মোদীকে টেক্কায় রাহুল পেলেন ২০১৯-এর মাইলেজ! বিজেপি-গড় খানখান সবুজ ঝড়ে
লোকসভার আগে মাইলেজ পেয়ে গেল রাহুল-ব্রিগেড। ফের কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর নেতৃ্ত্বে বড় জয় পেল বিজেপি বিরোধী জোট। পথ দেখাল কর্ণাটক।
লোকসভার আগে মাইলেজ পেয়ে গেল রাহুল-ব্রিগেড। ফের কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর নেতৃ্ত্বে বড় জয় পেল বিজেপি বিরোধী জোট। পথ দেখাল কর্ণাটক। কংগ্রেস-জেডিএস জোটের হাতে পর্যুদস্ত হল নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি। খান খান হয়ে গেল গেরুয়া গড়। এই জয়কে কংগ্রেস নেতৃত্ব ব্যাখ্যা করল ক্রিকেটীয় ভাষায়।

রাহুল যেন বিরাট কোহলি
কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে ভারতীয় ক্রিকেট দলনায়ক বিরাট কোহলির সঙ্গে তুলনা করে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা পি চিদম্বরম বলেন, এ যেন আমাদের বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ৪-১ ফলাফলে টেস্ট সিরিজ জয়। আমাদের বাড়তি পাওয়া বেলারি আসন ছিনিয়ে নেওয়া। এই জয় যে আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে মোদী বিরোধী জোট যে মাইলেজ পাবে তা বলাই বাহুল্য।

জোট-অঙ্কে ধরাশায়ী বিজেপি
কর্ণাটকে মোট পাঁচটি কেন্দ্রে নির্বাচন ছিল। তিনটি লোকসভা কেন্দ্র ও দুটি বিধানসভা কেন্দ্র। পাঁচটি কেন্দ্রেই কংগ্রেস-জেডিএস জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করে। আর জোটশক্তির কাছে ধরাশায়ী হয় বিজেপি। আবারও এই জয় দেখিয়ে দিল ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে জোট হলে বিজেপিকে হারানো সম্ভব। কর্ণাটক বিধানসভায় কুমারস্বামীর শপথগ্রহণের উপনির্বাচনও সেই বার্তা দিয়ে গেল।

কংগ্রেসের বেলারি প্রাপ্তি
এই সেই বেলারি লোকসভা কেন্দ্র, যেখানে সোনিয়া গান্ধী ১৯৯৯ সালের নির্বাচনে পর্যুদস্ত করেছিলেন বর্তমান বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে। তারপরের নির্বাচনগুলিতে অবশ্য বিজেপি এই কেন্দ্রটি ধরে রাখতে সমর্থ হয়। ২০০৪, ২০০৯ ও ২০১৪ তিনটি নির্বাচনেই জয়লাভ করে বিজেপি প্রার্থী। সেই কেন্দ্রটি আবার কংগ্রেসের দখলে এল। ১৪ বছর পর কংগ্রেস প্রার্থী ভিএস উগারাপ্পা এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী জে শান্তাকে পরাজিত করে বিপুল ব্যবধানে।

শিমগায় মানরক্ষা বিজেপির
শিমগা কেন্দ্রটি বিজেপির দখলে ছিল। এবারও এই কেন্দ্রে বিজেপি জয়ী হয়েছে। কিন্তু এই কেন্দ্রের হিসেবও পাল্টে যাচ্ছিল। কানঘেঁষে কোনওরকমে বেরিয়ে গিয়েছে। জোটের জেডিএস প্রার্থী প্রায় হারিয়েই দিয়েছিলেন কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পার ছেলে রাঘবেন্দ্রকে। জেডিএস প্রার্থীও ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এস বঙ্গরাপ্পার পুত্র মাধু বঙ্গরাপ্পা। মাত্র ৫২ হাজার ভোটে পরাজিত হন তিনি। অপর কেন্দ্র মন্দায় এর আগে লড়াই ছিল কংগ্রেস বনাম জেডিএসের। এবার তারা জোটবদ্ধ তাই এই কেন্দ্রে জোট প্রার্থী জয় নিয়ে কোনও প্রশ্নই ছিল না।

কর্ণাটকের পথে দেশ?
কর্ণাটক পথ দেখাচ্ছে। জোট রাজনীতির ভবিষ্যৎ ফল হাতেনাতে দেখিয়ে দিল কংগ্রেস ও জেডিএস। রাহুল গান্ধী যে সঠিক পথেই এগোচ্ছেন ২০১৯-এর লড়াইয়ে তা আবারও বুঝিয়ে দিল কর্ণাটক। এরপর উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র-সহ অন্যান্য রাজ্যগুলিতে যদি সঠিকভাবে জোট করা হয়, তবে বিজেপির ক্ষমতা ধরে রাখা যে সহজ হবে না, তা পরিষ্কার।

রাহুল নমনীয় জোট-রাজনীতিতে
কর্ণাটক উপনির্বাচনের পর দেশের রাজনীতিতে আবারও জোট-চর্চা শুরু হবে প্রবলভাবে। এবং আঞ্চলিক দলগুলিও আগ্রহী হয়ে উঠবে। সবথেকে বড় কথা রাহুল গান্ধী এখন অনেক বেশি নমনীয় আঞ্চলিক দলগুলিকে নিয়ে। আগের থেকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। জোটের জন্য স্বার্থত্যাগ করছেন। তার প্রমাণও দিয়েছেন মন্দা কেন্দ্রের নির্বাচন। এই কেন্দ্রে বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছিল জোট প্রার্থীর বিরুদ্ধে। সেই প্রার্থীকে আমল দেয়নি দল, আমল দেননি ভোটাররাও। এই কেন্দ্রে জোটের জেডিএস প্রার্থীর দিকেই সিংহভাগ সমর্থন ছিল। মাত্র ১৭ হাজার ভোট পেয়েছেন বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস প্রার্থী।












Click it and Unblock the Notifications