১৪০ কোটি দেশবাসী, অথচ অর্ধেক সম্পদ শুধু ১০০ জনের কাছে! মোক্ষম বাণ হানলেন রাহুল
রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রা উত্তরপ্রদেশ থেকে হরিয়ানায় পৌঁছেছে বৃহস্পতিবারই। শুক্রবার সকালে দ্বিতীয় পর্যায়ে যাত্রা শুরু হতেই পানিপথে রাহুল গান্ধীকে সংবর্ধিত করা হয়।
রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রা উত্তরপ্রদেশ থেকে হরিয়ানায় পৌঁছেছে বৃহস্পতিবারই। শুক্রবার সকালে দ্বিতীয় পর্যায়ে যাত্রা শুরু হতেই পানিপথে রাহুল গান্ধীকে সংবর্ধিত করা হয়। সেখান থেকেই রাহুল গান্ধী একহাত নেন কেন্দ্রের সরকারকে।
রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের জনসংখ্যা ১৪০ কোটি। আর এই দেশে ১০০ জন বড়লোকের হাতে রয়েছে অর্ধেকেরও বেশি সম্পদ। তাহলেই ভাবুন দেশবাসীর কী পরিস্থিতি। ১০০ কোটি জনসংখ্যার দেশের প্রায় সব সম্পদই আহোরণ করছেন মাত্র ১০০ জন ধনবান ব্যক্তি।

রাহুল বলেন, দেশের ৫০ শতাংশ ধনসম্পদ ১০০ জন ধনবান ব্যক্তির কুক্ষিগত রয়েছে। এর মধ্যে কি আপনি কোনও ন্যায় বিচার খুঁজে পাচ্ছেন। এটাই নরেন্দ্র মোদী সরকারের আসল বাস্তবতা। রাহুল গান্ধী বলেন, আপনি দেশের কর্পোরেট সংস্থার লাভের দিকগুলো একবার খেয়াল করুন।
রাহুল বলেন, ২০টি কর্পোরেট সংস্থার মধ্যে ৯০ শতাংশ লাভ কুক্ষিগত হচ্ছে। দেশের ৫০ শতাংশ সম্পদ রয়েছে ১০০ জন ধনী মানুষের হাতে। রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, দুটি ভারত তৈরি করেছে এই সরকার। একটি ভারতে থাকেন গরিব ও সাধারণ মানুষ। আর একটি ভারতে থাকেন ২০০-৩০০ মানুষ। যাদের হাতে অধিকাংশ সম্পদ কুক্ষিগত রয়েছে।
রাহুল গান্ধী বলেন, এ দেশে সাধারণ মানুষের জন্য কিছুই নেই। আপনাদের কাছে রয়েছে পানিপথের বাতাস, কিন্তু তাতেও শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। এটা আসলে ক্যানসার। নোটবন্দি আর জিএসটি গোটা দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের শক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
রাহুল গান্ধী বলেন, চার বছরে মাত্র ২৫ শতাংশ যুবককে স্থায়ী কাজে নেওয়া হবে। আর বাকিরা আবার বেকার হয়ে যাবেন। আর আমি সার্ভিসমেনদের ইস্যু নিয়ে কথা বলি তখন ওরা বলেন, আমি নাকি সরকারবিরোধী কথা বলছি। এদিকে কৃষি আইন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
রাহুলের কথায়, সরকার কৃষক বিরোধী আইন চালু করেছিল। পরে কৃষকরা বাধ্য করেছেন কেন্দ্রের সরকারের ভুল সংশোধন করতে। কিন্তু আমাদের প্রধনমন্ত্রী তাঁর ভুল বুঝতে পারেননি। কৃষকদরে টানা এক বছর ধরে তিনি রাস্তায় থাকতে বাধ্য করেছেন।
রাহুল গান্ধী তাঁর ভারত জোড়ো যাত্রায় দেশবাসীর সেই বঞ্চনার কথা তুলে ধরলেন এদিন। দেশে যে সাম্য, ঐক্য, মেলবন্ধনের বড্ড অভাব, তা তিনি তুলে ধরলেন। এই যাত্রায় তাঁর সঙ্গে শামিল হয়েছেন অনেকেই। তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, প্রাক্তন প্রধান এএস দুলাত, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন, বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। বহু সমাজকর্মী ও সংস্কৃতিজগতের প্রবাদপ্রতিমরাও শামিল হয়েছেন তাঁর যাত্রায়।












Click it and Unblock the Notifications