তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার সতর্কবাণী, এরই মাঝে ভারত সফরে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী, তুঙ্গে জল্পনা
তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার সতর্কবাণী, এরই মাঝে ভারত সফরে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী, তুঙ্গে জল্পনা
রাশিয়া–ইউক্রেনের যুদ্ধ থামার কোনও ইঙ্গিত নেই। আর এরই মাঝে দু’দিনের সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে ভূ–রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করা হবে। বিদেশমন্ত্রী ল্যাভরভ ১ এপ্রিল অর্থাৎ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা করতে পারেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি এক টুইটে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে টুইটে লিখেছেন, 'রাশিয়ান ফেডারেশনের বিদেশ মন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকে স্বাগত জানানো হয়েছে, তিনি দু’দিনের সফরে ভারতে এসেছেন।’ তবে ল্যাভরভের সফর সম্পর্কে বিদেশ মন্ত্রকের জারি করা একটি মিডিয়া উপদেষ্টা রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে কোনো বৈঠকের কথা উল্লেখ করেনি। অন্যদিকে, রাশিয়ার ভারত সফর নিয়ে আগে থেকে কেন্দ্র সরকারকে সতর্ক করেছে আমেরিকা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে 'সতর্ক বার্তা’ পাঠিয়েছে। আমেরিকার বক্তব্য, ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল আমদানির পরিমাণ বাড়ায় তাহলে ভারত 'বড় ঝুঁকি’র সম্মুখীন হবে। তবে এটা কি ধরনের ঝুঁকি হবে সে নিয়ে আমেরিকার পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।
আলোচনার প্রস্তুতি নিয়ে অবগত এক আধিকারিক জানান, ভারত রাশিয়ার এস–৪০০ মিসাইল পদ্ধতির বিভিন্ন সামরিক হার্ডওয়্যার এবং উপাদানগুলি সময়মত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য চাপ দিতে পারে। তিনি এও জানান যে রাশিয়ার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অভিযান ও যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে শান্তি আলোচনা করা নিয়ে ল্যাভরভ ভারতকে ব্যাখা করতে পারেন বলেও আশা করা হচ্ছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই এই সফর। এই বৈঠকে ভারত নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকবে এবং উভয় পক্ষকে আলাপ–আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানাবে। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২ মার্চ ও ৭ মার্চ রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথোপকথোন সেরেছেন। শুধু তাই মোদী ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও দু’বার ফোনে কথা বলেন।
গত সপ্তাহে, সংসদে জয়শঙ্কর জানিয়েছেন যে ইউক্রেন সংঘাতের বিষয়ে ভারতের অবস্থান 'অটল এবং ধারাবাহিক’ এবং এটি অবিলম্বে হিংসা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। একমাসব্যাপী চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তুরস্কের ইস্তানাবুলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা দেখা করে আলোচনা করেন এবং তাতে কিছুটা আশার আলো দেখা যায়। রাশিয়ার সেনা পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে মৌলিকভাবে তারা তাদের অভিযান ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও উত্তরের শহর চেরহিনিভে অভিযান কমিয়ে দেবে। আশা করা হচ্ছে যে আগামী সপ্তাহে রাশিয়া ও ইউক্রেন মুখোমিখি আলোচনায় বসতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications