'আদর্শের যুদ্ধে' পিছোবে না কংগ্রেস, খেলবে একদম 'ফ্রন্ট-ফুট'-এ, লখনউ-এ বার্তা রাহুল গান্ধীর
জন বিস্ফোরণ যাকে বলে। প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর প্রথম রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশে লখনউ-এ এই পরিস্থিতি তৈরি হল। ৩০ কিলোমিটার এই মিছিলের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা কমিয়ে দেওয়া হয়।
জন বিস্ফোরণ যাকে বলে। প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর প্রথম রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশে লখনউ-এ এই পরিস্থিতি তৈরি হল। ৩০ কিলোমিটার এই মিছিলের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা কমিয়ে দেওয়া হয়। শেষমেশ ১২ কিলোমিটার মিছিল করেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। আর এই মিছিলের শেষেই প্রদেশ কংগ্রেস কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দেন জাতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধী। পরিস্কার জানিয়ে দেন মোদী সরকারের বিরুদ্ধে এটা কংগ্রেসের 'আদর্শের যুদ্ধ'। এর থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই। বরং আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে প্রতিটি রাজ্যেই কংগ্রেস একদম 'ফ্রন্ট-ফুট'-এ খেলবে।

প্রদেশ কংগ্রেস কার্যালয়ে এই ভাষণে রাহুল জানিয়েছেন, 'আমরা আসল নেতাদের তুলে ধরি। এরা এমন সব নেতা যারা একদমন নিচু থেকে উঠে এসেছেন। হেলিকপ্টার নেতাদের ছাড়া হবে না। আমি প্রিয়ঙ্কা ও জ্যোতিরাদিত্যকে অনুরোধ করছি তাঁরা মাটির সঙ্গে সম্পর্ক থাকা নেতাদেরই তুলে নিয়ে আসুন।' কেন উত্তর প্রদেশের জন্য প্রিয়ঙ্কা ও জ্যোতিরাদিত্যকে বেছে নেওয়া হয়েছে সেই কারণ ও ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথাও দলীয় নেতা-কর্মীদের সামনে তুলে ধরেন রাহুল গান্ধী। তিনি জানিয়েছেন, 'এই উত্তরপ্রদেশেই কংগ্রেস পার্টির সূচনা হয়েছিল। এখানে আমরা দূর্বল থাকতে চাই না। লোকসভা নির্বাচনে এখনও কিছুটা সময় আছে। এবং বিধানসভা নির্বাচনের জন্য আমাদের হাতে অনেকটা বড় সময় আছে, যা ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত হবে। আমি প্রিয়ঙ্কা ও জ্যোতিরাদিত্য-কে বলতে চাই যে আমরা এখানে যাতে ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারি সেটা তারা নিশ্চিত করুন।'
LIVE: Congress President @RahulGandhi address Party Workers. #NayiUmeedNayaDesh https://t.co/risss1L3YP
— Congress (@INCIndia) February 11, 2019
একটা সময় এই উত্তর প্রদেশ ছিল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু, এখন সেখানকার ভোটবাক্সে কংগ্রেসের হাল খুবই খারাপ। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনেই তাতই উত্তর প্রদেশে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে পড়েছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর নেতৃত্বে উত্তর প্রদেশে কংগ্রেস-এর প্রতি জনাতর আস্থা সেভাবে ফেরেনি। উত্তর প্রদেশে প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর একটা জনপ্রিয়তা আছে। তার সবচেয়ে বড় কারণ তাঁর চেহারার সঙ্গে প্রিয়দর্শিনী ইন্দিরা গান্ধীর সাদৃশ্য। এমনকী, রাহুল যখন রাজনীতিতে পা রাখেননি সেই সময়ই মা সনিয়ার হাত ধরে উত্তর প্রদেশে বহু রাজনৈতিক মিছিলে অংশ নিয়েছেন প্রিয়ঙ্কা। সেই সব মিছিলে বহু মানুষ জমা হতেন স্রেফ প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর মধ্যে ইন্দিরা গান্ধীর ক্যারিশমা-র খোঁজে। এতসত্ত্বেও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী রাজনীতির ময়দানে নিয়মিত হননি। কিন্তু, উত্তর প্রদেশে বিজেপি-র জনপ্রিয়তা ও অখিলেশ-মায়াবতীদের জাত-পাত-এর রাজনীতির মধ্যে থেকে কংগ্রেসের হৃত গৌরব ফেরাতে সেই প্রিয়ঙ্কাতেই ভর করেছে কংগ্রেস।

সেই কারণে এবার প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে সাধারণ সম্পাদকের পদ দিয়ে কংগ্রেসে সরকারিভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাঁর হাতে ছাড়া হয়েছে পূর্ব উত্তর প্রদেশের ভার। প্রিয়ঙ্কার জন্য কাজটা যাতে সহজ হয় সেই কারণে তাঁর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে মধ্যপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে। এই পূর্ব উত্তর প্রদেশেই এলাহাবাদ। এই শহরই নেহরু পরিবারের হোম-টাউন। এমনকী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রীর লোকসভা আসন এটি। এই অঞ্চলেই রয়েছে ফুলপুর লোকসভা। যা জহরলাল নেহরুর আসন ছিল। কিন্তু, গত দুটি লোকসভা নির্বাচনে পূর্ব উত্তর প্রদেশের ফুলপুর ও গোরখপুর আসন কংগ্রেসের মারাত্মক বিপর্যয় হয়েছে। দুইটি লোকসভা আসনেই কংগ্রেস প্রার্থীরা মাত্র ১৯,০০০ করে ভোট টানতে পেরেছিলেন। যা সব ভোটের মাত্র ২ শতাংশ।
পূর্ব উত্তরপ্রদেশে বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদীর বিপুল জনপ্রিয়তা আছে। যোগী আদিত্যনাথের-এর শক্ত ঘাঁটি এটি। কারণ গোরখপুরের নাথ সম্প্রদায়ের শিরোমণি তিনি। আর গোরখপুরের ভোটব্যাঙ্ক অনেকটাই নির্ভর করে নাথ সম্প্রদায়ের উপরে। উত্তর প্রদেশের এমনই এক গড়ে এবার কংগ্রেস-কে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করে দিলেন রাহুল গান্ধী। যা তিনি পারেননি তা প্রিয়ঙ্কা করতে পারেন কি না সেটাই তিনি এবার দেখতে চান। লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস কতটা ভালো ফল করবে তা সময়ই বলবে। কিন্তু, 'আদর্শের যুদ্ধ'-এর কথা রাহুল গান্ধী আখেরে ইন্দিরা গান্ধীর মহিমাকে উত্তর প্রদেশের মানুষের স্মরণে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আর ইন্দিরা ভাবনার এক বাস্তব প্রতিভূ যাতে এখানকার মানুষের সামনে থাকে তার জন্য এগিয়ে দিয়েছেন 'নকল ইন্দিরা' প্রিয়ঙ্কা-কে। বিজেপি এই চাল কী ভাবে সামলায় এখন সেটাই দেখার।












Click it and Unblock the Notifications