ভারতে থাকা এই রত্নের পাহাড়ে আজও দোলায় ঝোলেন রাম-সীতা! সাক্ষী থাকেন বহু মানুষ
ধর্ম নগরী অয্যোধ্যা! শ্রাবণ র মাসের তৃতীয়া তিথি, হারিয়ালি তিজে মতি পর্বতে ভগবান শ্রী রাম এবং মা সীতা একসঙ্গে দোলাতে ঝুলতেন। আর সেই রীতি অনুযায়ী অয্যোধ্যায় শ্রাবণ পূর্ণিমা পর্যন্ত সমস্ত মন্দিরে ঝুলন উৎসব শুরু হয়ে যায়। আর
ধর্ম নগরী অয্যোধ্যা! শ্রাবণ র মাসের তৃতীয়া তিথি, হারিয়ালি তিজে মতি পর্বতে ভগবান শ্রী রাম এবং মা সীতা একসঙ্গে দোলাতে ঝুলতেন। আর সেই রীতি অনুযায়ী অয্যোধ্যায় শ্রাবণ পূর্ণিমা পর্যন্ত সমস্ত মন্দিরে ঝুলন উৎসব শুরু হয়ে যায়। আর মন্দিরে রাখা সমস্ত মূর্তি সেই দোল্লাতে বসিয়ে দেওয়া হয়।
মনে করা হয় যে শ্রাবন মাসের হরিয়ালি তিজ থেকে শুরু হওয়া এই ঝুলন উতসবে ভগবানকে দোল্লাতে ঝোলালে জীবন-মরণের বন্ধন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, মুক্তি প্রাপ্ত হয়।
আর সেই কারণে প্রত্যেক বছর দেশ বিদেশ থেকে বহু পর্যটক এই সময় অযোধ্যাতে ভিড় জমান।
কথায় আছে মতি পর্বতে ভগবান দোল্লাতে দুলতে থাকেন! আর সেই কারণে ভক্তরা পাহাড়ে গিয়ে বিশেষ পুজো পাঠ করেন। আরোতি করেন। শুধু তাই নয়, জীবন যাতে সুন্দর ভাবে চলে সেই কামনা করেন অনেকে।
যদিও গত কয়েক বছর ধরে করোনা পরিস্থিতির কারণে এই ঝুলন উৎসবে কিছুটা হলেও ভাটা পড়েছে। যাতে কেউ ভিড় না জমাতে পারে সেজন্যে একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা প্রশাসনের তরফে জারি করা হয়েছে। এই প্রতিবেদণে মতি পর্বতের ইতিহাসের কথা তুলে ধরা হল।

মতির পাহাড় কীভাবে তৈরি হল?
প্রচলিত আছে ভগবান শ্রী রাম বিয়ের পর মা সীতাকে নিয়ে যখন অযোধ্যাতে ফেরেন সেই সময় মহারাজা জনক এই পাহাড় ( chain of pearls) উপহার হিসাবে দিয়েছিলেন। যা কিনা মহারাজ দশরথ বিদ্যাকুন্ডের পাশে রেখে দেন। ওই পাহাড়ে এত পরিমাণ রত্নভান্ডার ছিল যে সেটি রত্নের পাহাড় তৈরি হয়ে গিয়েছিল।
যা কিনা আজ মতির পাহাড় হিসাবে ব্যাপক ভাবে পরিচিত। প্রচলিত আছে ঐতিহাসিক এই পাহাড়েই শ্রাবনের মাসের তৃতীয়া তিথি, হারিয়ালি তিজে ভগবান শ্রী রাম মা সীতার সঙ্গে দোল্লায় ঝোলেন।
ত্রেতাযুগের এই ঝুলন উৎসবে শুরু হওয়া এই পরম্পরা আজও চলে আসছে। কথায় আছে এখনও এই নাকি ওই পাহাড়ে দোল্লাতে ঝোলেন রাম-সীতা

দেশ-বিদেশ থেকে অযোধ্যাতে আসেন রামভক্তরা
জানা যায় এই সময় অযোধ্যার সমস্ত মন্দিরে থাকা বিগ্রহ ঢাক-ঢোল বাজিয়ে মতি পর্বতে নিয়ে আসা হয়। আর সেখানে সুন্দর করে দোল্লাতে সাজানো হয় বিগ্রহকে। যদিও মতি পর্বতে ভগবান রামের যে মন্দির আছে তাও সাজিয়ে তোলা হয়। মন্দির থেকে নিয়ে যাওয়া বিগ্রহ সেই মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর সেগুলিকে ধীরে ধীরে ফের মন্দিরে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়। শুধু তাই নয়, মন্দিরে থাকা দোল্লাতে বসানো হয় সেই বিগ্রহগুলিকে। হরিয়ালা তিজে এই ঝুলন উৎসব সে রাজ্যে শুরু হয়ে যায়। শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা পর্যন্ত এই উৎসব চলে। আর এই উৎসবকে ঘিরে বহু রামভক্ত এই সময়ে অযোধ্যাতে জড়ো হন।

এতে মুক্তি পাওয়া যায়
এই ঝুলন উৎসবকে ঘিরে বহু রীতি রয়েছে। ইতিহাস রয়েছে। প্রচলিত রয়েছে শ্রাবন মাসের হরিয়ালি তিজ থেকে শুরু হওয়া এই ঝুলন উতসবে ভগবানকে দোল্লাতে ঝোলালে জীবন-মরণের বন্ধন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আর সেই কারণে মতি পার্বতে রাম-সীতার দোল্লায় ঝুলতে থাকা অবস্থা দেখার জন্যে দূর থেকেও মানুষজন ছুটে আসেন। পাপস্খলনের আশাতে।

রাখির দিন শ্রাবণ পূর্ণিমাতে বিশেষ পুজো হয়
মতি পর্বতে রাম-সীতার বিগ্রহ এই সময়ে দোল্লাতে ঝোলানো হয়। হরিয়ালি তিজের দিন ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ১২ দিন পর্যন্ত চলে এই উৎসব। আর এরপর রাখির দিন বিশেষ পুজোপাঠের মাধ্যমে শেষ হয়। শ্রাবণ পূর্ণিমার দিন এই পুজো হয়। তবে করোনা পরিস্থিতিতে বদল হয়েছে পরিস্থিতির। মানুষকে অনেক বিধি নিষেদের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications