ভারত-পাক যুদ্ধে কচ্ছের রণের এই পশুপালকের অবিশ্বাস্য কীর্তি দেশকে রক্ষা করেছে বহুবার
যুদ্ধ আসে যুদ্ধ যায়। কেটে যায় এক একটা রক্তাক্ত অধ্যায়। প্রকাশ্যে আসে বীর শহিদদের নাম, প্রকাশিত হয় তাঁদের শৌর্যের কাহিনি।
যুদ্ধ আসে যুদ্ধ যায়। কেটে যায় এক একটা রক্তাক্ত অধ্যায়। প্রকাশ্যে আসে বীর শহিদদের নাম, প্রকাশিত হয় তাঁদের শৌর্যের কাহিনি। তবে , এই বীরত্ব আর শৌর্যের কাহিনির মধ্যে অনেক সময়ই ঢাকা পড়ে যায় আরও কয়েকজন মানুষের বীরত্ব। যাঁরা যুদ্ধ শেষের নায়ক হয়ত হয়ে উঠতে পারেন না, তবে তাঁদের দক্ষতা যুদ্ধ-নায়কের থেকে কিছু কম নয়। এমনই একজন গুজরাতের কচ্ছের রাঁচোড় পাগী। ভারত পাক যুদ্ধে যাঁর গুরুত্ব অরপরিসীম।

শুরুর কথা
১৯৬৫ সাল । লবণকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে গুরুত্ব বাড়ছে গুজরাতের প্রত্যন্ত কচ্ছের রণ এলাকা।সেই সময়ে এপ্রিল মাসের গরমের মধ্যেই এই রাস্তা ধরে ভারতে অনুপ্রবেশ করতে থাকে পাকি মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। এলাকায় তখন গাইডের কাজ করতেন রাচোঁড় পাগী। পাশাপাশি ততদিনে তিনি ভারতীয় সেনার জন্য গুপ্তচরের কাজেও নিযুক্ত হন।

বিএসএফ তাঁকে যে নামে চিনত
বিএসএফ রাচোঁড়কে চিনত 'মরুভূমির পুরনো উট' নামে। পশুপালনের পেশার সঙ্গে যুক্ত রাচোঁড়ের এক অভূতপূর্ব ক্ষমতা ছিল। দূর থেকে দেখেই সে চিনে নিতে পারত শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বুঝে যেতে পারত কোন দিক থেকে ঢুকতে পারে অনুপ্রবেশকারীরা।

অস্বাভাবিক গুণ!
কোনদিক থেতে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকছএ যেমন বলতে পারত পাগী , তেমনই বলে দিতে পারত কখন বা কতজন মিলে ঢুকেছে এদেশে। কচ্ছের রণের সাদা মরুপ্রান্তরে পায়ের ছাপ থেকে শুরু করে একাধিক বিষয়ে অস্বাভাবিক নজর ছিল রাচোঁড়ের। শুধউ তাই নয়। এদেশে প্রবেশর পর তাঁরা কতদূর চলেছে, মাঝ রাস্তায় বসে বিশ্রাম নিয়েছে কী না, তাও বলতে পারত রাচোঁড়। ভারতীয় সেনা রাচোঁড়ের এই অস্বাভাবিক ক্ষমতাকে দেখে অবাক হয়েছে।

সাফল্য
রাচোঁড়ের সাহায্যে ১৯৬৫ সালের ভারত পাক যুদ্ধে বিদ্যাকোট ও ছরককোট সেক্টরে কবাজ জমাতে পারে ভারতীয় সেনা। যেএলাকাগুলি পাকিস্তানী সেনা বহুদিন ধরে আয়ত্ত করে রেখেছিল। সে জায়গায় ১০ হাজার সেনা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ভারত। পরবর্তীকালে একই ভাবে ১৯৭১ এর যুদ্ধে ও ১৯৯৮ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময়ও রাচোঁড় পাগীর খবরের জেরে একাধিক সাফল্য পেয়েছে ভারতীয় সেনা।

সম্মান
কচ্ছের রণের মাটি , বাতাস যেন ছিল রাচোঁড় পাগীর হাতের মুঠোয়। এই ধুধু প্রান্তর এলাকার হাওয়ার গতিও যেন সমস্ত কিছু জানান দিয়ে যায় রাচোঁড় পাগীকে। এমন প্রতিভা বার বার সম্মান পেয়ছে দেশের বিভিন্ন মহল থেকে। তাঁর দৌলতে গোটা পাগী সম্প্রদায় পেয়েছে 'পুলিশ পাগী'-র সম্মাননা। গুজরাতের বনশকণ্ঠার এই নায়ক পেয়েছেন সংগ্রাম মেডেল, সমর সেবা স্টার, পুলিশ মেডেল।












Click it and Unblock the Notifications