২০২৪-এ মোদী বিরোধী মুখ হিসেবে পদস্খলন রাহুলের! লড়াই এবার দিদি-ভাইয়ের
২০২৪-এ মোদী বিরোধী মুখ হিসেবে পদস্খলন রাহুলের! লড়াই এবার দিদি-ভাইয়ের
২০১৪-র নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী দিল্লির কুর্সি দখলের পর বিরোধী নেতা হিসেবে উঠে আসেন রাহুল গান্ধী। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে সামনে রেখেই বিরোধীরা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে। কিন্তু সেই লড়াইয়ে ডাহা ফেল করেন রাহুল গান্ধী। তারপর থেকেই তিনি পিছু হটেন মোদী-বিরোধী মুখ হিসেবে।

রাহুলকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে এলেন অরবিন্দ
সম্প্রতি পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবি রাহুল গান্ধীকে মোদী বিরোধী মুখ হয়ে ওঠার লড়াই থেকে প্রায় ছিটকে দিল। এতদিন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বিকল্প মুখ হিসেবে লড়াই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পাঞ্জাবের নির্বাচনে আম আদমি পার্টির উত্থানের পর মোদী বিরোধী মুখ হয়ে ওটার লড়াইয়ে রাহুলকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে এলেন অরবিন্দ কেজরিওয়ালের।

বিরোধী মুখ : মমতা বনাম কেজরিওয়াল
এবার মোদী বিরোধী মুখ হয়ে ওঠার লড়াইয়ে দিদি বনাম ভাই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সখ্যতা রয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। বরাবর একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে এসেছেন। বিজেপি যখন কেন্দ্রীয় সংস্থাকে লেলিয়ে দিয়েছে, তখন একে অপরকে সাহস জুগিয়েছেন। কিন্তু এবার তাঁরা অন্য এক লড়াইয়ে শামিল হতে পারেন।

জাতীয় রাজনীতিতে বিকল্প মুখের লড়াই
অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি দিল্লির পর পাঞ্জাব দখল করেছে। তারপর আরও বেশ কিছু রাজ্যে তারা সাংগঠনিক বিস্তার শুরু করেছে। এদিকে তৃণমূলও চেষ্টা করচে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়তে। এখন তাঁদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে বিকল্প মুখ উঠতে।

কংগ্রেস এখনও বিজেপি বিরোধী প্রধান দল
তবে একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, আম আদমি পার্টি ও তৃণমূল কংগ্রেস এখন পর্যন্ত দু-একটি রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আম আদমি পার্টি একমাত্র আঞ্চলিক দল, যারা এক রাজ্য ছাড়িয়ে অপর রাজ্যে সরকার গঠন করতে সম্ভবপর হয়েছে। কিন্তু কংগ্রেস এখনও বিজেপি বিরোধী একমাত্র দল যাঁরা বেশিরভাগ রাজ্যেই তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।

রাহুল গান্ধী শোচনীয় ব্যর্থ শেষ ৩ বছর
তাই কংগ্রেসকে ছাড়া বিজেপি-বিরোধী ঐক্য কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েই যায়। কিন্তু কংগ্রেস যদি বিরোধীদের নেতৃত্বে থাকেও, তাদের নেতৃত্ব নিয়ে সমস্যা চরমে। কারণ কংগ্রেসের অন্দরেই এখন নেতৃত্ব সংকট তৈরি হয়েছে। রাহুল গান্ধীর উপর ভরসা করতে পারছেন না কংগ্রেসের একটা বড় অংশ। কারণ ২০১৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত রাহুল গান্ধী শোচনীয় ব্যর্থ।

রাহুল গান্ধীর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন কংগ্রেসে
২০১৯-এর আগে যেভাবে রাহুল সক্রিয় থেকেছেন, দলকে সামনে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন, ২০১৯-এর পরবর্তী সময়ে তিনি তা পারছেন না। কংগ্রেস সভাপতিত্ব ছাড়ার পর থেকে রাহুল পিছিয়ে পড়েছেন ক্রমশ। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী তাঁর সঙ্গী হয়েও কংগ্রেসর হাল ফেরাতে পারেনি। সম্প্রতি পাঁচ নির্বাচনে হারের পর কংগ্রেসের অন্দরে তাই রাহুল গান্ধীর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে পড়েছে।

গান্ধী পরিবারের দিকে আঙুল উঠছে ফের
রাহুলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেসের জি-২৩ নেতৃত্ব। বারবার নির্বাচনে ব্যর্থ হয়েও কংগ্রেসের শীর্ষনেতৃত্বের কোনও হেলদোল নেই। তাঁদের সম্বিত এখনও ফেরেনি। তাই জি-২৩ বৈঠকে রাহুলের নেতৃত্ব-সহ গান্ধী পরিবারের দিকে আঙুল তুলতে চাইছে।

কংগ্রেসের জি-২৩ বৈঠকে প্রবীণ নেতাদের ক্ষোভ
এখন প্রশ্ন কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেতারা সোনিয়া গান্ধীর ডাকে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে যোগ দেবেন কি না। যদিও বা তাঁরা যোগ দেন, সেখানে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তাঁরা ফের গান্ধী পরিবারের দিকে আঙুল তোলার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন।

মোদী-বিরোধী মুখের লড়াইয়ে পিছু হটছে রাহুল
এই অবস্থায় ঘরে-বাইরে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছেন রাহুল গান্ধী। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন শুধু বিরোধী অন্য দলগুলিই তুলছে না, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে চলেছে কংগ্রেসের অন্দরেই। দলের প্রবীণ নেতারাই রাহুলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে কংগ্রেসকে অস্বস্তিতে ফেলে দিতে চলেছেন। রাহুলের নেতৃত্বে যে কংগ্রেস কোনও ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছে না, তা প্রকট করে দিতে চলেছেন দলের প্রবীণ নেতারাই। রাহুল তাই ২০২৪-এ মোদী-বিরোধী মুখ হিসেবে পিছিয়ে পড়ছেন লড়াইয়ে।












Click it and Unblock the Notifications