রাহুলের মাথায় প্রণবের বরাভয়, ফুল ছুঁইয়ে কপালে এঁকে দিলেন রাজ-টিকা
রাহুল গান্ধীও বুঝিয়ে দিলেন আজও কংগ্রেসে সমান গুরুত্বশালী প্রণব মুখোপাধ্যায়। তাই তো কংগ্রেসের ‘ইতিহাস’-এ নাম লেখানোর আগে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আশীর্বাদ নিয়ে এলেন রাহুল গান্ধী।
রাহুল বোঝালেন প্রণব মুখোপাধ্যায় আজও জাতীয় কংগ্রেসে বিশেষ একজন। দেশের প্রাক্তন 'এক নম্বর' নাগরিক হওয়ায় তিনি অনেক নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ। তবু তাঁর মন কাঁদে কংগ্রেসের জন্য। এ ইঙ্গিত তিনি দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি হিসেবে পদত্যাগ করার পরও। তাঁর আত্মজীবনীতেও তিনি কংগ্রেস নিয়ে তাঁর আবেগের কথা জানিয়েছিলেন।

এবার রাহুল গান্ধীও বুঝিয়ে দিলেন আজও কংগ্রেসে সমান গুরুত্বশালী প্রণব মুখোপাধ্যায়। তাই তো কংগ্রেসের 'ইতিহাস'-এ নাম লেখানোর আগে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আশীর্বাদ নিয়ে এলেন রাহুল গান্ধী। এই মাসেই কংগ্রেসের কাণ্ডারি হতে চলেছেন রাহুল। দলের শীর্ষপদে আসীন হওয়ার আগে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আশীর্বাদ যে তাঁর চলার পথের পাথেয় হবে, তা তিনি ভালো মতোই জানেন।
সেই কারণেই মায়ের আশীর্বাদ নিয়েই তিনি ছুটে গিয়েছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়ের দরবারে। এদিন রাহুল প্রণবের বাড়িতে গিয়ে তাঁর কাছ থেকে আশীর্বাদ নেন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় রাহুলের মাথায় ফুল ছুঁইয়ে আশীর্বাদ করেন। কপালে এঁকে দেন তিলক। সেই বিজয় তিলক পরে কংগ্রেসের প্রধাবন কার্যালয়ে আসেন তিনি। নয়াদিল্লির আকবর রোডে কংগ্রেসের প্রধান কার্যালয়ে তিনি মনোনয়ন পেশ করেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে গান্ধী পরিবারের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ইন্দিরা গান্ধীর মন্ত্রিসভায় তিনি যেমন দু-নম্বর ব্যাক্তি ছিলেন, সোনিয়া গান্ধীর আমলেও তিনি দু-নম্বর হিসেবে দলে বরাবরের মতো মর্যাদা পেয়ে এসেছেন। এমনকী রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরও সুযোগ পেলেই তাঁর স্মৃতিচারণায় বারবার উঠে এসেছে ইন্দিরা গান্ধী ও কংগ্রেসের প্রতি তাঁর আবেগের কথা।

নিজের লেখা বই-তেও তিনি সেই কথা উল্লেখ করে গিয়েছেন। ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের পর কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের খানিক অবনতি হয়েছিল। কিন্তু সোনিয়া গান্ধীর আমলে তিনি ফের গান্ধী পরিবারের কাছের মানুষ হয়ে ওঠেন। আজ তিনি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হলেও রাহুল গান্ধী তাঁকে মর্যাদার আসনে বসিয়ে গেলেন।
কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী চেয়েছেন এবার ছেলের হাতে ব্যাটন তুলে দিতে। এতদিনে রাহুল সভাপতি হওয়ার যোগ্য বলে তিনি মনে করছেন। সেইমতো বিগত কোর কমিটির বৈঠকে রাহুলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথামতো নির্বাচনী বিধি মেনেই রাহুল মনোনীত হতে চলেছেন কংগ্রেস সভাপতি পদে।
কংগ্রেসের এই সভাপতি পদে নির্বাচনে মনোনয়ন পেশ করার শেষদিন ছিল মঙ্গলবার। রাহুল ছাড়া আর কারও নামই জমা পড়েনি কংগ্রেস সভাপতি পদে। তাই তিনিই যে সভাপতি হচ্ছেন তা নিশ্চিত। কংগ্রেস সভাপতির আসনে রাহুলের বসা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। মা সোনিয়া গান্ধী ছাড়াও প্রণব মুখোপাধ্যায় ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গেও দেখা করে মনোনয়ন পেশ করতে যান রাহুল।












Click it and Unblock the Notifications