় কংগ্রেস সচিন পাইলটকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকেও সরিয়ে দেয়। এবারও সচিন পাইলট অনশনে বসার পরে কংগ্রেস তাঁকে হুঁশিয়ারি দেয়। যদিও তাতে দমে যাননি সচিন পাইলট।












Click it and Unblock the Notifications