Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

চিকিৎসক সেজে ১৮ নারীকে বিয়ে! তবুও রেহাই মিলল না পুলিশের হাত থেকে, রমেশ চন্দ্র সোয়েইনের

চিকিৎসক সেজে ১৮ নারীকে বিয়ে! তবুও রেহাই মিলল না পুলিশের হাত থেকে, রমেশ চন্দ্র সোয়েইনের

মানুষ একটা জীবন সঙ্গীকে নিয়ে সারা জীবন কাটিয়ে দেন। তবে, অনেক সময় কিন্তু অনেকের ২ টে ৪ টে বউ দেখা যায়। তবে ১৮টা! হ্যাঁ ঠিকই পড়ছেন এবার ১৮ টা বিয়ে করে নজির গড়লেন রমেশ চন্দ্র সোয়েইন। তবে সোয়েইন বাবাজি কিন্তু পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পেলেন না। ওড়িশা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছেন।

চিকিৎসক সেজে ১৮ নারীকে বিয়ে! তবুও রেহাই মিলল না পুলিশের হাত থেকে, রমেশ চন্দ্র সোয়েইনের

১৮ টা বিয়ে করে শান্ত হননি অভিযুক্ত। পয়লা মার্চ আবারও গাঁটছড়া বাঁধতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে সেই চেস্টায় কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন। বারবার ছদ্মবেশ ধারণ করে নানান মহিলাকে প্রতারণা করেছেন। কখন ডাক্তার তো, কখনও উপ -পরিচালক, কখনও বা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের ডেপুটি ডিরেক্টরেরও পরিচয় দেন। প্রায় কয়েক বছর ধরে মহিলাদের নানা ভাবে ফাঁদে ফেলে তাঁদের স্ত্রীদের কোটি কোটি টাকার সম্পদের প্রতারণা করেছেন। অভিযুক্ত কিন্তু মাত্র দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন। তবে তিনি যাদের বিয়ে করেছনে তাঁরা সকলেই শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত।

বিবাহিত মহিলাদের মধ্যে দিল্লিতে দু’জন আইনজীবী, কেউ বা আবার চিকিৎসক,কেউ বা আবার স্কুলের শিক্ষিকা, আবার কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তবে এখানেই কিন্তু শেষ নয় এক মহিলা কেরালায় প্রশাসনিক পরিষেবাতেও যুক্ত। আবার একজন ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত বাহিনীতে সহকারী কমান্ডের পদে রয়েছেন। এমনই তথ্য উঠে এসেছে তদন্তকারীদের মতে।

অভিযুক্তের হাইট ৫ ফুট ২ ইঞ্চি। তবে তিনি কিন্তু খুব সুবক্তা। পুলিশের অনুমান তার বয়স ৬৬ বছর। তদন্তকারী জানিয়েছেন, তিনি কিন্তু মিথ্যাবাদী। বারবার মিথ্যে কথা বলে নানান মহিলাকে প্রতারিত করেছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভুবনেশ্বরের একটি মন্দির থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। তিনি জানান, নারীদের তিনি বিয়ে করেছনে ঠিকই। কিন্তু তাঁরাই কিন্তু তার জীবনে এসেছে।

পুলিশের কাছে অভিযুক্ত রমেশের নামে বিয়ে ছাড়াও নানা অভিযোগ এসেছে। সেখানে দেখা গিয়েছে এমবিবিএসের সিট দেওয়ার নামে সেই ব্যক্তি কাছ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা নিয়েছে। আবার মেডিক্যাল কলেজে এক ছাত্রকে ভর্তি করার নামে তার থেকে কয়েক হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি তার নিজের কয়েকটি ব্যাঙ্কের এটিএম কার্ড নষ্ট করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রতারিত স্ত্রীদের। বিবাহিতা স্ত্রীদের এটিএম কার্ড নিয়ে কয়েক কোটি টাকা তছরূপ করেছেন। এমনই অভিযোগ পুলিশের হাতে। এমনটাই জানিয়েছেন পুলিশের সহকারী কমিশনার সঞ্জীব সতপতী।

