করোনা কালে এই প্রথম ভক্ত সমাগমে রথযাত্রা পুরীতে, উৎসবের মেজাজ জগন্নাথ ধামে
করোনা কালে এই প্রথম ভক্ত সমাগমে রথযাত্রা পুরীতে, উৎসবের মেজাজ জগন্নাথ ধামে
আজ রথযাত্রা। সেজে উঠেছে পুরী। জগন্নাথ ধামে গত কয়েকদিন ধরেই ভক্তরা ভিড় করতে শুরু করেছেন। করোনা কালে এই প্রথম ভক্তসমাগমে রথ যাত্রা হচ্ছে পুরীতে। গত ২ বছর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ভক্তরা ছাড়াই রথযাত্রা উৎসব উদযাপিত হয়েছিল পুরীতে। এবার তাই ভক্ত সমাগম বেশি। জগন্নাথ দেবের দর্শনে ভিড় করতে শুরু করেছেন পুন্যার্থীরা।

পুরীতে ভক্ত সমাগম
সেজে উঠেছে পুরী। স্নান যাত্রার দিন থেকেই পুরীর রথে অবস্থান করছেন জগন্নাথ দেব। আজ বলরাম, সুভদ্রাকে নিয়ে তিনি মাসির বাড়ি যাবেন। সেজে উঠেছে তাঁর রথ। ২ বছর পর আবার রথ যাত্রা উপলক্ষ্যে আগের মেজাজে ফিরেছে পুরীতে। স্নান যাত্রার পর থেকেই সাজ সাজ রব পুরীতে। ভক্তরা ভিড় করতে শুরু করেছেন। ২ বছর পর ফের রথযাত্রার আনন্দ নিতে ভক্তরা হাজির।

সেজে উঠছে রথ
সকাল থেকেই রথে বিভিন্ন পুজো অর্চনা শুরু হয়ে গিয়েছে। সাজিয়ে তোলা হচ্ছে জগন্নাথ দেবকে। আজ তিনি মাসির বাড়ি গুণ্ডিচা মন্দিরে যাবেন। বৃহস্পতিবারই শ্রীমন্দিরের সিংহ দরজার সামনে রাখা হয়েছে তাঁদের রথ। গতকাল রাত থেকেই যেন জেগে রয়েছে পুরী। ভিড় সামাল দিতে প্রস্তুত প্রশাসন। কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে ওড়িশা পুলিশ। করোনা সংক্রমণের কারনে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গত ২ বছর বন্ধ ছিল ভক্তসমাগম। দেশের প্রায় সব জায়গাতেই বন্ধ রাখা হয়েছিল রথযাত্রা। এবার আবার উৎসবের মেজাজ ফিরে এসেছে।

শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতির
রথ যাত্রা উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্ড। উপরাষ্ট্রপতি ভেঙ্কইয় নাইডু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পুরীতে এবার বিশেষ উৎসাহ পুন্যার্থীদের মধ্যে। হোটেল, রিসর্ট সব ভর্তি। এদিকে পশ্চিমবঙ্গেও একধিক জায়গায় রথ যাত্রার বিশেষ প্রস্তুতি চলছে। করোনা কালে ২ বছর বন্ধ ছিল মাহেশের রথ। এবার আবার আগের মেজজে ফিরেছে মাহেশ। কলকাতে এবার বের হবে ইস্কনের রথ। তার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।

প্রচলিত রীতি
প্রতিবছর আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে হয় রথ যাত্রা। এবার সকাল ১০টা ৪৯ মিনিটে শুরু হয়ে ১ জুলাই দুপুর ১টা ৯মিনিটে শেষ হবে। বলা হয়ে থাকে ভগবান জগন্নাথ শ্রীহরি হলেন ভগবান বিষ্ণুর অন্যতম প্রধান অবতার। জগন্নাথের রথের নির্মাণ ও নকশা অক্ষয় তৃতীয়া থেকে শুরু হয়। বসন্ত পঞ্চমী থেকে শুরু হয় কাঠ সংগ্রহের কাজ। রথের জন্য কাঠ বিশেষ বন দশপল্লা থেকে সংগ্রহ করা হয়।

রথ যাত্রার একাধিক বিধি
রথ যাত্রার আগে একাধিক বিধি থাকে। আগে ১৪ দিন নির্জনে থাকেন জগন্নাথ দেব। এই সময় সব মন্দির বন্ধ থাকে। কথিত আছে, জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা উপলক্ষে জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রাকে ১০৮ পাত্র জল দিয়ে স্নান করানো হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানকে বলা হয় সহস্ত্রধারা স্নান। তার পরেই তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ভেষজ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। তাই এই নির্জনতার আচার। ১৫ তম দিনে জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রা দর্শন দেন।












Click it and Unblock the Notifications