‘জেডিইউ একটা ডুবন্ত জাহাজ’, নীতীশ কুমারের সঙ্গে দ্বন্দ্বের মধ্যেই দল ছাড়লেন আরসিপি সিং

‘জেডিইউ একটা ডুবন্ত জাহাজ’, নীতীশ কুমারের সঙ্গে দ্বন্দ্বের মধ্যেই দল ছাড়লেন আরসিপি পিং

জনতা দল ইউনাইটেড বা জেডিইউ ছাড়লেন রাজ্যসভার দুইবারের সাংসদ তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী রামচন্দ্র প্রসাদ সিং। বেশ কিছুদিন ধরেই জেডিইউ প্রধান তথা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসছিল। রামচন্দ্র প্রসাদ সিং সরাসরি বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে শুরু করেছেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই তাঁর সঙ্গে দলের দুরত্ব বাড়তে থাকে। বিহারের রাজনৈতিক মহলের তরফে মনে করা হচ্ছে, খুব শীঘ্রই রামচন্দ্র প্রসাদ সিং বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন।

জেডিইউ একটা ডুবন্ত জাহাজ

জেডিইউ একটা ডুবন্ত জাহাজ

শনিবার নিজের জন্মভূমি নালন্দা গ্রাম থেকে জেডিইউ ছাড়ার ঘোষণা করেন আরপি সিং। একসময় তিনি নীতীশ কুমারের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে দুই নেতার মধ্যে দুরত্ব তৈরি হয়। দল ছাড়ার ঘোষণার সময় তিনি বলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন। তিনি মনে করেন, দুইবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। সেই কারণেই তাঁকে অনেকে ঈর্ষা করতে শুরু করেন। এর কোনও প্রতিকার হয় না। তিনি জেডিইউকে একটি ডুবন্ত জাহাজ বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি বিহারের মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, 'নীতীশ কুমার সাত জন্মেও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।'

দলের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি

দলের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি

জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন রামচন্দ্র প্রসাদ সিং। কিন্তু ধীরে ধীরে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ভালো ফল করে। জেডিইউয়ের সঙ্গে বিজেপি জোট বাঁধে। বিজেপি জেডিইউ ও মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা শুরু করলে দুই দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয় বলে অভিযোগ। যদিও বিহারে জোট সরকার চলছে। কিন্তু ক্রমেই জেডিইউয়ের সঙ্গে বিজেপির দুরত্ব বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকক্ষেত্রেই রামচন্দ্র প্রসাদ সিং নীতীশ কুমারের পরামর্শ ছাড়াই বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। যা নীতীশ কুমারের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, জানা গিয়েছে, নীতীশ কুমার অনেক ক্ষেত্রে বিজেপি সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি আরপি সাংয়ের মতামতকে অস্বীকার করেন। এরজেরে নীতীশ কুমারের সঙ্গে আরপি সিংয়ের দ্বন্দ্ব ক্রমেই প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। জে়ডিইউ আরপি সিং ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে গত নয় বছরে বিপুল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ করে। এই বিষয়ে শনিবার জেডিইউয়ের তরফে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। সেইদিনই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

দলত্যাগে নির্বাচনী প্রভাব

দলত্যাগে নির্বাচনী প্রভাব

আরপি সিং ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা থেকে চাকরি ছাড়ার পর রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ২০১০ ও ২০১৬ সালে রাজ্যসভার সাংসদ হন। তিনি চাকরি জীবনের সময় থেকেই নীতীশ কুমারের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। ১২ বছর তিনি জেডিইউয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি জেডিইউয়ের সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব সামলেছিলেন। পরে তিনি জেডিইয়ের জাতীয় সভাপতি হন। নির্বাচনে আরপি সিংয়ের দল ছাড়ার প্রভাব ফেলবে কি না, তা সময় বলবে। তিনি প্রথমে নীতীশ কুমারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।ধীরে ধীরে নিজের যোগ্যতায় জে়ডিইউতে প্রভাব বিস্তার করেন। তিনি জেডিইউয়ের সেকেন্ড ইন কমান্ডে পরিণত হয়েছিলেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+