যুদ্ধের হোক না হোক, ফ্রান্সের হাত ধরে ভারতকে স্ট্র্যাটেজিক জয় এনে দিল রাফাল!
১৯৮০ সালে পাকিস্তান যখন আমেরিকা থেকে এফ ১৬ কিনেছিল, তখন থেকেই ভারত নিজেদের বায়ুসেনাকে আপগ্রেড করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। কারণ সেই সময় ভারতের হাতে থাকা মিগ ২১ ও মিগ ২৩ পাক বিমাননের তুলনায় অনেক দুর্বল ছিল। তবে সেই সময় কাটিয়ে এখন অ্যাডভান্টেজ ভারত। পাকিস্তান ও চিনের বায়ুসেনাকে এখন রাফআলের সাহায্যে অনায়াসে টেক্কা দিতে পারবে ভারত।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান
এদিন দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের পর ভারতের মাটিতে অবতরণ করে রাফায়েল যুদ্ধবিমান। ৭ হাজার কিমি পথ অতিক্রম করে এদিন আম্বালার বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে পাঁচটি রাফাল যুদ্ধবিমান। অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই রাফালগুলিকে দেওয়া হয় ওয়াটার স্যালুট। রাফালের অবতরণের মুহূর্তে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বায়ুসেনা প্রধান, সিডিএস বিপিন রাওয়াত সহ বাহিনীর অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্তারা।

ভারত-ফ্রেঞ্চ বোঝাপড়া
রাফালকে বলা হয়, মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট। অনেক উঁচু থেকে হামলা চালানো, যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা, মিসাইল নিক্ষেপ এমনকি পরমাণু হামলা চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে রাফালের। পাকিস্তান ও চিনের আগ্রাসন বন্ধ করতে রাফাল ফাইটার জেট বায়ুসেনার অন্যতম অস্ত্র হয়ে উঠবে বলেই মত বায়ুসেনার। এর আগে বায়ুসেনার হাতে বিদেশি বিমান বলতে শুধু মিরাজ ২০০০-ই ছিল। সেটিও ফ্রান্সের দাসোঁ থেকেই কিনেছিল ভারত।

৫৯ হাজার কোটি টাকা দামের ৩৬টি রাফাল
দেশে রাফাল চলে আসায় এবার চিন ও পাকিস্তানের উপর একপ্রকার চাপ তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৬-র সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সের সরকারের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ভারত। মোট ৩৬টি রাফাল কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল। ফ্রান্সের রাফাল নির্মাতা সংস্থা দাসোঁ অ্যাভিয়েশন জানিয়েছিল, মোট ৫৯ হাজার কোটি টাকা দামের ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান তারা তুলে দেবে ভারতের হাতে। তখন থেকেই রাফাল নিয়ে চর্চা শুরু হয়।

বায়ুসেনার শক্তিবৃদ্ধি
চিনের সঙ্গে সংঘাতের আবহে রাফাল যুদ্ধবিমানের হাত ধরে বায়ুসেনার শক্তিবৃদ্ধি গোটা দেশকেই নতুন করে অক্সিজেন জোগাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এদিকে ২০১৬ সালের ভারত ও ফ্রান্সের চুক্তি অনুযায়ী বর্তমানে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান পাওয়ার কথা রয়েছে ভারতের। তার মধ্যেই প্রথম ৫টি চলে এল। এই রাফায়েল জেটগুলি বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম। পাশাপাশি এর মধ্যেই এয়ার-টু- এয়ার এবং স্কাল্প ক্রুইজ ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে।

চিনকে টেক্কা দেবে ভারতের রাফাল
চিনের 'স্টেলথ এয়ার সুপিরিওরিটি ফাইটার' জে-২০-র সঙ্গে এর তুলনায় নতুন এই রাফাল কোনও অংশে পিছিয়ে নেই। যদিও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে রাফাল আসার পরে আকাশ-যুদ্ধের প্রযুক্তিতে চিনকে পিছনে ফেলে দিতে চলেছে ভারতীয় বায়ু-সেনা। পাশাপাশি উৎকর্ষের দিক থেকেও ভারতের অন্যতম প্রধান প্রতিযোগী পাকিস্তান বিমানবাহিনীও কার্যত ধারের কাছে আসে না।












Click it and Unblock the Notifications