Ram Mandir: রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার মধ্যেই চর্চা পুরানো মূর্তি নিয়ে! বড় সিদ্ধান্তের কথা জানাল ট্রাস্ট
Ram Mandir: অযোধ্যায় রাম মন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠা আগামীকাল। ইতিমধ্যেই গর্ভগৃহে রাখা হয়েছে রামলালার নতুন মূর্তি। এরই মধ্যে জল্পনা শুরু হয়েছে, নতুন মূর্তি চলে আসায় পুরানো মূর্তির কী হবে?
১৯৪৯ সাল থেকেই রামলালার সেই মূর্তি রাখা হয়েছিল একটি অস্থায়ী মন্দিরে। তবে সেটিকেও নতুন মন্দিরে এনে সিংহাসনে বসানো হবে বলে জানিয়েছে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট।

ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ দেব গিরি জানিয়েছেন, রাম মন্দির তৈরি করতে ইতিমধ্যেই ১১০০ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। এখনও মন্দিরের উপরতলার অনেক কাজ বাকি। ফলে মন্দিরের কাজ পুরো সম্পন্ন করতে আরও ৩০০ কোটি টাকা লাগবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথাতেই উঠে এসেছে রামলালার পুরানো মূর্তির কথা।
নতুন যে রামলালার মূর্তিটি গর্ভগৃহে রাখা হয়েছে সেটির উচ্চতা ৫১ ইঞ্চি। তিনটি মূর্তি তৈরি করা হয়েছিল। অবশেষে চূড়ান্ত হয় মাইসুরুর অরুণ যোগীরাজের তৈরি করা মূর্তিটি। তবে বাকি দুটি মূর্তিকেও বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে না। ট্রাস্ট একটি রেখে দেবে ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের মূর্তির পোশাক ও অলঙ্কারের মাপ নেওয়ার জন্য।
আরেকটি মূর্তিকেও যথাযথ ভক্তি ও সম্মান প্রদর্শন করে মন্দিরের কোথাও রাখা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ। তিনি জানান, এই মূর্তিগুলি তৈরি করতে শিল্পীদের মাস চার-পাঁচেক সময় লেগেছে। আলাদা একটি জায়গায় সেগুলি বানানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার ছিল না। ট্রাস্টের লোকজনেরাই নিয়মিত কাজ দেখতে যেতেন।
তবে তিনটি থেকে একটি বেছে নেওয়া কঠিন ছিল বলে জানান গোবিন্দ দেব গিরি। তিনি বলেন, প্রথম শর্ত ছিল মূর্তির মুখ শিশুসুলভ হবে, ঐশ্বরিক ঔজ্জ্বল্য থাকতে হবে। শ্রী রামচন্দ্র আজানবাহু, অর্থাৎ তাঁর হাত দুটি সোজা করলে হাঁটুর নীচ অবধি যায়। এই বিষয়গুলি খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে। তাছাড়া অলঙ্কারগুলি যেভাবে মূর্তিতে ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী, সেটিও মূর্তির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে।
গিরি জানিয়েছেন, রামলালার পুরানো মূর্তিটিও থাকবে গর্ভগৃহেই। এই মূর্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুরানো মূর্তির উচ্চতা ৫ থেকে ৬ ইঞ্চি হওয়ায় ২৫-৩০ ফুট দূর থেকে দেখা যায় না। সে কারণেই নতুন মূর্তি তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। তবে রামলালার নতুন মূর্তির সামনেই রাখা হবে রামলালার পুরানো মূর্তিটি।
বাবরি মসজিদের মধ্যেই শ্রী রামচন্দ্রের মূর্তি দেখা গিয়েছিল বলে ১৯৪৯ সালে দাবি করেছিলেন অনেকে। দিনটি ছিল ২২ ডিসেম্বর। তখন থেকেই অস্থায়ী একটি মন্দিরে রাখা ছিল রামলালার মূর্তিটি। এই মূর্তি উদ্ধারের পর থেকেই রাম-আবেগের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হয়। সেই মূর্তিটিকেও গর্ভগৃহে নতুন মূর্তির সঙ্গেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাস্ট।
অযোধ্যার নানা মন্দির আলোয় সেজে উঠেছে। মনে হচ্ছে, যেন দীপাবলি চলে এসেছে। গিরি বলেন, ৫০০ বছর পর ভারতে এমন মাপের একটি অনুষ্ঠান হচ্ছে। আমরা প্রতি বছর দীপাবলি পালন করি। শ্রী রামচন্দ্র এত সংগ্রাম, বাধা-বিপত্তির পর নিজের জন্মভূমিতে এতটা ভালোবাসা, শ্রদ্ধার সঙ্গে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন, এর চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছেন সকলে। সে কারণে গোটা দেশ আজ আবেগাপ্লুত।












Click it and Unblock the Notifications