সুট-বুট পরে জনগণকে লুট করছে সরকার! ফের মনরেগা ইস্যুতে মোদীকে আক্রমণ রাহুল গান্ধীর
দেশের অর্থনীতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে কয়েকটি স্কিম প্রয়োগ করা প্রয়োজন৷ আজ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী একটি টুইট করে লেখেন , মনরেগা ও ন্যায় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন৷ দেশের দারিদ্র ও বেকারত্ব দূরীকরণে এই প্রকল্পগুলি আনা প্রয়োজন৷ মনরেগা হল মহাত্মা গান্ধি ন্যাশানাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট৷ ন্যায় হল কংগ্রেসের প্রস্তাবিত ন্যূনতম আয় যোজনা৷

করোনাকালে কাজের চাহিদা
করোনা প্যানডেমিক চলায় ক্রমবর্ধমান কাজের চাহিদা ও সুযোগকে বাড়াতে কেন্দ্রকে মনরেগা প্রকল্পটিকে প্রয়োগের অনুরোধ জানিয়েছে কংগ্রেস৷ এদিন রাহুল টুইট করে লেখেন, 'এই দুটি প্রকল্প প্রয়োগ করলে দেশের অর্থনীতির জন্য তা লাভজনক হবে৷ মনরেগা প্রকল্পটি শহরাঞ্চলে যাদের চাকরি নেই , বেকার, তাদের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে৷ এছাড়াও ন্যায় প্রকল্পটি চালু করলে দেশের গরিব মানুষদের উপকার হবে৷'

মোদী সরকারকে আক্রমণ রাহুলের
এরপর কেন্দ্রের মোদী সরকারকে আক্রমণ শানিয়ে রাহুল গান্ধী আরও লেখেন, 'স্যুট-বুট-লুট সরকার কি গরিবদের দুঃখ বুঝতে পারবে?' পাশাপাশি টুইটের সঙ্গে একটি মনরেগা প্রকল্পের চাহিদার গ্রাফও আপলোড করেছেন কংগ্রেস সাংসদ৷

করোনাকালে লকডাউনের প্রভাব
করোনা প্যানডেমিকের জন্য দেশজুড়ে চলছে লকডাউন৷ কংগ্রেস দেশের গরিবদের সাহায্যার্থে কেন্দ্র সরকারকে প্রতিটি জন ধন, পেনশন ও প্রধানমন্ত্রী কিষান অ্যাকাউন্টে ৭৫০০ টাকা করে দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছে৷ এর আগে, ২০১৯ ভোটের সময় কংগ্রেস বলেছিল, লোকসভা ভোটে জিতলে ন্যায় স্কিমটির বাস্তবায়ন করা হবে৷

মনরেগা সংক্রান্ত পরিসংখ্যান
এদিকে রাহুলের মনরেগা সংক্রান্ত দাবি যাই হোক, পরিসংখ্যান কিন্তু বলছে যে ধীরে ধীরে ফের লকডাউন শিথিল হতেই চাহিদা কমছে মনরেগার। মে ও জুন মাসে মহত্মা গান্ধী গ্রামোন্নয়ন কর্মসংস্থান আইন বা মনরেগা-র অধীনা কাজের চাহিদা ছিল তুঙ্গে তবে জুলাইয়ে লকডাউন শিথিল হতেই মনরেগার অধীনে কর্মসংস্থানের চাহিদা কমেছে ব্যাপক হারে। তবে গত বছরের তুলনায় এখনও মনরেগায় কাজের চাহিদা অনেক বেশি। প্রসঙ্গত, করোনা আবহে পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজ নিজ গ্রামে ফিরে গেলে তাদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যেই মরেগাকে কাজে লাগিয়েছিল কেন্দ্র।

লকডাউন শিথিল হতেই পুরোনো কাজে ফিরেছেন অনেকে
দেখা গিয়েছে যে লকডাউন একটু শিথিল হতেই পুরোনো কাজে ফিরে গিয়েছেন অনেকে। আর তার ফলে জুন মাসের তুলনায় জুলাইতে মনরেগায় কাজ চাওয়া পরিবারের সংখ্যা ২৮ শতাংশ কম। তবে ২০১৯ সালের নিরিখে এই সংখ্যা ৭১ শতাংশ বেশি। গত বছর এই সময়ে দেশের মোট ১৮.৪ মিলিয়ন পরিবার কাজ চেয়ে নথিভুক্ত হয়েছিল। আর এই বছরের জুলাইতে কাজ চাওয়া পরিবারের সংখ্যা ৩১.৫ মিলিয়ন।

গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে মনরেগা
লকডাউনের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা যেন থমকে না যায়, সে জন্য গত ২০ এপ্রিল থেকে মনরেগা প্রকল্প চালু করার নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এই মনরেগা প্রকল্পকে প্রথম থেকেই কটাক্ষ করে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে করোনা সংক্রমণের এই সময় সেই মনরেগা প্রকল্পেই বড় পরিমাণের অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন।












Click it and Unblock the Notifications