লাদাখে ভারতের জমি চিনের হাতে যাওয়া নিয়ে রাহুলকে নিশানা! হিন্দু জাতীয়তাবাদী হিসেবে গর্বিত, বললেন এস জয়শঙ্কর
মোদী জমানায় লাদাখে চিন ভারতের জমি দখল করেছে, এই অভিযোগ কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের। কিন্তু নিজের বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে পুরো বিষয়টি নিয়েই কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের দিকে তির ঘুরিয়ে দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
চিন ভারতের জমি দখল করেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন মোদী জমানায় লাদাখে ভারতের জমি দখল করেছে চিন। পাল্টা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দাবি করলেন যে জমি চিন দখল করেছে, তা ১৯৬২ সালের।

রাহুল-সহ বিরোধীদের নিশানা
সাম্প্রতিক সময়ে ২০২০ থেকে লাদাখ সীমান্ত উত্তপ্ত। দেশের বিরোধীদের অভিযোগ চিন ভারতে জমি দখল করেছে। এব্যাপারে বিদেশমন্ত্রী বলেছেন, মিথ্যা জানার পরেও তারা এখন খবর ছড়িয়ে দেয়। এমনভাবে অভিযোগ করা হয়, যেন এই সময়েই তা ঘটেছে। তবে ১৯৬২ সালের ঘটনা নিয়ে তারা কোনও মন্তব্য করেন না। এখানে তারা বলতে বিদেশমন্ত্রী রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধীদের কথা বলতে চেয়েছেন বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর ১৯৬২ সালের যে সময়ের কথা উল্লেখ করতে চাইছেন বিদেশমন্ত্রী, সেই সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জওগরলাল নেহরু।

যে প্রতিবেদন নিয়ে উদ্বেগ
সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক হয় নয়াদিল্লিতে। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ছাড়াও ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। সেই বৈঠকে নাকি উঠে এসেছিল লাদাখে ৬৫ টি পয়েন্টের মধ্যে ২৬ টি অ্যাক্সেস না থাকার কথা। রাহুল গান্ধী লাদাখের এক পুলিশ আধিকারিকের দেওয়া তথ্য হিসেবে এই বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন।

রাহুলকে কটাক্ষ
পুনেতে নিজের বই 'দ্য ইন্ডিয়া ওয়ে: স্ট্র্যাটেজিস ফর অ্যান আনসার্টেন ওয়ার্ল্ড' প্রকাশের অনুষ্ঠানে সংবাদ মাধ্যমকে জয়শঙ্কর বলেন, চিন সম্পর্কে যদি তাঁর কিছু জানার প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি চিনের রাষ্ট্রদূতের কাছে যাবেন না। তিনি দেশের সামরিক আধিকারিকদের কাছে যাবেন। এব্যাপারে তিনি ২০১৭ সালে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে চিনের রাষ্ট্রদূয়ের বৈঠকের কথা উল্লেখ করেছেন।
প্রসঙ্গত সেই সময় রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, সমালোচনামূলক বিষয় তুলে ধরা তাঁর কাজ। তিনি চিনের রাষ্ট্রদূত, দেশের প্রাক্তন নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং উত্তর-পূর্বের কংগ্রেস নেতা এবং ভূটানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।

হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিশেষণ
দেশে বিজেপি সরকারকে হিন্দু জাতীয়তাবাদী বলা হচ্ছে। তবে আমেরিকা কিংবা ইউরোপে খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদী বলা হয় না। এই বিশেষণগুলি শুধু এখানকার জন্যই, বলেছেন তিনি। তবে এর জন্য তিনি গর্বিত বলে জানিয়েছেন কূটনীতিক থেকে বিদেশমন্ত্রী হওয়া এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, গত নয় বছরের শাসনের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বর্তমান সরকার এবং রাজনীতি আরও জাতীয়তাবাদী হয়েছে। তিনি মনে করেন না এর জন্য ক্ষমা চাওয়ার কিছু রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা
সুষমা স্বরাজ যখন বিদেশমন্ত্রী ছিলেন, সেই সময় বিদেশ সচিব ছিলেন এস জয়শঙ্কর সুষমা স্বরাজের সঙ্গে নিজের ভাল সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেছেন, নরেন্দ্র মোদী ছাড়া অন্য কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকলে তাঁকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করতেন কিনা? তিনি মন্ত্রী হওয়ার কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি বলে জানিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications