এসি থ্রি-টিয়ার কামরায় পর্দাহরণের সিদ্ধান্ত রেলের

ট্রেন
নয়াদিল্লি, ১ এপ্রিল: বাতানুকূল থ্রি-টিয়ার কামরা থেকে পর্দা সরিয়ে নিচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে শুধু কাঁচের জানলায় ঝুলবে পর্দা। এ ছাড়া কামরার ভিতরে কোনও পর্দা থাকবে না। নিরাপত্তাজনিত কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি রেলের।

বাতানুকূল টু-টিয়ারের মতো থ্রি-টিয়ারেও রয়েছে পর্দা। আপনি বার্থে উঠে পর্দা টেনে দিলেই হল। পর্দার আড়ালে আপনার নিজস্ব জগত। কিন্তু আর কিছুদিন পর থেকে বাতানুকূল থ্রি-টিয়ারে থাকবে না আপনার গোপনীয়তা। স্লিপার কামরার মতোই সব হাঁ হয়ে থাকবে।

কেন এই সিদ্ধান্ত? রেল বোর্ড বলছে, গত ২৮ ডিসেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুরে বেঙ্গালুরু-নান্দেদ এক্সপ্রেসের বাতানুকূল থ্রি-টিয়ার কামরায় আগুন লাগে। গভীর রাতে ঘুমের মধ্যে পুড়ে মারা যান অন্তত ২৬ জন। এই ঘটনার তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেয় কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি। তাতে বাতানুকূল থ্রি-টিয়ার থেকে পর্দা সরিয়ে ফেলার সুপারিশ করা হয়। গত ১২ মার্চ এই সুপারিশকে মান্যতা দেয় রেল বোর্ড। সেই মতো প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ

কিন্তু রেল বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ পর্দাগুলি অগ্নিরোধী উপাদান দিয়ে তৈরি বলে এতদিন গলা ফাটিয়েছে রেল। তা হলে ভবিষ্যতে আগুন ঠেকাতে সব বাতানুকূল থ্রি-টিয়ার কামরা থেকে পর্দা সরানো কি যুক্তিযুক্ত? তা হলে কি পর্দাগুলিতে অগ্নিরোধী উপাদান ছিল না? প্রাণহানি রোধে পর্দা না সরিয়ে বরং অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো উচিত ছিল বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে, যদিও কোনও বাতানুকূল টু-টিয়ার কামরায় অনুরূপ দুর্ঘটনা ঘটে, তা হলে সেখান থেকেও কি পর্দা সরিয়ে ফেলা হবে? বেঙ্গালুরু-নান্দেদ এক্সপ্রেসে তো এসি-তে শর্ট সার্কিটের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তা হলে কি বাতানুকূল কামরা থেকে এসি খুলে ফেলবে রেল? রেলের হাস্যকর যুক্তি অনুযায়ী তো তাই-ই করতে হয়!

রেলের হাস্যকর কাণ্ডকারখানা এর আগেও দেখেছে মানুষ। ২০০৮ সালে লালুপ্রসাদ যাদব যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন, তখন স্লিপার এবং বাতানুকূল থ্রি-টিয়ার কামরায় 'সাইড মিডল বার্থ' চালু হয়েছিল। সাইড লোয়ার এবং সাইড আপার বার্থের মাঝামাঝি তা যুতে দেওয়া হয়েছিল। তাতে যাত্রীদের অসুবিধার অন্ত ছিল না। জায়গার অভাবে ঘাড় গুঁজরে বসে থাকতে হত। সে এক যন্ত্রণাদায়ক সফর ছিল। যাত্রীদের অসুবিধা হলেও ভালোই কামিয়ে নিচ্ছিল রেল। শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের ক্ষোভ এতই বেড়ে যায় যে, রেলকর্মীদের সঙ্গে নিত্যদিন বচসা শুরু হয়। টালবাহানা সত্ত্বেও পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত 'সাইড মিডল বার্থ' তুলে দিতে বাধ্য হয় রেল কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেলকর্তা জানান, বাতানুকূল থ্রি-টিয়ার কামরা থেকে পর্দা সরিয়ে নেওয়ায় যাত্রীদের প্রথম প্রথম একটু অসুবিধা হবে ঠিকই। কিন্তু আস্তে আস্তে তা গা সওয়া হয়ে যাবে। বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভেবেই পর্দা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশ্চর্যের ব্যাপার হল, রেল কর্তৃপক্ষ যখন বাতানুকূল থ্রি-টিয়ারে পর্দা চালু করে, তখন যুক্তি দিয়েছিল, এটা যাত্রীদের গোপনীয়তা রক্ষা করবে। অথচ এখন আর সেই যুক্তি সাজাচ্ছে না তারা।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+