প্রতারিত হওয়ার মহিলাদের অর্থাৎ তার স্ত্রীদের থেকে জানা গিয়েছে তাদের স্বামী রমেশকে তারা অনেকেই অনেক টাকা দিয়েছে। এক মহিলা লুধিয়ানার গুরুদারে বিয়ে করার আগে রমেশকে ১১ লক্ষ টাকা দিয়েছে। অপর একজন স্ত্রী যিনি পেশায় ডাক্তার। তিনি রমেশকে বিয়ে করার জন্য ২৩ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি যে মহিলার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল সেই মহিলা রমেশকে একটি শেওয়ানি ও বরের সঙ্গীদের খাওয়ার জন্য ২ লক্ষ টাকা দিয়েছেন।

তবে এখন প্রশ্ন হল কিভাবে এই ধৃতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে ছিলেন এই মহিলারা। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন অভিযুক্ত রমেশ বিয়ে সাইডে অর্থাৎ ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইডে নাম লিখিয়ে ছিলেন, তার একটা নয় একাধিক নামে প্রোফাইল ছিল যার মধ্যে এখনও পর্যন্ত তিনটি প্রোফাইল এসেছে। একটি ছিল ডাক্তার বিজয়শ্রী রমেশ কুমার, আরেকটি বিধুপ্রকাশ সোয়েইন, আরেকটি প্রোফাইলে রমনীরঞ্জন সোয়েইন নামে আলাদা নামে প্রোফাইলে ক্রিয়েট করা আছে। একটি প্রোফাইলে তিনি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়েছে।

তিনি বিশেষত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর প্রতিষ্ঠিত মহিলাদের ফাঁদে ফেলেছেন। তার বেশিভাগ স্ত্রী বিধবা বা বিবাহবিচ্ছেদ করেছেন। তিনি লাল বাতি লাগানো গাড়ি ব্যবহার করতেন সবসময়। তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মেডিক্যাল টিমে ছিলেন বলে দাবি করেছেন। একটি ছবি ধৃত রমেশকে দেখা যাচ্ছে থ্রি পিস সুট পরে। যেখানে তাকে আভিজাত্য পরিবারের ছেলে বলে মনে হচ্ছে। ভুবনেশ্বরের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নিয়ে থাকতেন। ধৃতের কাছ থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছেন প্যান কার্ড, আধার কার্ড, ও নানা সংস্থার আইডি কার্ড।

বিয়ের পর রমেশ তাঁর নতুন স্ত্রীদের নিজের বাড়িতে আনার পরিবর্তে মেয়েদের বাড়িই থাকতে বেশি পছন্দ করতেন। যদি কোনও স্ত্রী তার আচরণে সন্দেহজনক ব্যবহার দেখে তাকে প্রশ্ন করতো তখন সে তাদের ছেড়ে বিয়ে পথ বেছে নিতেন।

তার একজন স্ত্রী দিল্লি একজন স্ত্রী শিক্ষিকা। তিনি সোয়েইনের বাড়ি দেখার জন্য খুব জোর দিয়েছিলেন। তখন রমেশ বাধ্য হয়ে তাকে ভুবনেশ্বর নিয়ে আসেন। তখন রমেশ কাজের মেয়ের থেকে তিনি জানতে পারেন রমেশ বারবার তার স্ত্রী পরিবর্তন করেন। রমেশের একাধিক পরিচয় জানতে পেরে স্ত্রী অবাক হয়ে জান।

তখন তিনি রমেশকে ছেড়ে চলে যান। তার পূর্বে স্ত্রীদের যোগাযোগ করে প্রমাণ সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন। তারপর তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। আবার অনেক মহিলা সঙ্গেও তিনি লিভিনের সম্পর্কের ছিলেন।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+