মোদীকে হারাতে অবস্থান বদল, প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়ার বার্তায় মাস্টারস্ট্রোক রাহুলের
দুদিন আগেই ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে রাহুল গান্ধীকে বিরোধী জোটের মুখ ও প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছিল কংগ্রেস। কিন্তু এরপরই কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী তথা কংগ্রেস হাইকম্যান্ড অবস্থান বদল করল
দুদিন আগেই ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে রাহুল গান্ধীকে বিরোধী জোটের মুখ ও প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছিল কংগ্রেস। কিন্তু এরপরই কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী তথা কংগ্রেস হাইকম্যান্ড অবস্থান বদল করল। নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে নেওয়া বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

রাহুল গান্ধী আগে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেও এখন জোটের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী পদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা মায়াবতী বা অন্য কাউকেএ ছাড়তে রাজি আছেন। তাঁর কথায়, যিনি বিজেপি-আরএসএসকে হারাতে মুখ্য ভূমিকা নেবেন, তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়তে হলে দুবার ভাববেন না তিনি। তিনি চান, দিল্লির মসনদ থেকে নরেন্দ্র মোদীকে হটাতে।
কংগ্রেস হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভোটের পর জোটই স্থির করবে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন। সেখানে রাহুল গান্ধী ছাড়াও অনেক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন। রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মায়াবতী, শারদ পাওয়ার, চন্দ্রবাবু নাইডু-র মতো অনেকেই। তাই জোট জিতলে প্রধানমন্ত্রী স্থির করার ভার সর্বসম্মতভাবে জোটেরই। সংবিধান রক্ষা করবে এমন কাউকে বেছে নেওয়াই শ্রেয় হবে।
এদিন লালুপ্রসাদ পুত্র তেজস্বী যাদবও জানিয়েছেন সংবিধান রক্ষা করবে এমন কোনও নেতাকে বেছে নিতে হবে প্রধানমন্ত্রীর পদে। এই পদের দাবিদার অনেকেই। সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন, আমার মতে শুধু রাহুলজি প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে নেই, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দাবিদার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মায়বতী, চন্দ্রবাবু, শারদ পাওয়ারও।
তৃণমূল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁদের নেত্রী চান, প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী স্থির হবে ভোটের পর। তা আলোচনা করেই স্থির হবে। কেউ এগিয়ে বা পিছিয়ে নেই। এখন জোট গড়ে বিজেপিকে হারানোই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি নিশ্চিত যে জোট গড়ে লড়াই করলে বিজেপি হারবেই। দিল্লির মসনদ থেকে মোদী-রাজের অবসান হবেই।
উল্লেখ্য, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীও বলেন, আমার প্রধান লক্ষ্য হল মোদীকে ক্ষমতাচ্যুত করা আর বিজেপি-আরএসএসকে রোখা। তার জন্য তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কোনও দরকার নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মায়াবতী, শরদ পাওয়ার-রা রয়েছেন। প্রয়োজনে তাঁরা বসে ঠিক করতে পারেন কে হবেন প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী। এদিন নমনীয় রাহুল গান্ধী ফের আদর্শ নেতার মতোই সিদ্ধান্ত নিলেন, বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications