Ram Mandir: অযোধ্যায় পৌঁছে গেল কিষ্কিন্ধ্যা থেকে আসা রথ, হনুমানজির জন্মস্থানে তৈরি হবে মূর্তি ও মন্দির
Ram Mandir: অযোধ্যার গর্ভগৃহে আনা হয়েছে রামলালার মূর্তি। প্রাণ প্রতিষ্ঠা হবে ২২ জানুয়ারি। শ্রী রামচন্দ্রের জন্মভূমিতে রাম মন্দির উদ্বোধন ঘিরে সাজো সাজো রব। দেশ-বিদেশ থেকে পুণ্যার্থীরা আসতে শুরু করেছেন।
রাম মন্দির উদ্বোধনের আগেই অযোধ্যায় পৌঁছে গেল ভগবান হনুমানজির জন্মস্থান কিষ্কিন্ধ্যা থেকে আসা রথ। উল্লেখ্য, রামায়ণে বর্ণিত কিষ্কিন্ধ্য়া কর্নাটকের হাম্পিতেই ছিল বলে সকলে বিশ্বাস করে থাকেন।

অযোধ্যায় পৌঁছনোর আগে ভারতের বিভিন্ন মন্দির পরিক্রমা করেছে এই রথ। গিয়েছে শ্রী রামচন্দ্রের স্ত্রী সীতার জন্মভূমিতে। সীতার জন্মস্থান যে জনকপুরে, সেটি বর্তমানে নেপালে। সেখানেও গিয়েছিল কিষ্কিন্ধ্যা থেকে আসা রথটি। রথের সঙ্গে অযোধ্যায় পৌঁছেছেন শ-খানেক ভক্ত। তাঁরা রথের সঙ্গে চলতে চলতেই গান করছেন, নাচছেন, জয় শ্রী রাম ধ্বনিও দিচ্ছেন।
রথে রয়েছে ভক্ত হনুমানকে আলিঙ্গন করা অবস্থায় শ্রী রামচন্দ্রের মূর্তি। গেরুয়া পতাকা নিয়েই অযোধ্যায় এসেছেন ভক্তরা। তাঁদের কথায়, শ্রী রামচন্দ্রের জন্মভূমিতে রাম মন্দির উদ্বোধন, রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এতো মানুষ আসছেন। সেখানে হনুমানজি কি না এসে থাকতে পারেন?
রথের সঙ্গে আসা ভক্তরা জানিয়েছেন, এই রথ নিয়ে আমরা অনেক জায়গায় গিয়েছি। অযোধ্যায় রথটি থাকবে জানুয়ারির ২৫ তারিখ পর্যন্ত। শ্রী হনুমান জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের অভিষেক কৃষ্ণশাস্ত্রী বলেন,শ্রী রামচন্দ্রের সবচেয়ে বড় ভক্ত হনুমানজি। তাই শ্রী রামচন্দ্রের প্রতি সেবা নিবেদনের জন্য কিষ্কিন্ধ্যা থেকে আমরা এসেছি।
আপাতত সরযূ নদীর ধারে রাখা হয়েছি রথটিকে। ইতিমধ্যেই অযোধ্যা নগরীর নানা জায়গা পরিক্রমা করেছে রথটি। পুণ্যার্থী, পর্যটকদের বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে শ্রী হনুমানজির জন্মভূমি থেকে অযোধ্যায় পৌঁছনো রথটিকে নিয়ে। সোনালি রংয়ের রথটিকে দূর থেকে দেখলে মন্দিরের মতোই লাগছে। বেশ কয়েকটি মূর্তিও রাখা হয়েছে রথটিতে।
জানা যাচ্ছে, হনুমানজির জন্মভূমিতে তাঁর একটি মন্দির স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই রথটিকে দেখে যে পুণ্যার্থীরা সাধ্যমতো অর্থসাহায্য করছেন তা জমিয়ে মন্দির নির্মাণের কাজে ব্যয় করতে চাইছে হাম্পির শ্রী হনুমান জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। আগামী ছয় বছরের মধ্যে কিষ্কিন্ধ্যায় শ্রী হনুমানজির ২১৫ মিটার উচু একটি মূর্তি স্থাপন করাও তাঁদের লক্ষ্য, যার খরচ ধরা হয়েছে ১২০০ কোটি টাকা।
হাম্পির অদূরেই কিষ্কিন্ধ্যা ছিল বলে মনে করা হয়। হাম্পি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। কিষ্কিন্ধ্যা-সহ কর্নাটকের তিনটি জায়গার সঙ্গে রামায়ণের প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে বলে সকলের বিশ্বাস। বাকি দুটি স্থান হলো গোকর্ণের মহাবালেশ্বর মন্দির এবং চিকামাগালুরুর চন্দ্র দ্রোণ পর্বতমালা।
অযোধ্যায় যে রথটি এসেছে তা তৈরিতে খরচ হয়ে ৪০ লক্ষ টাকা। শ্রী রামচন্দ্র, হনুমানজির পাশাপাশি এখানে রয়েছে লক্ষ্মণ, সীতা, হাম্পির বিরুপাক্ষ এবং হনুমানজির মাতা অঞ্জনীর মূর্তি। তিন বছর ধরে রথটি বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছে। সেখানে হয়েছে পূজা-পাঠ। ভক্তরাও যোগ দিয়েছেন। দেব দীপাবলিতে প্রতি বছর কিষ্কিন্ধ্যা থেকে ভক্তরা অযোধ্যায় এলেও রথটি এলো এবারই প্রথম।
অযোধ্যায় রয়েছে হনুমানগড়ী। যেটি হনুমানজির মন্দির। দুর্গের মতো দেখতে মন্দিরটি, রয়েছে ৭৬টি সিঁড়ি। ধর্মীয় বিশ্বাস, রামকোট বা শ্রী রামচন্দ্রের জন্মভূমিকে রক্ষা করতে হনুমানজি এখানেই একটি গুহায় থাকতেন।












Click it and Unblock the Notifications