‘একজনকে গ্রেফতার করলে হাজার হাজার সত্যের কণ্ঠের জন্ম হবে’, সাংবাদিক গ্রেফতারির বিরোধিতায় রাহুল
‘একজনকে গ্রেফতার করলে হাজার হাজার সত্যের কণ্ঠের জন্ম হবে’, সাংবাদিক গ্রেফতারির বিরোধিতায় রাহুল
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে সোমবার দিল্লি পুলিশ সাংবাদিক তথা অল্ট নিউজ ওয়েবসাইডের সহ প্রতিষ্ঠাাতা মহম্মদ জুবায়েরকে দিল্লি পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের বিরোধিতা করে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। টুইটারে তিনি বলেন, বিজেপির ঘৃণা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে সরব হওয়া প্রতিটি নাগরিককের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে সত্যের জয় হবেই। একজনকে গ্রেফতার করলে হাজার হাজার সত্যের কণ্ঠের জন্ম হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রাক্তন বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার বিতর্কিত মন্তব্। জুবায়ের প্রথম প্রকাশ্যে আসে। এরপরেই দেশ বিদেশে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

রাহুল গান্ধীর প্রতিক্রিয়া
মহম্মদ জুবায়েরের গ্রেফতার ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুল গান্ধী নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি বিজেপিকে ধর্মান্ধ বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বিজেপির ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে যে মুখ খুলবেন, তাঁকেই বিপদের মুখে পড়তে হবে। এভাবে সত্যকে চেপে রাখা যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। মঙ্গলবার ট্যুইটারে রাহুল গান্ধী লেখেন, বিজেপির ধর্মান্ধতা, মিথ্যাচার ও ঘৃণার বিরুদ্ধে সরব হওয়া প্রতিটি নাগরিক দলের জন্য হুমকির কারণ। সত্য সব সময় অত্যাচারকে সরিয়ে জয়ী হয়।

কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া
রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি কংগ্রেসের সাধারন সম্পাদক জয়রাম রমেশ সাংবাদিক মহম্মদ জুবায়েরকে সমর্থন করেছেন। টুইটারে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেনয তিনি মনে করেন, একাধিক ভুয়ো খবর জুবায়ের প্রকাশ্যে এনেছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লোকসভায় মানিকম ঠাকুর মহম্মদ জুবায়েরের মুক্তি দাবি করেছেন। টুইট করে তিনি লেখেন, দিল্লি পুলিশ মহম্মদ জুবায়েরকে গ্রেফতার করে ভুল করেছে। অবিলম্বে তাঁকে মুক্তি দিতে হবে। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে বার বার সত্য খবর প্রকাশ করে মহম্মদ জুবায়েরকে মানুষকে বিভ্রান্তির হাত থেকে রক্ষা করেছেন।

মহম্মদ জুবায়েরের বিরুদ্ধে অভিযোগ
দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, টুইটারে একটি পোস্টের ভিত্তিতে জুবায়েরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়। উপযুক্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, টুইটারে একটি নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে একটি ছবি ও যে শব্দ ব্যবহার জুবায়ের ব্যবহার করেছিলেন তা প্ররোচনামূলক। জুবায়েরকে গ্রেফতারের পর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করে পুলিশ। ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর একদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। ২০১৮ সালে ট্যুইটারে একটি পোস্টের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছিলেন। টুইটার পোস্ট মহম্মদ জুবায়ের লেখেন, '২০১৪ সালের আগে হানিমুন হোটেল। ২০১৪ সালের পরে রয়েছে হনুমান হোটেলে।'

দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ
অল্ট নিউজের সহ প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক সিনহা অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে একটি মামলায় তদন্তের জন্য মহম্মদ জুবায়েরকে তলব করে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। তারপর জুবায়েরকে সুরক্ষা কবচ দিয়েছিল হাইকোর্ট। সোমবার ৬.৪৫ মিনিটে দিল্লি পুলিশ জানায়, অন্য একটি মামলায় জুবায়েকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ এফআইয়ের কোনও কাগজ দেখাতেও অস্বীকার করে।












Click it and Unblock the Notifications