অগাস্টে ভারতে কম বৃষ্টিপাতের রেকর্ড! বড় সমস্যার মুখে গ্রীষ্মকালীন ফসল
গত একশো বছর সময়ের মধ্যে শুষ্কতম আগস্ট? ২০২৩-এর অগাস্টের প্রথম ১৫ দিনের বৃষ্টির নিরিখে এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্বাভাবিকের থেকে এতটাই কম বৃষ্টিপাত হয়েছে যে যে কদিন বাকি রয়েছে, সেই কদিনে বৃষ্টিপাত অভাব পূরণ করতে পারবে না।
অগাস্টের শুরু পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর দীর্ঘ সময়ের গড় (এলপিএ) থেকে ৫ শতাংশ বেশি ছিল। কিন্তু প্রথম ১৫ দিনে বৃষ্টি কম হওয়ায় এই গড় অনেকটাই নেমে আসে। পরবর্তী সময়ে তা ৪ শতাংশের স্বাভাবিক সীমার নিচে চলে যায়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অগাস্টের শুরুতে বৃষ্টিপাত এলপিএ থেকে ৩৫ শতাংশ কম। উল্লেখ করা প্রয়োজন জুলাইয়ে বর্ষা একটি দীর্ঘ স্পেল দেখেছিল, যা স্বাভাবিক বৃষ্টির চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি ছিল। প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯০১ সালে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে অগাস্টে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি সর্বোচ্চ হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় ধান সয়াবিনের মতো গ্রীষ্মকালীন ফলন কমে যেতে পারে। যা দাম ও সামগ্রিক খাদ্যের মুদ্রাফীতিতে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। খুচরো মুদ্রাস্ফীতি এই বছরের জুলাইয়ে ৭.৪৪ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে। যা ১৫ মাসের সর্বোচ্চ। এর আগে এই খুচরো মুদ্রাস্ফীতি ৪.৪৭ শতাংশ ছিল।
বর্তমানে পূর্ব ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে বৃষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ ভারতেও ক্রমবর্ধমান ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এক আবহাওয়াবিদ জানিয়েছেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী, বর্ষার পুনরুজ্জীবন হচ্ছে না।

সারা দেশে অগাস্টে প্রথম ১৭ দিনে ৯০.৭ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ কম। সাধারণ ভাবে অগাস্টের স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাত ২৫৪.৯ মিমি বলেও জানিয়েছেন ওই আবহাওয়াবিদ। আবহাওয়া দফতরের তরফে অগাস্টে ৮ শতাংশ বৃষ্টিপাতে ঘাটতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে অগাস্টে সব থেকে কম বৃষ্টিপাত হয়েছিল ২০০৫ সালে, ১৯১.২ মিমি।
কৃষকরা সাধারণভাবে ধান, ভুট্টা, তুলা, সয়াবিন, আখ ও চিনাবাদাম রোপন শুরু করেন কেরলে বর্ষার শুরুর সময় থেকে। এবার কম বৃষ্টির কারণে তা অনেকটাই বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। তবে আবহাওয়াবিদরা এখনও বলছেন, মৌসুমী বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাভাবিক অর্থে গড় বৃষ্টিপাতের ৯৬ শতাংশ হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications