কর্নাটকে লিঙ্গায়েত ও ভোক্কালিগা সংরক্ষণ! ভোট বাক্সে কতটা প্রভাবিত করতে পারে বিজেপিকে
নির্বাচন ঘোষণার ঠিক আগে কর্নাটকের বিজেপি সরকার সেখানে চাকরি ও শিক্ষায় থাকা পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের জন্য ৪ শতাংশ সংরক্ষণ বাতিল করে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী লিঙ্গায়েত ও ভোক্কালিগাদের জন্য দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। যা এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলতে পারে।
ভোট নিয়ে সমীক্ষার সঙ্গে সংরক্ষণের প্রভাব নিয়ে সমীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে লোকনীতি-সিএসডিএস ও এনডিটিভির করা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে মাত্র ৩৩ শতাংশ মানুষ এই সংরক্ষণ নিয়ে ওয়াকিবহাল। আবার সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থনকারীদের সংখ্যা ৩০ শতাংশের বেশি হয়নি। তবে যাঁরা এই নীতিকে আংশিক সমর্থন করছেন, তাঁদের মত ভোটে রূপান্তরিত হলে বিজেপি সুবিধা পাবে।

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৪৫ শতাংশ মানুষ লিঙ্গায়েতদের জন্য সংরক্ষণকে সমর্থন করছেন। ৩৭ শতাংশ ভোক্কালিগাদের, ৪০ শতাংশ তফশিলি জাতি ও ৪১ শতাংশ তফশিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষণের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে ২৩ শতাংশ মুসলিমদের সংরক্ষণকে বাতিল করাকে পুরোপুরি সমর্থন করেছেন আর ২৫ শতাংশ এব্যাপারে আংশিক সমর্থন করেছেন।
সাধারণভাবে বিজেপির সমর্থক লিঙ্গায়েতদের জন্য আগে ৫ শতাংশ সংরক্ষণ ছিল। আর কংগ্রেস ও কুমারস্বামীর সমর্থক ভোক্কালিগাদের জন্য ৪ শতাংশ সংরক্ষণ ছিল। সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের পরে লিঙ্গায়েত ও ভোক্কালিগাদের জন্য সংরক্ষণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৭ ও ৬ শতাংশ।
কর্নাটকে তফশিলি জাতিভুক্তদের জন্য সংরক্ষণ ১৫ থেকে বাড়িয়ে ১৭ শতাংশ এবং উপজাতিভুক্তদের জন্য ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই সংরক্ষণ সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রকে নবম তফশিলে পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছে কর্নাটক সরকার।

গত মার্চে কর্নাটকের বিজেপি সরকার মুসলিমদের জন্য ৪ শতাংশ ওবিসি সংরক্ষণ বাতিল করে। প্রসঙ্গত মুসলিমরা ওই রাজ্যে বছরের বছর ধরে অনগ্রসর শ্রেণি হিসেবে চিহ্নিত। তবে বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে রাজ্যে তাদের সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টার অংশ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তবে বিজেপি সরকারের সিদ্ধান্ত বানজারা, ভোভি, কোরাচা এবং কোরামা সম্প্রদায়ের মতো প্রান্তিক সম্প্রদায়কে ক্ষুব্ধ করেছে। এইসব সম্প্রদায়গুলি জাতি ভিত্তিক আদমশুমারির দাবি তুলেছে। ওই দাবিকে সমর্থন করেছে রাজ্যের কংগ্রেস-সহ অন্য বিরোধী দলগুলি।
এনডিটিভিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী লোকনীতি-সিএসডিএসএ-এর তরফে বলা হয়েছে এই সমীক্ষা চালাতে ২১ টি বিধানসভা কেন্দ্রে ৮২ টি বুথে ২১৪৩ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। এখন অপেক্ষা ১০ মের ভোটের, তারপর ১৩ মের গণনার দিনের। তারপরেই বোঝা যাবে এই সংরক্ষণ কতটা সাহায্য করল বিজেপিকে।












Click it and Unblock the Notifications