রাহুলের বিপদ বাড়ছে মোদী পদবি মামলায়! ঝাড়খণ্ড আদালতে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ
রাহুল গান্ধীর বিপদ বেড়েই চলেছে। মোদী পদবি মামলায় একের পর এক আদালতে তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে যাচ্ছে। গুজরাত হাইকোর্টে সুরক্ষা কবচ না পাওয়ার পর বুধবার ঝাড়খণ্ড আদালতেও তিনি ধাক্কা খেলেন। এদিন ঝাড়খণ্ড আদালত তাঁকে সসশীরের হাজিরার নির্দেশ দিল।
মোদী পদবি নিয়ে এক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে করা মামলার দোষীসাব্যস্ত হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। তারপরই তাঁর লোকসভার সাংসদ পদ খারিজ হয়ে যায়। এই মানহানির মামলায় রাহুল গান্ধী অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার জন্য গুজরাত হাইকোর্টে আবেদন করেও স্বস্তি পাননি। তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয় গুজরাত হাইকোর্ট।

এবার ঝাড়খণ্ড আদালত জানিয়ে দিল মোদী পদবি মামলায় রাহুল গান্ধীকে আইনজীবী মাদ্যমে সওয়াল করলে হবে না। এই মামলায় সশরীরে আদালতে হাজিরা দিতে হবে। প্রণব মোদী নামের এক আইনজীবী রাঁচির ওই আদালতে মামলা করেন রাহুলের বিরুদ্ধে। ঝাড়খণ্ডে আরও দুটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলারও শুনানি চলছে।
মঙ্গলবার মানহানির মামলায় রাহুল গান্ধী অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা পাননি। গুজরাত হাইকোর্ট। বিচারপতি হেমন্ত প্রচ্ছক জানান, গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দেওয়ার কোনো নির্দেশ তিনি দেননি। ফলে সুরক্ষা কবচ মেলেনি রাহুল গান্ধীর।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কর্নাটকের জনসভা থেকে 'মোদী পদবি' নিয়ে এক মন্তব্যের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মানহানির মামলায় দোষীসাব্যস্ত হয়ে দু-বছরের কারাদণ্ডের সাজা পান রাহুল গান্ধী। রাহুল গান্ধীকে একইসঙ্গে একমাসের জামিনও দিয়েছিল নিম্ন আদালত।

কিন্তু এবার গুজরাত হাইকোর্টে সেই মেয়াদ বৃদ্ধি করল না। এর ফলে রাহুল গান্ধীর বিপদ বাড়ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাঁর জেলযাত্রা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। রাহুল গান্ধীর আবেদনের শুনানির দ্বিতীয় দিনে বিচারপতি হেমন্ত প্রচ্ছক এই মামলার রায় ঘোষণার দিন পিছিয়ে দেন।
গুজরাতের উচ্চ আদালত গ্রীষ্মকালীন ছুটির জন্য ৮ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তারপর চূড়ান্ত রায় দেবেন বিচারপতি। চূড়ান্ত রায়ের প্রত্যাশিত সময়সীমা নির্দেশ করার পরে রাহুল গান্ধীর আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট অভিষেক মনু সিংভি অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তা খারিজ সহয়ে যায়।

বিচারপতি প্রচ্ছক বলেন, তিনি চূড়ান্ত রায় দেওয়ার আগে সুরাতের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে ঘটে যাওয়া পুরো বিচার প্রক্রিয়াটি শুনতে চান। কিন্তু এখন বিচারপতি রায় পিছিয়ে দিয়ে রাহুল গান্ধীকে বিপাকে ফেলে দিয়েছেন। তারপর ঝাড়খণ্ডের একাধিক মামলায় তাঁকে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৩ মার্চ রাহুল গান্ধীকে গুজরাতের সুরাত আদালতে মোদী পদবি মামলায় দু-বছরের কারাদণ্ডের সাজা দেয়। তারপর লোকসভার তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে তাঁর সংসদ সদস্যপদও কেড়ে নেওয়া হয়। দিল্লির বাংলোও ছাড়তে হয় তঁকে। এর মধ্যে সুরাতের ফৌজদারি আদালতে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি রাহুল গান্ধীর। এখন তিনি গুজরাত হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েও কোনো সুরাহা করতে পারলেন না।












Click it and Unblock the Notifications