সোমবার থেকে চালু অন্তর্দেশীয় বিমান পরিষেবা, রাজ্যগুলির কোয়ারেন্টাইন বিধি জেনে নেওয়া যাক
সোমবার থেকে চালু অন্তর্দেশীয় বিমান পরিষেবা, রাজ্যগুলির কোয়ারেন্টাইন বিধি জেনে নেওয়া যাক
পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র এবং তামিলনাড়ুর তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও প্রায় দুই মাস পর কাল বা সোমবার অন্তর্দেশীয় বিমান পরিষেবা চালু করছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের কোন রাজ্য কী ধরনের কোয়ারেন্টাইন বিধি মেন অন্য রাজ্যের বিমান যাত্রীদের স্বাগত জানাবে, তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক। এই ইস্যুতে রাজ্যগুলিকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে কেন্দ্র।

দিল্লি
১) যে বিমান যাত্রীদের শরীরে করোনা ভাইরাসের কোনও লক্ষণ থাকবে তাঁদের সহজেই এয়ারপোর্ট থেকে বেরোতে দেওয়া হবে।
২) যাঁদের শরীরে কোভিড ১৯-এর সামন্যতম লক্ষণ পরিলক্ষিত হবে, তাঁদের হয় ঘরে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক আইসোলেশন, নয় সরকারি কিংবা বেসরকারি কেন্দ্রে গিয়ে থাকতে হবে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁদের শরীরে কোভিড ১৯ টেস্ট করা হবে বলে জানিয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকার।
৩) যে বিমানযাত্রীদের শরীরে কোভিড ১৯-এর সম্পূর্ণ লক্ষণ পরিলক্ষিত হবে, তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হবে বলে দিল্লি সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।

কর্নাটক
১) মহারাষ্ট্র, দিল্লি, তামিলনাড়ু সহ দেশের সর্বাধিক করোনা আক্রান্ত সাত রাজ্য থেকে আগত বিমান যাত্রীদের সাত দিনের বাধ্যতামূলক ইনস্টিটিউশনাল কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে বলে জানিয়েছে কর্নাটক সরকার।
২) যাত্রীদের জন্য স্যানিটাইজড ট্যাক্সির ব্যবস্থা করবে এয়ারপোর্ট অথরিটি। প্রতি ট্রিপের পর ট্যাক্সি চালকের শারীরিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
৩) ট্যাক্সির যাত্রী এবং চালকদের ফেস মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
৪) এয়ারপোর্টের যেসব কর্মী সমগ্র বিষয়টি পরিচালনা করবেন, তাঁদেরও একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর শারীরিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশ
১) আকাশ পথে রাজ্যে পৌঁছনো সব যাত্রীকেই ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে বলে উত্তরপ্রদেশ সরকারের নির্দেশ। যদি কোনও ব্যক্তি সাত দিনের কম সময়ের ব্যবধানে অন্য রাজ্য থেকে উত্তরপ্রদেশ পৌঁছন বা যাঁর কোভিড ১৯ পরীক্ষার ফল পূর্বে নেতিবাচক এসেছে, তাঁকে ছাড় দেওয়ার পক্ষপাতি যোগী আদিত্যনাথের সরকার।
২) উত্তরপ্রদেশ সরকার জানিয়েছে, হোম কোয়ারেন্টাইনে ৬ দিন কাটানোর পর ভিন রাজ্য থেকে আসা কোনও বিমান যাত্রী কোভিড ১৯ টেস্ট করতে পারেন। ফল নেতিবাচক হলে বিধি ভাঙা যেতে পারে।
৩) আকাশপথে উত্তরপ্রদেশে পৌঁছনো সব যাত্রীকে রাজ্য সরকারের বিশেষ ওয়েবসাইটে নাম নথিভূক্ত করতে হবে।

