উত্তর প্রদেশে বিজেপির জয়ে কি মোদী জাদু, না হিন্দু-মুসলিম বিভাজন? সমীক্ষায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
উত্তর প্রদেশে বিজেপির জয়ে কি মোদী জাদু, না হিন্দু-মুসলিম বিভাজন? সমীক্ষায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
পরপর দুবার বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election) উত্তর প্রদেশে (Uttar Pradesh) বিজেপির জয়। ১৯৯১-এর অযোধ্যায় বাবরি ধ্বংসের পরবর্তী সময়ে বিজেপি (BJP) এই সাফল্য পায়নি। অন্যদিকে ৫ বছর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলে ফের একবার যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) ফেরাও সেখানে রেকর্ড তৈরি করেছে। উত্তর প্রদেশের এই পরিস্থিতির পিছনে বেশ কিছু কারণ উঠে আসছে।

উত্তর প্রদেশে ভোট পরবর্তী সমীক্ষা
উত্তর প্রদেশে বিজেপি জয় নিয়ে ভোট পরবর্তী এখ সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সাধারণ মানুষ ভোট দেওয়ার সময় উন্নয়ন এবং সরকারের কাজের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন সব থেকে বেশি। সেখানে বিজেপির পুরনো অস্ত্র রামমন্দির কিংবা হিন্দুত্ব বিশেষ গুরুত্ব পায়নি।
উত্তরদাতাদের ৩৮ শতাংশ বলেছেন, ভোট দেওয়ার সময় উন্নয়নকে তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন সব থেকে বেশি। অন্যদিকে প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তারা সরকার পরিবর্তনের জন্য ভোট দিয়েছিলেন। ১০ শতাংশ মানুষ বলেছেন, সরকারের কাজে খুশি হয়ে তাঁরা ভোট দিয়েছেন। মাত্র ২ শতাংশ মানুষ বলেছেন তারা রামমন্দির এবং হিন্দুত্বের ইস্যুতে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন।

যোগীর থেকে এগিয়ে মোদী
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে উত্তর প্রদেশের মানুষ যতটা না খুশি যোগী আদিত্যনাথ সরকারের প্রতি, তার থেকে বেশি খুশি কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের কাজে। এর থেকেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে বিজেপির এবারের ক্ষমতায় ফেরার পিছনে ছিল মোদী জাদু। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ২০১৭-র ভোটে উত্তর প্রদেশে প্রথমবার বিজেপির নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতার পিছনেও ছিল মোদী জাদু।

সুবিধাভোগীদের নতুন গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে
ভোট পরবর্তী সমীক্ষাটি করেছে লোরনীতি -সিএসডিএস। সেখানে বলা হয়েছে, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে কিষাণ সম্মান নিধি, উজ্জ্বলা প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, বিনামূল্যে রেশনের মতো সুবিধা যাঁরা পেয়েছেন, তাঁদের নিয়েই সুবিধাভোগীদের একটি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। এঁরাই এবার বিজেপিকে ভোটদানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছেন। দেখা গিয়েছে উত্তর প্রদেশের পাঁচটি পরিবারের মধ্যে চারটি পরিবার বিনামূল্যে রেশন পরিষেবার মাধ্যমে সুবিধা পেয়েছে। বিরোধী দলগুলির প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনকারী মহিলারাও কল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য বিজেপিকে সমর্থন করার বিষয়টি সামনে এসেছে।

ভোটব্যাঙ্কে ভাঙা-গড়া
সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ভোটে আগে বিজেপির তরফে আশঙ্কা থাকলেও এবার কৃষক এবং ব্রাহ্মণরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন, দুহাত ভরে। এছাড়াও তফশিলি জাতি এবং মায়াবতীর ভোট ব্যাঙ্কের বড় অংশ এবং জাতভরাও বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। যার জেরেই পরপর দুবারের জন্য বিজেপি উত্তর প্রদেশের ক্ষমতায় এসেছে।
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে উত্তর প্রদেশে ব্রাহ্মণদের ৮৯ শতাংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। যা ২০১৭-র তুলনায় ৬ শতাংশের মতো বেশি। তুলনায় এসপির প্রতি সমর্থন কমেছে ব্রাহ্মণদের। যেখানে ২০১৭ সালে জাতভদের ৮ শতাংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন, ২০২২-এ তা বেড়ে ২১ শতাংশের মতো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অযোধ্যার বিকাপুর বিধানসভার ধন্নিপুর, যেখানে নতুন মসজিদ তৈরির জন্য পাঁচ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছিল, সেখানেও ফল বিজেপির অনুকূলে গিয়েছে। তবে ভোট প্রচারে মোদী সরকার যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে আটকে পড়া ছাত্রদের সরিয়ে আনতে বড় ভূমিকার যে কথা প্রচার করা হয়েছিল, তা কতটা কাজে এসেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।












Click it and Unblock the Notifications