উত্তর–পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যের বাসিন্দাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি
উত্তর–পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যের বাসিন্দাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি
করোনা ভাইরাসকে নিজেদের মুঠোয় পাওয়ার জন্য সরকার সংগ্রাম করে চলেছে নিরন্তর। তবে দেশের একটা ভাগ রয়েছে যা ভারত ও বিদেশের গবেষকদের কাছে লাভজনক হলেও হতে পারে। উত্তর–পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য, যেখানে ভারতের ৮ শতাংশ জমি ও ৩.৬ শতাংশ জনসংখ্যা, এখানে মাত্র ৩৫টি কোভিড–১৯–এর নিশ্চিত কেস পাওয়া গিয়েছে। তবে স্থানীয় সংক্রমণের হার খুবই কম। এই প্রদেশের স্বাস্থ্য অধিকর্তাদের মতে এখানকার মানুষদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা সম্ভবত বেশি।

করোনা সংস্পর্শে আসা মানুষের রিপোর্ট নেগেটিভ
জানা গিয়েছে, ২০০০ মানুষ, যারা ৩১ জন করোনা রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলেন তাঁদের কোভিড-১৯-এর পরীক্ষা করা হয়েছে। দেখা গিয়েছে প্রত্যেকেরই রিপোর্ট নেগেটিভ। শুধুমাত্র দিল্লির তাবলিঘি জামাতের সঙ্গে যোগ থাকার কারণে অসমে ২৮ জনের শরীরে কোভিড-১৯ দেখা দেয়। রাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মিশন ডিরেক্টর লক্ষ্মণম এস জানিয়েছেন যে ১২০০-১৩০০ মানুষ যাঁরা তাবলিঘি জামাতের সঙ্গে যোগ রয়েছে এমন ২৮ জনের সংস্পর্শে এসেছিল তাঁদের রিপোর্ট নেগেটিভ পাওয়া গিয়েছে। একইভাবে, সংক্রমিত এক মার্কিন পর্যটক ব্রহ্মপুত্র নদীতে সাত দিন ক্রুসে কাটিয়েছেন এবং তারপর গুয়াহাটির বিলাসবহুল রিসোর্টে থেকেছেন এবং কাজিরাঙা অভয়ারণ্যে গিয়েছিলেন, তাঁর সংস্পর্শে আসা ৫০০ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে সেখানে সকলেরই রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

বেশিভাগ পাহাড়ি রাজ্যের মানুষ এই সংক্রমণ থেকে দূরে
মণিপুরে ব্রিটেনের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ২৩ বছরের যুবক যিনি করোনা সংক্রমিত ছিলেন, তাঁর সংস্পর্শে আসা ৪৮ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এছাড়াও তাবলিঘি মরকজ থেকে ফিরে আসাগের শরীরে করোনা পজিটিভ পাওয়া গেলেও তাঁদের সংস্পর্শে আসা ২৯ জনই সংক্রমণের বাইরে ছিলেন। মিজোরামে এক ৫০ বছরের ব্যক্তি নেদারল্যান্ডস থেকে ফিরে আসার পর ১৮ জনকে পরীক্ষা করা হয় কিন্তু রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে এক গবেষণার মধ্য দিয়ে দেখা গিয়েছে যে স্থানীয় সংক্রমণের হার অনেক কম, তার কারণ তাঁদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হয়ত অনেকটাই বেশি। লক্ষ্মণম এস বলেন, ‘আমরা বলছি না যে আমাদের (উত্তরপূর্ব রাজ্যের মানুষ) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এই রোগের জন্য (কোভিড-১৯)। কিন্তু যে চিত্রটা উঠে এসেছে সেখানে অন্য রাজ্যের তুলনায় উত্তরপূর্বে অনেকটাই কম সংক্রমণ। এটা কিসের জন্য তার ওপর গবেষণা চলছে। আমাদের আরও তথ্য দরকার রয়েছে।'

হাইড্রোক্সাইক্লোরোকুইন বাড়িয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
কিন্তু লক্ষণম থেকে শুরু করে অন্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে এই রাজ্যগুলিতে ম্যালোরিয়ার প্রকোপ বেশি হওয়ায় সকলেই হাইড্রোক্সাইক্লোরোকুইন খেয়েছেন, হয়ত সেই কারণেই উত্তর-পূর্ব রাজ্যের বাসিন্দাদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। মণিপুরের স্বাস্থ্য পরিষেবার ডিরেক্টর কে রাজো জানিয়েছেন যে জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচিতে অধিকাংশ চিকিৎসকই সামন্য জ্বর হলেও হাইড্রোক্সাইক্লোরোকুইন খাওয়ার পরামর্শ দিতেন। মিজোরামের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের ডিরেক্টর এইচ লালচুঙ্গনুনগা বলেন, ‘আমি ভাবছি হাইড্রোক্সাইক্লোরোকুইন যদি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে। এই ড্রাগটি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ম্যালেরিয়া-প্রবণ এলাকাগুলির চিত্র অন্য রাজ্যের চেয়ে একেবারেই আলাদা।'












Click it and Unblock the Notifications