এনআরসি হলে অসুবিধা কী? ফের বিতর্ক উস্কে দিয়ে প্রশ্ন রাজনাথ সিংয়ের!
সংসদে সিএএ পাশ করার সময় এনআরসি নিয়ে সরব হয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে সিএএ পাশ পরবর্তী অবস্থায় দেশের উত্তাল অবস্থার কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বলতে শোনা যায়, এনআরসি নিয়ে এখনই কোনও চিন্তা ভাবনা করছে না কেন্দ্র। পাশাপাশি তিনি জানান, সরকার এই নিয়ে কোনও আলোচনা বা বৈঠক করেনি। যখন আলোচনা হবে তখন সবাইকে জানিয়েই তা করা হবে। চাপ সামলাতে প্রধানমন্ত্রীর সুরেই গলা মিলিয়ে অমিত শাহকেও এরপর বলতে শোনা যায় যে সরকারের অ্যাজেন্ডাতে এখনই এনআরসি নেই। তবে ফের এনআরসি বিতর্ক উস্কে দিয়ে এই প্রক্রিয়ার পক্ষে সওয়াল করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং।

এনআরসি হলে অসুবিধা টা কোথায়?
সোমবার কর্নাটকের ম্যাঙ্গালুরুতে এক জনসভায় ভাষণ রাখার সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, 'এনআরসি-র বিষয়ে আমি আপনাদের জিজ্ঞাসা করতে চাই যে, প্রতিটি দেশের এটি জানার অধিকার রয়েছে কি নেই যে তাদের দেশে কতজন থাকে এবং তাদের মধ্যে বিদেশীর সংখ্যা কতজন?' এরপর তিনি প্রশ্ন করেন, 'তাহলে এনআরসি হলে অসুবিধা টা কোথায়?'

'এনআরসি সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে হয়'
এরপর রাজনাথ সিং বলেন, 'এনআরসি নামক পাখি আমরা নিয়ে আসিনি। এনআরসি হয় সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে। এবং তা লাগু করেছিল পূর্বতন কংগ্রেস সরকার।' এরপর তিনি দলের পুরোনো দাবি মেনে আবার বলেন যে, 'সিএএ তে দেশের কোনও মুসলিমের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে না। এতে দেশের জনগণের কোনও চিন্তার বিষয় নেই। এটি বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্থান থেকে আসা সেদেশের সংখ্যালঘুদের জন্যে করা হয়েছে।'

এনআরসি নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশ জুড়ে নাগরিকত্ব আইন ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণের বিরুদ্ধে চলছে বিক্ষোভ। বিক্ষোভের জেরে হিংসা ছড়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সেই আবহেই ২২ ডিসেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে সভায় ভাষণ রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সভার উপর নজর ছিল সকল দেশবাসীর। সেখানেই সিএএ ও এনআরসি নিয়ে জনগণকে ভুল বুঝিয়ে তাদের হিংসার পথে ঠেলে দেওয়ার জন্য কংগ্রেস ও শিক্ষিত আরবান নকশালদের এক হাত নেন মোদী।

'যেই জিনিসটা নেই, তা নিয়ে গুজব রটানো কেন?'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'শিক্ষিত শহুরে আরবান নকশালরা সবাইকে বলছে যে দেশের মুসলিমদের ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হবে। একবার তো নিজেদের শিক্ষার সদ্ব্যবহার করুন। একবার তো এই আইনটা পড়ে দেখুন। আমি চ্যালেঞ্জ করছি দেশে একটা ডিটেনশন ক্যাম্প দেখান আপনারা। কোথায় ডিটেনশিন ক্যাম্প? ২০১৪-তে আমার নেতৃত্বে সরকার আসার পর দেশের কোথাও কোনও এনআরসি নিয়ে আলোচনা হয়নি। অসমে এনআরসি হয়েছিল সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে। কংগ্রেস আর শহুরে নকশালরা ডিটেনশন শিবির নিয়ে যা বলছেন, তা মিথ্যে কথা। সকলকে অনুরোধ করব, এই মিথ্যাচার না মানতে। আমরা তো এনআরসি তৈরিই করিনি। করেছে কংগ্রেস। এখন কংগ্রেস নেতারা টিভিতে বসে এনআরসির খরচের কথা বলছে। আরে, যেই জিনিসটা নেই তা নিয়ে এত আলোচনা ও গুজব রটানো কেন?'












Click it and Unblock the Notifications