জম্মু ও কাশ্মীরকে স্বমহিমায় ফিরিয়েছে কেন্দ্রের মোদী সরকার, বৈপ্লবিক পদক্ষেপের বিস্তারিত খতিয়ান
জম্মু ও কাশ্মীরকে বলা হয় ভূস্বর্গ। কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেখানকার মানুষ বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সাক্ষী থেকেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে নানা ক্ষেত্রে সংস্কার সাধিত হয়েছে। বেশ কিছু উদ্যোগের ফলে শান্তি ফিরেছে। বিকাশের কাজ হয়েছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অধিকারী হয়েছেন ভূস্বর্গের নাগরিকরা।

ভারতের ভূস্বর্গ
যার ফলে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর বিখ্যাত তার ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য। যদিও নানাবিধ দ্বন্দ্ব, জঙ্গি কার্যকলাপ ও অস্থিরতার জেরে কয়েক দশকে পিছিয়ে পড়েছিল জম্মু ও কাশ্মীর।
মুখ ফেরাচ্ছিলেন পর্যটকরা। তবে ২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই ধাপে ধাপে হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরে। সেটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিশা দেখানোর ফলেই। পরিকাঠামোর উন্নতি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো ও পর্যটনের প্রচার ও প্রসারে আকৃষ্ট হয়েছেন দেশ-বিদেশের পর্যটকরা।
নতুন হাইওয়ে তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা পর্যটকদের সফরকে করে তুলেছে মসৃণ। তাঁরা উপভোগ করতে পারছেন ভূস্বর্গের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। ফলে প্রভূত পরিমাণে জম্মু ও কাশ্মীরে বেড়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। মজবুত হয়েছে স্থানীয় অর্থনীতি। স্থানীয় মানুষের আয়ও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
বিকাশ ও শান্তি ফেরানোয় অগ্রাধিকার মোদীর
নরেন্দ্র মোদী প্রথম থেকেই গুরুত্ব দিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরে বিকাশ সুনিশ্চিত করা ও শান্তি ফেরানোকে। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা রদের মতো বৈপ্লবিক পদক্ষেপ করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। যা জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষেত্রে টার্নিং পয়েন্ট বলেই মনে করা হয়।
এই পদক্ষেপের ফলে জম্মু ও কাশ্মীরে যেমন বিনিয়োগ এসেছে, তেমনই অর্থনৈতিক বিকাশ ঘটেছে। থমকে যাওয়া উন্নয়নকাজ পুনরায় গতি পেয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে এখন দেখা যায় প্রতিটি প্রান্তে জাতীয় পতাকা উড়তে। যা দেশের অখণ্ডতা, সংহতি ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক।
এর মাধ্যমে সকলে গর্ব অনুভব করেন। সেই সঙ্গে বিশ্বকে বার্তা দেওয়া গিয়েছে আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় সংহতি বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেয় ভারত। জম্মু ও কাশ্মীরের নাগরিকদের কথা ভেবে একাধিক প্রকল্প চালু করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। সেখানকার নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নও ঘটেছে।
জম্মু ও কাশ্মীরে গড়ে তোলা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতি ঘটানো হয়েছে। তৈরি হয়েছে শিল্প স্থাপনের লক্ষ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন। যুবদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের বন্দোবস্ত করা হয়েছে তাঁদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের লক্ষ্যে। এর ফলে অপরাধ ও জঙ্গি কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্য কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। যুবরা জঙ্গি সংগঠনের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছেন না।

আইনশৃঙ্খলার উন্নতি পর্যটকদের আনাগোনা
কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি হয়েছে আইনশৃঙ্খলার। একটা সময়ে ভূস্বর্গে দাপট ছিল জঙ্গি সংগঠনের। তবে এখন হিংসার ঘটনা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের কড়া অবস্থান ও সেনাবাহিনীকে সর্বতোভাবে সহযোগিতার ফলেই এটা সম্ভব হয়েছে।
নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রচুর সংখ্যক জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে গোয়েন্দাদের তৎপরতায় জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে পরিবেশ সুরক্ষিত হয়েছে, অস্থিরতার অবসান ঘটেছে। নিরাপত্তা জোরদার হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা শান্তিতে যেমন আছেন, তেমনই পর্যটকরা ভরসা পাচ্ছেন জম্মু ও কাশ্মীরে যাওয়ার জন্য।
জম্মু ও কাশ্মীরের অর্থনীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো পর্যটন। নয়নাভিরাম উপত্যকা, লেক, পর্বত দেখতে প্রচুর মানুষ এখন জম্মু ও কাশ্মীরে যাওয়ায় পর্যটন ও অর্থনীতির প্রভূত বিকাশ ঘটেছে। পর্যটনের বিকাশের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে হসপিটালিটি, ট্রান্সপোর্ট ও হস্তশিল্পের ক্ষেত্রে। ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় অর্থনীতি।

নির্বাচনে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ
জম্মু ও কাশ্মীরে সাম্প্রতিক যে নির্বাচনগুলি হয়েছে তাতে অংশ নিয়েছেন সেখানকার নাগরিকরা। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন বিপুল উৎসাহ নিয়ে। রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটায় প্রচুর ভোটার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। আস্থা রেখেছেন দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায়।
ভোটারদের কণ্ঠস্বর যাতে প্রতিফলিত হয়, তাঁদের প্রতিনিধিত্ব যাতে অনুভূত হয় তা নিশ্চিত করতে নিরলস পরিশ্রম ও পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রের মোদী সরকার। তৃণমূলস্তর থেকে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হওয়ায় তাঁরা স্থানীয় বিষয়গুলিতে গুরুত্ব দিয়ে বিকাশের পথ মসৃণ করছেন। এখানকার স্থিতাবস্থা ও উন্নতির জন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ খুবই জরুরি ছিল।

অভাবনীয় পরিবর্তন ও বিকাশ
ফলে এই পরিবর্তনকে অভাবনীয় বললেও কম বলা হয়। নানাবিধ উন্নয়নমূলক প্রকল্প, উন্নততর নিরাপত্তার বন্দোবস্ত, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে উৎসাহিত করার ফলে ভূস্বর্গের যাবতীয় সম্ভাবনা ফের সুষ্পষ্টভাবে সকলের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে। সবমিলিয়ে ভবিষ্যৎ যথেষ্টই উজ্জ্বল। শান্তি, বিকাশ, অগ্রগতির পথেই থাকতে প্রত্যয়ী ভূস্বর্গের বাসিন্দারা।












Click it and Unblock the Notifications