মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারের সমালোচনায় সরব আরএসএস মতাদর্শী জে নন্দকুমার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারের সমালোচনায় সরব আরএসএস মতাদর্শী জে নন্দকুমার
আরএসএস মতাদর্শে বিশ্বাসী ও প্রজনা প্রভাসের জাতীয় আহ্বায়ক জে নন্দকুমার তাঁর নতুন বইতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায় ও তাঁর সরকারের চরম নিন্দা করেছেন। তিনি তাঁর বইতে পশ্চিমবঙ্গে 'জাতীয়তাবাদী সরকার’ চলে বলে দাবি করেন। এই বইতে পশ্চিমবঙ্গে 'গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক আধিপত্যকে’ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার প্রতি জোর দিয়েছেন নন্দকুমার।

মমতা সরকারের সমালোচনায় আরএসএস
সংঘ অনুমোদিত সংগঠন প্রজনা প্রভাসের আহ্বায়ক অবিযোগ তুলেছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শাসিত সরকার রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় হিন্দু উৎসবের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, কারণ সেই এলাকায় মুসলিমদের বসবাস রয়েছে। এটি মুসলিম উগ্রপন্থীদের শান্ত রাখতেই করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আরএসএসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ গোপালের উপস্থিতিতে দিল্লিতে এই বই প্রকাশিত হবে। সংঘের শীর্ষস্থানীয় এক মতাদর্শ এই বইটি লেখায় তার গুরুত্ব অনেকটাই উল্লেখযোগ্য এবং বইটির লক্ষ্য হল এই অশান্ত সময়ে হিন্দুদের প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখা করা।

মরিচঝাঁপি প্রসঙ্গ
বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি এই বইয়ে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও কটাক্ষ করা হয়েছে। বইতে লেখক পিনারাই বিজয়নের সম্পর্কে জানিয়েছেন, ‘মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বাঙালি পদ্ধতির একজন প্রশংসক যে তিনি কেরলের সিপিআই (এম) ক্যাডারদের তাঁদের বাংলা অংশীদারদের কাছ থেকে শিখতে বলেছেন।' অর্থাৎ লেখক বলতে চেয়েছেন যে পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার মরিচঝাঁপির ‘গণহত্যার' পরিকল্পনা এতটাই নিষ্ঠুরতা ও কৌশলের সঙ্গে করেছিল, যে গণহত্যার কোনও চিহ্নই দোষীদের হাতে ছিল না। লেখক জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে আসা উদ্বাস্তুদের বিরুদ্ধে এই হত্যা ছিল চরম সম্প্রদায়িক হিংসা এবং ঠাণ্ডা মাথায় ৪০ হাজার গণহত্যা করা হয়েছিল। বইয়ের ‘রিক্লেমিং বেঙ্গল' অংশে লেখক ফের মমতা বন্দ্যোপাধায়ের সরকারের ওপর আঙুল তুলেছেন। ভাষার ‘নিরপেক্ষতা'-কে বধ করেছে এই বাংলার সরকার। হিন্দু যোগ রয়েছে এমন সব শব্দকে স্কুলের পাঠ্যবই থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জে নন্দকুমার বলেন, ‘মুসলিমদের তুষ্ট করতে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চশিক্ষা কাউন্সিল রেইনবো-এর বাংলা রামধনুকে সরিয়ে তা রংধনুতে পরিণত করেছে।'

বিজেপি–আরএসএস কর্মী খুন বাংলায়
লেখক আরও বলেন, ‘এ রাজ্যে ৯০ জন আরএসএস-বিজেপি কর্মীদের হত্যা করা হয়েছে এবং জয় শ্রী রাম বলায় চারজনকে মেরে ফেলা হয়েছে।' লেখক বাংলাকে ইসলামীকরণ করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দু্ষেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এ রাজ্যে ৩০ শতাংশ মুসলিম থাকে এবং অনেকে বলেছেন যে এখানে নিখরচায় অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং মুসলমানদের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা অস্তিত্বের কারণে জনসংখ্যা বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে চলেছে।' বাংলায় এনআরসি হওয়া নিয়ে লেখক পরোক্ষভাবে তাঁর বইতে জানিয়েছেন যে পাঁচ কোটিরও বেশি অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ করে ভারতকে তাদের বাড়ি বানিয়ে ফেলেছে। লেখক বলেছেন, ‘বৃহত্তর ইসলামী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আশায়, জিহাদিরা বাংলার নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার (১৭৩৩-১৭৫৭) বিস্তীর্ণ অঞ্চল, বাংলাদেশ, বাংলা, অসম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, এবং বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার কিছুটা অংশ নিয়ে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।'












Click it and Unblock the Notifications