জলপথে ভারত ঠিক কতটা শক্তিশালী তা ইউনূসকে সমঝে দিলেন জয়শঙ্কর, বাংলাদেশকে দেখালেন তাঁদের জায়গা!
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে "স্থলবেষ্টিত" বলে উল্লেখ করায় এবং বাংলাদেশকে এই অঞ্চলের "সমুদ্র প্রবেশাধিকারের অভিভাবক" হিসেবে দাবি করায় ভারত এবার তার কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বাংলাদেশের ঠিক কী অবস্থান তা এবার বুঝিয়ে দেওয়া হল ভারতের পক্ষ থেকে।
বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর মহম্মদ ইউনূসের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, "ভারত শুধুমাত্র পাঁচটি বিমসটেক (BIMSTEC) সদস্য দেশের সঙ্গেই সীমান্ত ভাগ করে না, বরং এই অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বঙ্গোপসাগরে ভারতের ৬,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা রয়েছে, যা আমাদের কৌশলগত শক্তি"।

মহম্মদ ইউনূসের মন্তব্য ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এর আগে এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, "এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও আপত্তিকর মন্তব্য, যা ভারতের নিরাপত্তার জন্য একরকমের হুমকি"। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, "এই মন্তব্য 'চিকেনস নেক' করিডোর নিয়ে পুরনো বিতর্ককে উসকে দিয়েছে"।
"চিকেনস নেক" বিতর্কের পুনরুজ্জীবন -
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত রাখা এই "চিকেনস নেক" করিডোরটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছিলেন, "এই অঞ্চলে ভারতকে আরও শক্তিশালী রেলওয়ে ও সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে, যাতে বহিরাগত হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করা যায়"।
বাংলাদেশ-চিনের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উদ্বেগ -
মহম্মদ ইউনূস তার সাম্প্রতিক চার দিনের চিন সফরে বাংলাদেশকে "সমুদ্র প্রবেশাধিকারের একমাত্র অভিভাবক" বলে উল্লেখ করেছিলেন। চিন সফরের সময় তিনি বাংলাদেশের তিস্তা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চিনের সহযোগিতা চেয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেন এবং রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মহম্মদ ইউনূসের এই মন্তব্য ভারতের জন্য একটি কূটনৈতিক সতর্ক সংকেত। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে নয়াদিল্লি কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন পরীক্ষা হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications