বাড়ছে লোকসান, বন্ধ হতে পারে সব দুরন্ত এক্সপ্রেস

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন চালু করেছিলেন দুরন্ত এক্সপ্রেস। উদ্দেশ্য ছিল, যতটা সম্ভব কম সময়ে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া। ক্রমশ এই ট্রেনগুলি জনপ্রিয়তা পেয়েছে যথেষ্ট। নির্দিষ্ট কিছু রুটের দুরন্ত এক্সপ্রেসে তো টিকিটের জন্য কার্যত মারামারি করতে হয়। যেমন, হাওড়া-যশবন্তপুর দুরন্ত এক্সপ্রেস, হাওড়া-পুণে দুরন্ত এক্সপ্রেস ইত্যাদি। কিন্তু, রেলের দাবি অনুযায়ী, একটি স্টেশন থেকে ছাড়ার পর মাঝখানে আর কোনও স্টেশনে না দাঁড়ানোয় এই ট্রেনগুলিতে সাধারণত ২০-৩০ শতাংশ আসন খালি থাকে। পাশাপাশি, ভাড়া আর খাবারের দাম বাবদ যাত্রীদের কাছ থেকে যে টাকা নেওয়া হয়, তা যথেষ্ট নয়। ভর্তুকি বাবদ রেলকে মোটা টাকা গুনতে হয়। তা ছাড়া, দুরন্ত এক্সপ্রেসগুলিকে রাস্তা করে দিতে দাঁড়িয়ে থাকে অন্যান্য ট্রেন। অথচ সুপারফাস্ট ট্রেন হওয়ায় লোকসানে চললেও আগে যেতে দিতে হবে দুরন্ত এক্সপ্রেসগুলিকে।
দুরন্ত এক্সপ্রেস নিয়ে এখন রেলের এতটাই অনীহা যে, আগামী ৩ ডিসেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে চেন্নাই-তিরুবনন্তপুরম দুরন্ত এক্সপ্রেস। ৯ ডিসেম্বর থেকে বন্ধ হবে চেন্নাই-কোয়েম্বাটোর দুরন্ত এক্সপ্রেস। কিছু দুরন্ত ট্রেনকে আবার অন্য ট্রেনে পরিবর্তন করে স্টপেজ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন, আজমির-হজরত নিজামুদ্দিন দুরন্ত এক্সপ্রেস। এর নতুন নাম এখন জনশতাব্দী সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। রেল সূত্রের খবর, মোট ছ'টি দুরন্ত এক্সপ্রেসকে সাধারণ ট্রেনে বদলে দেওয়া হয়েছে।
ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, রেলের লাভ-লোকসান জ্ঞান টনটনে। কিন্তু, পরিষেবা নিয়ে কখনও মাথা ঘামান না রেলকর্তারা। সাধারণ এক্সপ্রেস ট্রেনের কথা বাদই দেওয়া গেল। দুরন্ত এক্সপ্রেসের মতো সুপারফাস্ট ট্রেনে এসি কাজ করছে না, চাদর-বালিশে ডাল-তরকারির দাগ, স্লিপার ক্লাসের বার্থগুলি ধুলোয় থিকথিক করছে, পাখায় নিরন্তর ঘড়ঘড়ে আওয়াজ, শৌচালয়ে বমনোদ্রেকারী দুর্গন্ধ, এমন ঘটনা তো আকছার ঘটে। রাজধানী এক্সপ্রেসেও পচা খাবার দেওয়া হয়েছে, এমন ঘটনা বিরল নয়। দফায় দফায় ভাড়া বাড়ানোর সময় পরিষেবার দিকেও রেলের নজর দেওয়া উচিত বলে দাবি সাধারণ যাত্রীদের।












Click it and Unblock the Notifications