'ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই', রাহুল গান্ধীর মন্তব্যে হুমকির মুখে দেশের ঐক্য এবং সার্বভৌমত্ব?
কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার দলনেতা রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে বিতর্ক! আর সেই মন্তব্যেই প্রশ্ন উঠেছে রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক জ্ঞান নিয়ে। বিগত দু'দশক ধরে তাঁর একাধিক মন্তব্য নিয়ে চর্চা হয়েছে। তবে সম্প্রতি রাহুল গান্ধী বলেছেন 'রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই'। আর তা নিয়েই চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বুধবার বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, আমরা লড়াই করছি বিজেপির বিরুদ্ধে, আরএসএসের বিরুদ্ধে এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।
সারল্য নয় কৌশলী মন্তব্য
শুধু তাই নয়, পরে তিনি বলেছেন, এটা কোনও রাজনৈতিক লড়াই নয়। আর তাতেই রাহুল গান্ধীর আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কংগ্রেস নেতার এই মন্তব্য মাওবাদী আদর্শের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর তাতেই বেড়েছে উদ্বেগ।

সাংবিধানিক পদে থাকা একজন ব্যক্তি যে মন্তব্য করেছেন তাতে দেশের সার্বভৌমত্বকে অসম্মান করা হয়েছে বলে দাবি। শুধু তাই নয়, রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য যে কোনও মুখ ফসকে কথা বলা নয়, বরং এক বিশেষ কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে তাঁর কথা এড়িয়ে যাওয়া কঠিন।
ভারতকে দেশ হিসাবে মান্যতা দেন না
এই প্রথমবার দেশের ঐক্য নিয়ে যে রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তুললেন তা নয়। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, ভারত কোনও দেশ নয়। কিছু রাষ্ট্রের সমষ্টি মাত্র। এই মন্তব্যেও জাতীয়তাবাদ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আর তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য বুঝিয়ে দিচ্ছে যে ভারতকে তিনি এক ঐক্যবদ্ধ দেশ হিসাবে মানেন না।
ভারতের পরিচিতকে আক্রমণ
ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই'য়ের কথা ঘোষণা করে রাহুল গান্ধী পরোক্ষ ভাবে দেশের ঐক্য, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত এবং সংবিধানকে নিশানা করেছেন। শুধু তাই নয়, ভারতের সার্বভৌমত্বকেও চ্যালেঞ্জ করেছেন। এমনকি ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রাহুল গান্ধী তুলে দিয়েছেন। আর এই ধর্মনিরপেক্ষতায় গোটা দেশকে এক সূত্রে বেঁধে রেখেছে।
সংবিধানের নীতি
ভারতের সংবিধানের আর্টিকেল ১২ অনুযায়ী, লোকসভা, বিধানসভা থেকে শুরু করে স্থানীয় পঞ্চায়েত নিয়েই তৈরি গোটা রাষ্ট্র। আর তাই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই'য়ের কথা বলে রাহুল গান্ধী সমস্ত সাংবিধানিক ক্ষেত্রকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। এমনকি সেই তালিকায় আছে সুপ্রিম কোর্ট থেকে লোকসভাও।
পুরানো ভুলের পুনরাবৃত্তি
রাহুল গান্ধী যে এমন মন্তব্য প্রথমবার করলেন তা কখনই নয়। ইউপিএ জমানায় মন্ত্রিসভার প্রস্তাব প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলেছিলেন কংগ্রেসের এই সাংসদ। এছাড়াও স্পর্শকাতর সময়ে দাঁড়িয়ে চিনের সঙ্গে বৈঠক করা, বিভিন্ন বৈদেশিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা বিতর্ক বাড়িয়েছে দিনের পর দিন। রাহুল গান্ধীর উদ্দেশ্যে কি তা নিয়ে বারবার সন্দেহ তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতি।
বিতর্কিত উদ্দেশ্য এবং বিপদজনক সঙ্গী
কখনও সিআইএ'র সঙ্গে যোগাযোগ আবার কখনও ভারত বিরোধী শক্তির সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাহুল গান্ধী। বিতর্কিত সোমালি-আমেরিকান রাজনীতিবিদ ইলহান ওমরের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। এমনকি ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলে তাঁদের সঙ্গেও কংগ্রেসের লোকসভার বিরোধী দলনেতার যোগাযোগ সামনে এসেছে বারবার। এর ফলে ভারতের প্রতি তাঁর যে প্রতিশ্রুতি তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
ঐক্য এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে আক্রমণ
শুধুমাত্র বিশ্বের মঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করাই নয়, ধর্মনিরপেক্ষতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয় রাহুল গান্ধীর মন্তব্য। এহেন মন্তব্যের জেরে তৈরি হতে পারে বিভাজন। মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে দেশ বিরোধী শক্তি।
উত্তর দিতে হবে
রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই'য়ের কথা বলার পর দেশবাসীকে ব্যাখ্যা দিতে হবে রাহুল গান্ধীকে। দিতে হবে উত্তর। ভুললে চলবে না এই দেশই তাঁর পরিবারকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছিল। এমন একটা সময় যখন ভারতের নেতৃত্বের প্রয়োজন তখন রাহুল গান্ধীর মন্তব্য অবিশ্বাস এবং বিভাজনের বীজ বপণ করছে। একই সঙ্গে পুরানো দলের ভাবমূর্তিও নষ্ট হচ্ছে সবার সামনে।












Click it and Unblock the Notifications