Russia-Ukraine Crisis: রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ: নিজের সঙ্গে ঘটা অভিশপ্ত ঘটনার কথা বললেন ভারতীয় পড়ুয়া
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ: নিজের সঙ্গে ঘটা অভিশপ্ত ঘটনার কথা বললেন ভারতীয় পড়ুয়া
রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধ এখনও অব্যাহত। ভারতীয় পড়ুয়া, ছেলে মেয়েদের জন্য অপেক্ষা করছে বাবা মা। টিভিতে তাকিয়ে ছাড়া উপায় নেই। চিন্তা কষ্ট ঘুম উড়েছে শত পরিবারে। যদি ভগবান তাঁদের সাথ দেয়! মানুষের হাহাকারে কেঁপে ওঠা ইউক্রেন থেকে এক ভারতীয় দেশে ফিরে দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁর মাকে জড়িয়ে ধরে গা শিউরে ওঠা ভয়াবহ ঘটনার কথা বললেন। কিশোরের নাম শুভাংশু।

ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার পড়ুয়ার
ছাত্র শুভাংশুকে বলে, যুদ্ধের ঘটনাটি একটি নরকের ঘটনার মতো ছিল। পূর্ব ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে রুশ সেনা একটি সরকারি ভবন উরিয়ে দেয়। এই যুদ্ধে এক ভারতীয় ছাত্র প্রাণ হারাণ। শত শত ভারতীয় পড়ুয়ারা ইউক্রেন থেকে রোমানিয়া যাওয়ার জন্য ব্যস্ত। প্রতিবেশি দেশগুলি কিন্তু তাঁদের সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়েছেন।

যাত্রা শুরু ভিন্নিতসিয়া অঞ্চল থেকে
তিনি আরও বলেন, আমরা ভিন্নিতসিয়া অঞ্চল থেকে যাত্রা শুরু করি। আমরা খুব নিরাপদে গন্তব্য স্থলে পৌঁছেছি। তবে সীমান্তে পৌঁছানোর জন্য কিন্তু আমাদের ১২ কিমি পথ হাঁটতে হয়েছিল। হাঁটতে কিন্তু আমাদের অসুবিধা ছিল না। কিন্তু মনে ছিল ভয়ে পা চলছিল না। রোমানিয়ার সীমান্ত অতিক্রম করা আমাদের কাছে খুব কষ্টের ছিল। ভিন্নিতসিয়া অঞ্চল থেকে রাজধানী কিয়েভের দূরত্ব কিন্তু কম নয়। প্রায় ২৭০ কিমি পথ। আর এই জায়গায় কিন্তু রুশ সেনারা ছিল।

নিদারুন কষ্ট শিক্ষার্থীদের!
কী নিদারুন কষ্ট শিক্ষার্থীদের। তা একমাত্র তাঁদের দেখলেই বোঝা যায়। সীমানা অতিক্রম করার জন্য কান্নাকাটি করছিল। অনেককে কিন্তু ভিক্ষা করতে দেখা যাচ্ছিল। অনেকে অজ্ঞান হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে অনেক পড়ুয়া তাদের পায়ে পর্যন্ত পড়ে যান। ছাত্রদের নিজেদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়ে গিয়েছিল। বলছে আমাকে আগে যেতে দাও, আবার ও বল্লছে আমাকে আগে যেতে দাও। ইউক্রেনীয় সেনারাও কিন্তু পড়ুয়াদের লাথি মারার ঘটনা ঘটেছে।

রোমানিয়া সীমান্তের অবস্থা খারাপ
পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়ানক হয়ে উঠছিল। যখন সীমান্তের গেট খুলে দেয় আমারা যখন বেরিয়ে পড়ি তখন কিন্তু ভারতীয় দূতাবাস কিন্তু আমাদের অনেক হেল্প করেছে। তারপর আমাদের আর কোন অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়নি। আমরা জল ও খাবার পেয়েছি। পাঁচ তারার মতো জায়গায় আমাদের থাকতে দিয়ে ছিল। তবে রোমানিয়া সীমান্তের অবস্থা কিন্তু খারাপ ছিল।

এখন আটকে ১৬ হাজার ভারতীয় পড়ুয়া
এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার ভারতীয় পড়ুয়ারা ইউক্রেনে আটকা পড়েছে। অনেকেই ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার, মেট্রো স্টেশন এবং বোমা শেল্টার থেকে নানান ছবি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। ৯ হাজার ভারতীয় বিভিন্ন বিমানে ভারতে চলে এসেছেন।

জসলিন মালহোত্রা কী বললেন
জসলিন মালহোত্রা নামে অভিভাবক সকাল ৯টার সময় বিমান বন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। তাঁর ২১ বছরের কন্যার জন্য। চোখে মুখে ভয়ে, কষ্টের ছাপ। কখন মেয়েটা তাঁর মায়ের বুকে আসবে, কখন মা বলে জড়িয়ে ধরবেন! মেয়ে সিমরান ৫ ঘণ্টা পর দুপুর ২ টোর সময় বিমান বন্দরে এসে পৌছায়। তাঁকে দেখে তাঁর মা কেঁদে ওঠেন। দুজ'ন দুজনকে জড়িয়ে ধরেন। মালহোত্রা বলেন, মেয়ে আমার কাছে এসছে, এখন আমি নিশ্চিত। গত কয়েকদিন খুব উদ্বেগের মধ্যে দিন কেটছে আমাদের। আমি চাই সকল পড়ুয়া সুস্থ ভাবে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরে আসুক।












Click it and Unblock the Notifications