নাবালিকা মেয়ের ধর্ষণের মূল্য ২০ লক্ষ টাকা! হাত পেতে সে টাকাও নিল বাবা-মা
দিল্লি পুলিশ (আউটার)-এর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এম এন তিওয়ারি জানিয়েছেন, অভিযোগকারী নাবালিকার ধর্ষকদের কাছ থেকে এই অর্থ নেওয়া হয়েছিল। মেয়েটির বাবা-মা এই অর্থ নেন।
পুলিশ প্রথমে অবাকই হয়েছিল। বুঝতে পারছিল না এটা কী হচ্ছে। ঘটনাটা সত্যি না অন্য কিছু। খানিকক্ষণের মধ্যে ঘোর কাটিয়ে মেয়েটির হাত থেকে নোটের তাড়াটা নিয়ে গুণতে শুরু করেন দিল্লির প্রেম বিহার পুলিশ চৌকির কর্মীরা। মেয়েটি বলেছিল ৩ লাখ টাকা আছে। কিন্তু, টাকা গুণে পুলিশ কর্মীরা দেখতে পান ৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা রয়েছে।

এরপরই দিল্লি পুলিশ মেয়েটির মা ও বাবার নামে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে। জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট থেকে শুরু করে অপরাধমূলক হস্তক্ষেপ, মিথ্যা বয়ান দেওয়ার জন্য হুমকি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ (আউটার)-এর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এম এন তিওয়ারি জানিয়েছেন, অভিযোগকারী নাবালিকার ধর্ষকদের কাছ থেকে এই অর্থ নেওয়া হয়েছিল। মেয়েটির বাবা-মা এই অর্থ নেন। বাবা-মা ওই ধর্ষকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে থানায় দায়ের করা মেয়ের বয়ান বদলে দেবে।
জানা গিয়েছে, বছর ১৫-র ওই নাবালিকা আমন বিহারের প্রেম নগরে বাবা-মা-এর সঙ্গে বাস করে। বাবা-র একটি ছোট ব্যবসা আছে। গত বছরের ৩০ অগাস্ট ওই নাবালিকাকে অপহরণ করে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয় এবং সেই সঙ্গে লাগাতার ধর্ষণ করা হয়। নাবালিকার অপহরণ নিয়ে আমন বিহার পুলিশ স্টেশনে অপহরণের অভিযোগও দায়ের হয়।
অপহরণের ৭ দিন পরে মেয়েটি বাড়ি ফিরে আসে। পরিবারের লোককে সে জানায়, স্থানীয় এক প্রর্পাটি ডিলার ও তার বন্ধু এই অপহরণ করে ধর্ষণের ঘটনার পিছনে আছে। নাবালিকা আরও জানায়, নয়ডা, গাজিয়াবাদ-সহ একাধিক স্থানে তাকে ঘোরানো হয়। এই সফরের মধ্যেই দিন-রাত তাকে ধর্ষণ করা হত।
নাবালিকার বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশ ওই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে দুই অভিযুক্তই জামিনে ছাড়া পেয়ে আছে। জানা গিয়েছে, স্থানীয় সেই প্রপার্টি ডিলার ধর্ষিতা নাবালিকার বয়ান বদল করাতে প্রতিবেশীর সাহায্যে ২০ লক্ষ টাকার ঘুষের টোপ দেয়। ধর্ষিতার বাবা-মার সঙ্গে কথা বলে প্রপার্টি ডিলার অগ্রিম বাবদ ৫ লক্ষ টাকাও দিয়ে দেয়। ধর্ষিতা মেয়েটি এই ব্যাপারে কিছুই জানত না। বাবা-মা বয়ান বদলের জন্য সবসময় তাকে চাপ দিচ্ছে দেখে সন্দেহ হয়। এরপর একদিন সে জানতে পারে বয়ান বদলের জন্য বাবা-মা এই টাকা নিয়েছে।
বিছানার তোষকের তলা সেই টাকার নোটগুলিও পেয়ে যায় নাবালিকা। এরপরই সে নোটগুলি নিয়ে পুলিশের কাছে হাজির হয়ে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। আদালতে দাঁড়িয়ে পুলিশও জানিয়েছে মেয়েটির মানসিক শক্তি দেখে তাঁরা সত্যি অবাক। অন্য়ায় করা বাবা-মা-র থেকে নাবালিকা যেভাবে পুলিশের উপর আস্থা রেখেছে তাতে অভিভূত পুলিশ অফিসাররা।
নাবালিকার অভিযোগে মা-কে গ্রেফতার করা গেলেও, পলাতক বাবা। তার খোঁজে তল্লাশি চলছে। নাবালিকার ধর্ষণে অভিযুক্তদের ফের গ্রেফতার করতে পারে পুলিশ। ঘুষ দিতে যারা সাহায্য করেছিলেন তাদেরও গ্রেফতার করতে পারে পুলিশ। চাইল্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটির হস্তক্ষেপে নাবালিকাকে আপাতত সরকারি হোমে রাখা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications