রাহুল গান্ধী কি হাথরাস যাচ্ছেন? পদপিষ্ট হওয়া পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে তাঁর পরিকল্পনাই বা কী?
মঙ্গলবার উত্তর প্রদেশের হাথরাসে পদপিষ্ট হয়ে ১২১ জনের মৃত্যুর পরদিনই এলাকা পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী যোদী আদিত্যনাথ। তিনি হাসপাতালেও যান আহতদের দেখতে। ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এদিকে বিরোধী দলগুলি বিশেষ করে কংগ্রেস হাথরাস বিষয়টিকে এখনই হাতের বাইরে যেতে দিতে নারাজ। ঘটনার পরেই তারা সরকারি অনুমতি দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এবার দলের সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেনুগোপাল জানিয়েছেন, হাথরাসের ঘটনা দুঃখজনক। রাহুল গান্ধী শীঘ্রই হাথরাসে গিয়ে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন।

- চলছে পুলিশের তল্লাশি
মঙ্গলবার দুপুরে হাথরাসে ভোলে বাবার সৎসঙ্গের শেষে পদপিষ্ট হয়ে কমপক্ষে ১২৩ জনের প্রাণ যায়। তারপর থেকে পলাতক ভোলে বাবা। ভোলে বাবার অনুগামীদের গ্রেফতার করতে জোরদার তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে উত্তর প্রদেশ পুলিশ। হাথরাস ছাড়াও ইটাওয়া, মইনপুরী, কাসগঞ্জ, ফারুখাবাদ, মথুরা, আগ্রা, মিটার-সহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছে। পুলিস এখনও পর্যন্ত ৩০ জনের বেশি ভোলেবাবা অনুগামীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
- কী বলছেন সমাজবাদী সাংসদ
এদিকে হাথরাসের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নিয়ে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রামগোপাল যাদব জানিয়েছেন, ভিড় বেশি হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ভোলে বাবার প্রতি মানুষের এতটাই আস্থা যে ব্যাপক জনসমাগম হয়েছিল। মঙ্গলবারে ঘটনাটি ষড়যন্ত্র না কোনও দুর্ঘটনা, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। তিনি বলেছেন, এই ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়ার আগে সরকারের উচিত স্টান্ডার্ড অপারেটিং প্রোসিডিওর অনুসরণ করা। সেখানে কত ভিড় হতে পারে, পরিবহণ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আগে থেকেই ভাবনা-চিন্তা থাকা উচিত।
- ঘটনা থেকে শিক্ষা সরকারের
এদিকে মঙ্গলবারের মর্মান্তিক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার বলছে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধ করতে বড় সমায়েতের অনুমতি দেওয়ার আগে এসওপিগুলো নিয়েও ভেবে দেখা হবে। মৌলিক ও ন্যূনতম শর্মগুলি পূরণ হলেই, এই ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উত্তর প্রদেশে মন্ত্রী অসীম অরুণ।
- কেন হয়েছিল দুর্ঘটনা?
সূত্রের খবর প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, সেখানে ৮০ হাজার মানুষের উপস্থিতির কথা বলা হলেও, প্রায় দুইলক্ষ মানুষের জমায়েত হয়েছিল। অনুগামীরা ভোলে বাবার পায়ের চারপাশ থেকে মাটি সংগ্রহের চেষ্টাও করেছিলেন। সেই সময় ভোলে বাবার নিরাপত্তা কর্মীরা অনুগামীদের ধাক্কা দিতে শুরু করে। যে কারণে রাস্তার ধার থেকে কিছু লোক নিচে পড়ে যান। সেই সময় আতঙ্ক তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অনুগামীদের মধ্যে আতঙ্কের জেরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পড়ে যাওয়া ভক্তদের ওপর দিয়েই বাকিরা চলে যায়।
সরকারি রিপোর্টে বলা হয়েছে, সংগঠকদরে তরফে সেখানে ভিড় ঠেকাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। ধর্মীয় সভার জন্য নির্ধারিত জায়গায় ঢোকা ও বেরনোর জন্য একটি করে প্রবেশ ও প্রস্থান পথ ছিল।












Click it and Unblock the Notifications