নোট বাতিল ঘিরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও কেন্দ্রের মধ্যে টানাপোড়েন!
নোট বাতিলেের জেরে কেন্দ্র ও আরবিআই সম্পর্কের টানাপোড়েনআরবিআই মনে করছে বারবার সিদ্ধান্ত বদলে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের। আর কেন্দ্রের মতে,আরবিআই অত্যন্ত ধীর গতিতে কাজ করছে।
নয়াদিল্লি, ২২ ডিসেম্বর : সুসময়েও কেন্দ্রের সঙ্গে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সম্পর্ক যে মধুর তা কোনওভাবেই বলা যায় না। আর কেন্দ্রের নোট বাতিল সিদ্ধান্তের পর সেই সম্পর্কের চিড় যেন আরও কিছুটা গভীর হয়েছে।
নোট বাতিলের গোটা প্রক্রিয়া সামলানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও আরবিআই-এর যোগাযোগ সমন্বয়ে খামতি রয়েই যাচ্ছে। দুই তরফের মধ্যে সামঞ্জস্যের অভাবেই মূলত নোট বাতিলের গোটা প্রক্রিয়া ঠিকমতো বাস্তবায়িত করা যাচ্ছে না বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি ৫০০০ টাকার বেশি ব্যাঙ্কে জমা নিয়ে নির্দেশিকা এবং ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সেই নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ফলে আরবিআই এবং কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্বল বোঝাপড়ার দিকটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়।
সূত্রের খবর, ২০ ডিসেম্বরের পর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাঙ্কে পুরনো নোটে ৫০০০ টাকা জমা দেওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকই নিয়েছিল, যদিও তবে আরবিআই-এর নির্দেশিকায় তা অত্যন্ত ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছি। বিশেষ করে যেখানে বলা হয়েছে পুরনো নোট ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন দেরি করা হল তার ব্যাখ্যা দেওয়া আবশ্যক।
এই গোটা ঘটনার পর আরবিআই কর্তৃপক্ষ মনে করছে ঘন ঘন সিদ্ধান্ত বদলের জেরে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। অথচ অধিকাংশ নির্দেশিকাই সরকারের জারি করা।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারি আমলাদের একাংশ মনে করছে যে কোনও বিষয় আরবিআই অত্যন্ত ধীর গতিতে কাজ করছে। যেমন নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে যে বাড়িতে বিয়ে রয়েছে সেই পরিবার ২.৫ লক্ষ টাকা তুলতে পারবে এই নিয়ম তৈরিতে তিনদিন লাগিয়েছিল আরবিআই। তাও এত কঠোর নীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল যে শেষমেষ কেন্দ্রীয় সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
যদিও আরবিআই আধিকারিকরা মনে করছেন, একদল যারা কেন্দ্রের নির্দেশিকা খুশি মনে মেনে নিচ্ছেন এবং অন্যদল ভোগান্তির জেরে যারা প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, এই দুই দলের মধ্যে পিষতে হচ্ছে আরবিআইকে।












Click it and Unblock the Notifications