রাম আর আল্লায় কোনও ফারাক নেই, জ্ঞান চক্ষু খুলে দিলেন একইসঙ্গে মন্দির-মসজিদের সাফাইকর্মী এই যুবক
মন্দির-মসজিদের জায়গার লড়াইয়ের যে কোনও অর্থই হয় না সেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সদ্দাম হুসেন(২৭)। বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা সদ্দাম।
অযোধ্যার রায়দান হয়েছে দিন কয়েক মাত্র হয়েছে। শান্তি বজায় রাখার জন্য গোটা দেশেই কড়া নিরাপত্তা বহাল হয়েছে। মন্দির-মসজিদের জায়গার লড়াইয়ের যে কোনও অর্থই হয় না সেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সদ্দাম হুসেন(২৭)। বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা সদ্দাম। বেঙ্গালুরুর রাজাজিনগরে মন্দির এবং মসজিদ প্রতিদিন ধুয়ে মুখে পরিষ্কার করে সদ্দাম। তার কাছে রমজানও যা রাম নবমীও তাই।

সদ্দামের কাছে মন্দির মসজিদ দুই সমান
বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা সদ্দাম হুসেন প্রতিদিনই মন্দির এবং মসজিদে সাফাইয়ের কাজ করে। রাতে ডিউটি করে সে। সারা রাত কাজ করার পর দুপুর থেকে মন্দির সফাই এবং মসজিদ সাফাইয়ের কাজ শুরু করেন তিনি। মসজিদে নমাজ পড়ে তিনি সোজা চলে যান পুজোর সামগ্রির দোকানে। রমজান মাসও এই রুটিনের পরিবর্তন হয় না।
রমজান মাসে মসজিদে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করেন তিনি। মসজিদের মিনার পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে ফল কেটে, সরবত তৈরি করে রমজানের উপবাস ভাঙার আয়োজন করেন তিনি। সকলকে ফল সরবত বিতরণ করে তিনি যান মন্দিরে। সেখানে মন্দির সাফাই করে পুজোর সামগ্রি দোকান থেকে কিনে আনেন।

রাম নবমীতে রথ সাজান সদ্দাম
রমজান মাসের মতো রাম নবমীতেও সক্রিয় ভূমিকা নেন সদ্দাম হুসেন। রামের রথ পরিষ্কার করে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখেন তিনি। কিন্তু মন্দির কর্তৃপক্ষ কখনও এই নিয়ে কোনও আপত্তি জানায়নি। উল্টে বারবার সদ্দামকেই এই কাজের জন্য বহাল করেন তাঁরা। কারণ সদ্দামের থেকে নিষ্ঠাভরে এই কাজ কেউ করতে পারে না। মাত্র দ্বিতীয় শ্রেণ্ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে সদ্দাম। এলাকায় একাধিক সমাজসেবা মূলক কাজ করে থাকে সে। গাড়ি চালানো, গরিব মানুষের সেবা করা।

অযোধ্যা রায় প্রভাব ফেলবে না তাঁর কাজে
সারাদিন মন্দির আর মসজিদের কাজে নিজেকে ব্যাস্ত রাখেন সদ্দাম। অযোধ্যা কী রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট সেটা ভাল করে জানেন না তিনি। বেশ কয়েকদিন পর লোকমুখে শোনার পর সদ্দাম বলেছেন, এই রায় তাঁর কাজে কোনও ব্যাঘাত ঘটাবে না। কারণ তাঁর কাছে রাম যা আল্লাও তাই।












Click it and Unblock the Notifications