Rahul Gandhi: দেশের-দশের সুখ দুঃখে কিছুতেই নেই রাহুল গান্ধী! আদৌ দেশের প্রতি দায়বদ্ধ? নেতৃত্ব নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
Rahul Gandhi: সদ্য ৭৬ তম প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day) পালিত হয়েছে ভারতজুড়ে। অন্যদিকে প্রয়াগরাজে ১৪৪ বছর পর মহা সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে মহাকুম্ভ মেলা (Maha Kumbh Mela)। রাজনৈতিক উত্তাপ রয়েছে দিল্লিতে। কারণ দিনকয়েক বাদেই সেখানে বিধানসভা নির্বাচন (Delhi Assembly Election)। তুঙ্গে চলছে প্রচারপর্ব।
সবক্ষেত্রেই বিভিন্ন নেতামন্ত্রীদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেলেও সবকিছুতেই গরহাজির (Absence) থেকেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। আর তাতেই উঠেছে প্রশ্ন। রাহুল গান্ধী কি আদৌ দেশবাসীর ভালো চান? কিন্তু সাম্প্রতিককালে সবকিছু থেকে ওঁনার অনুপস্থিতিই কংগ্রেস নেতার (Congress Leader) নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ভারতীয় সংস্কৃতির অন্যতম ধ্বজাধারী এই মহাকুম্ভ মেলা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় জমায়েত এটি। মহাকুম্ভ মেলায় অংশগ্রহণ করতে দেখা গিয়েছে বিজেপির নেতাদের। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-সহ গোটা মন্ত্রিসভা পুণ্যস্নান সেরেছেন মহাকুম্ভে।
স্রেফ তাই নয়, অমৃত স্নান সেরেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিজেপির অন্যান্য হেভিওয়েটরা। মহাকুম্ভে আসার কথা রয়েছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়েরও। কিন্তু লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কুম্ভমেলা থেকে সম্পূর্ণরূপে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। ভারতীয় সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার হেরিটেজ মহাকুম্ভ নিয়ে উদাসীন রাহুল গান্ধী।
নিজেকে পৈতেধারী ব্রাহ্মণ দাবি করা রাহুল গান্ধী এর আগে গণেশ চতুর্থী ও নবরাত্রির অনুষ্ঠান থেকেও নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর যে আত্মিক যোগাযোগ নেই, তা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাহুল গান্ধী নিজেই। অযোধ্যায় রামমন্দিরের ভূমি পুজো থেকে শুরু করে রামলালা প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছে গোটা দেশ। অথচ সেখানের রাহুল গান্ধীর উপস্থিতি কংগ্রেস নেতার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সম্প্রতি প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান থেকেও বিরত থেকেছেন রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে। কংগ্রেস নেতাদের এই অনুপস্থিতি ভারতের গণতন্ত্র ও সেনাবাহিনীর প্রতি অমর্যাদা স্বরূপ গণ্য করেছেন অনেকেই। প্রশ্ন উঠেছে দেশের প্রতি কংগ্রেসের দায়বদ্ধতা নিয়েও।
এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন বন্যা বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করছিলেন ও সেনাদের সঙ্গে বৈঠক সেরেছিলেন, তখনও বিদেশ সফরে ব্যস্ত ছিলেন রাহুল গান্ধী। গুরুতর এমন সংকটের সময় রাহুলের অনুপস্থিতি একাধিক প্রশ্ন উসকে দিয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এর আগে ২০২২ সালে সংবিধান দিবসের অনুষ্ঠানে রাহুলের অনুপস্থিতি ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রতি তাঁর অবজ্ঞা বিতর্ক উসকে দিয়েছিল রাহুলের বিরুদ্ধে। তবে শুধু জাতীয় অনুষ্ঠানেই রাহুল অনুপস্থিত থেকেছেন এমনটা নয়, কংগ্রেসের অভ্যন্তরেও নানা অনুষ্ঠানে গরহাজির থেকেছেন খোদ কংগ্রেস নেতা।
মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে দলের জয়ের পর বিজয় উৎসবে রাহুলের না থাকা দলের নেতাকর্মীদেরই অবাক করে দিয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাহুলের এভাবে পালিয়ে বেড়ানো দলের অন্দরেই তাঁর ব্যর্থতা প্রকাশ করে দিয়েছে।
দিল্লির নির্বাচনের আর হাতে গোনা কয়েকদিন। প্রথমদিকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নামার ইঙ্গিত দিলেও প্রচারপর্ব এগোতেই কংগ্রেসের নেতাদের টিকিটিও দেখা গেল না। রাহুল গান্ধী তো নৈব নৈব চ। আর তাতেই প্রশ্ন উঠেছে কোথায় রয়েছেন বিরোধী দলনেতা? মহাকুম্ভ থেকে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান, আর এখন দিল্লির নির্বাচনেও গরহাজির রাহুল। এখন প্রশ্ন, যিনি কিনা সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পালিয়েই বেড়ান, তিনি দেশ চালাবেন কীকরে?












Click it and Unblock the Notifications