লাদাখের এলজি পদত্যাগ, কবিন্দর গুপ্তকে হিমাচল প্রদেশের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ
লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর কবিন্দর গুপ্ত পদত্যাগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মূর্মু এর অনুমোদনে তাকে হিমাচল প্রদেশের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, যেখানে তিনি শিব প্রতাপ শুক্লা এর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
গুপ্ত লাদাখের ইউনিয়ন টেরিটরির তৃতীয় লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে ১৮ জুলাই, ২০২৫ তারিখে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসও তার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর পদত্যাগ আসলে তার চূড়ান্ত মেয়াদের প্রায় দুই বছর আগেই হয়েছে। বোসের পদত্যাগ পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগে প্রকাশিত হলো।

দিল্লিতে থেকে বোস প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। মূলত তার মেয়াদ নভেম্বরে ২০২৭ পর্যন্ত চলার কথা ছিল, তবে তিনি প্রায় ২০ মাস আগে পদ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বোস জানান, তিনি মনে করেন রাজ্যপালের দায়িত্বে যথেষ্ট সময় প্রদান করেছেন। তবে পদত্যাগের পেছনের বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করেননি।
বোস ২৩ নভেম্বর, ২০২২ থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর পদত্যাগের পর আর এন রবি রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব পেয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগের খবর পেয়ে চমকে উঠেছেন। তিনি বলেন, বোস হয়তো কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রী এর চাপের মুখে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যাণ্ডেলে পোস্টে লিখেছেন "পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস এর হঠাৎ পদত্যাগের খবর আমাকে অবাক ও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। তাঁর পদত্যাগের কারণ এখনো আমার কাছে স্পষ্ট নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে, আমি অবাক হব না যদি বোসকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোনো রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে।"
এছাড়া তিনি আর বলেন, আর এন রবি কে নতুন রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগের সময় তাঁর সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটি স্থাপিত রীতিনীতির উলঙ্গ লঙ্ঘন।
"কেন্দ্রের গৃহমন্ত্রী আমাকে শুধু জানিয়েছেন যে শ্রী আর এন রবি কে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রথাগত পরামর্শ নেওয়া হয়নি। এমন পদক্ষেপ ভারতীয় সংবিধানের চেতনা ও ফেডারেল কাঠামোর ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কেন্দ্রকে সহযোগিতামূলক ফেডারেলিজমের নীতিকে সম্মান করতে হবে ও একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, যা প্রজাতান্ত্রিক রীতি এবং রাজ্যের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে।"
পদত্যাগ ও নতুন নিয়োগের এই একাধিক ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কেন্দ্র রাজ্য সম্পর্ক ও রাজনৈতিক ভারসাম্যকে নজরদারি করতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications