দিল্লি হিংসা নিয়ে বিজেপিকে চাপে ফেলার কৌশল, আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন রাহুল গান্ধী
দিল্লিতে হিংসা পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাজধানীর উত্তর-পূর্ব প্রান্তে পরিদর্শনে যাবেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সিএএ ঘিরে দিল্লিতে হওয়া হিংসার জেরে গত কয়েকদিন উত্তাল হয়েছিল সংসদ। এই আবহেই বিজেপিকে আরও চাপে ফেলতে এবার আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন রাহুল গান্ধী। পাশাপাশি রাহুল গান্ধী সরকারকে সংসদে দিল্লি হিংসা নিয়ে আলোচনা করার আবেদনও জানান আজ।

দিল্লির হিংসা নিয়ে লোকসভায় অশান্তি চরমে
দিল্লির হিংসা নিয়ে লোকসভায় অশান্তি চরমে ওঠে মঙ্গলবার। লাগাতার দ্বিতীয় দিন লোকসভার ভিতর বেনজির বিরোধে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি ও বিরোধী সাংসদরা। তাঁদের মধ্যে চিৎকার, চেঁচামিচি এবং ধাক্কাধাক্কি হয়। সঙ্গে ছিল ওয়েলে নেমে দুই পক্ষের প্রবল চিৎকার, তর্ক-বিতর্ক। যার মধ্যে সামিল হন মন্ত্রীরাও।

প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলেন অধীর চৌধুরী
এর আগে দিল্লি হিংসার নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তিনি বলেছিলেন, 'তিনি (প্রধানমন্ত্রী মোদী) দুঃখিত হতে পারেন কারণ দিল্লির সহিংসতার জন্য লোকেরা তাঁর দিকে আঙুল তুলছে। যারা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের অবশ্যই লাল বাহাদুর শাস্ত্রী এবং শিবরাজ পাটিলের পদক্ষেপ অনুসরণ করে পদত্যাগ করা উচিৎ।'

দিল্লি হিংসা নিয়ে বিরোধীদের তোপের মুখে বিজেপি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরকালীনই জ্বলে ওঠে দিল্লি। সিএএ সমর্থনকারী ও বিরোধীদের সংঘাত ক্রমেই সাম্প্রদায়িক হিংসায় পরিণত হয়। প্রসঙ্গত, সিএএ-র সমর্থনে বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রর এক জনসভার পর থেকেই দিল্লির উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়ায়। এই কারণে বিরোধীদের তোপের মুখে পড়তে হয় বিজেপিকে।

১৪০০ জনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ
এদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে হিংসা ছড়ানোর ঘটনায় যু্ক্ত থাকার অভিযোগে ১৪০০ জনকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়েছে। এই আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়েই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এরকম উত্তেজনা ছড়ানোর বিষয়টি সামনে আসে। আরও জানতে আটক ব্যক্তিদের জেরা করছে পুলিশ।

দিল্লি হিংসায় ৪৩৬টিরও বেশি মামলা
এছাড়া দিল্লি পুলিশ জানাচ্ছে, ৪৩৬টিরও বেশি অভিযোগ দায়ের হয়েছে হিংসা সম্পর্কিত ঘটনায়। এই মামলাগুলির মধ্যে ৪৫টি হল বেআইনি ভাবে অস্ত্র রাখার দায়ে। তবে এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত আছে বলে দাবি করা হয়। গত ছয় দিনে কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি বলেও তারা জানায়।

একাধিক নিরীহ মানুষ মারা যায় দিল্লিতে
দিল্লির হিংসায় যেমন মারা গিয়েছেন এক পুলিশ কনস্টেবল ও আইবি অফিসার, তেমনই মৃতদের মধ্যে রয়েছেন সদ্য বিবাহিত এক ব্যক্তি, একজন ডিজে, এক ব্যবসায়ী, একজন বাবা যে তাঁর সন্তানদের জন্য টফি কিনতে বেরিয়েছিলেন, একজন ৮৫ বছরের বৃদ্ধা। রেহাই পাননি সাংবাদিকরাও। দিল্লি হিংসা চলাকালীন অশান্ত এলাকায় খবর সংগ্রহে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের রোষের সামনে পড়েছেন সাংবাদিকরা।












Click it and Unblock the Notifications