তামিলনাড়ু
১) করোনা ভাইরাসে সর্বাধিক প্রভাবিত হওয়া রাজ্যগুলির মধ্যে অন্যতম তামিলনাড়ুতে যাঁরা আকাশ পথে পৌঁছবেন, তাঁদের বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইন বা ইনস্টিটিউশনাল আইসোলেশনে থাকতে হবে।
২) প্রতি যাত্রীকে চেন্নাইমুখী বিমান ধরার আগে তামিলনাড়ু সরকারের বিশেষ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ই-পাস সংগ্রহ করতে হবে। রাজ্য সরকারের তরফে যাত্রীদের কাছে একটি স্বতন্ত্র কিউআর কোড পাঠানো হবে। সেটি দেখালে তবেই চেন্নাই বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর অনুমতি মিলবে।
৩) যাঁদের শরীরে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ থাকবে তাঁদের কেবল ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। কিন্তু যাঁরা সন্দেহের তালিকায় থাকবেন, তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হবে।

পাঞ্জাব
বিমানবন্দরে প্রত্যেক যাত্রীকে স্ক্রিনিং-এর সম্মুখীন হতে হবে। যাঁদের শরীরে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ ধরা দেবে, কেবল তাঁদেরই হাসপাতাল কিংবা ইনস্টিটিউশনাল আইসোলেশনে পাঠানো হবে।

জম্মু ও কাশ্মীর
আকাশ পথে রাজ্যে পৌঁছনো সব যাত্রীকে বিমানবন্দরেই কোভিড ১৯ টেস্টের সম্মুখীন হতে হবে। যতদিন না সেই টেস্টের ফল বেরোচ্ছে, ততদিন যাত্রীদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। টেস্টের ফল নেতিবাচক হলে স্বাভাবিক জনজীবনে ফেরা যাবে। ফল ইতিবাচক এলে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।

গোয়া
ভিন রাজ্য থেকে পৌঁছনো প্রত্যেক যাত্রীকে থার্মাল স্ক্রিনিং-এর সম্মুখীন হতেই হবে। যাত্রীদের স্ব-ঘোষণার ফর্মও পূরণ করতে হবে। যাঁদের শরীরে কোভিড ১৯-এর লক্ষণ চোখে পড়বে, তাঁদের কোয়ারেন্টাইন কিংবা হাসপাতালে পাঠানো হবে। থার্মাল স্ক্রিনিংয়ে যাঁদের ফল নেতিবাচক আসবে, তাঁদের অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা খরচ করে সোয়াব টেস্ট করাতে হবে। সেই টেস্টের ফল না আসা পর্যন্ত যাত্রীকে সেলফ আইসোলেশনের নিয়ম মেনে চলতে হবে।

কেরল
১) প্রতি যাত্রীকে কেরলমুখী বিমান ধরার আগে তামিলনাড়ু সরকারের বিশেষ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহ করতে হবে।
২) আকাশ পথে কেরলে পৌঁছনো সব যাত্রীকে মেডিক্যাল স্ক্রিনিংয়ে অংশ নিতে হবে। ফল ইতিবাচক হলে সেই যাত্রীকে হয় কোয়ারেন্টাইন, নয় হাসপাতালে পাঠানো হবে।
৩) প্রত্যেক যাত্রীকে বাড়ি পৌঁছনোর জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা ভাড়া করা গাড়ি ব্যবহার করতে হবে।
৪) নির্দিষ্ট যাত্রীকে নিতে আসা কোনও ব্যক্তি অন্য কোনও ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে তাঁকে বাধ্যতামূলক ভাবে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।

অসম
যাঁরা আকাশ পথে অসমে পৌঁছবেন, তাঁদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন বা ইনস্টিটিউশনাল আইসোলেশনে থাকতে হবে। কেবল পাইলট এবং ক্রিউদের এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে।

মেঘালয়
যাঁরা আকাশ পথে মেঘালয়ে পৌঁছবেন, তাঁদের কোভিড ১৯ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টার জন্য ইনস্টিটিউশনাল কোয়ারেন্টাইনে থাকতেই হবে।

ছত্তিশগড়
আকাশ পথে ছত্তিশগড়ে পৌঁছনো যাত্রীদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন বা ইনস্টিটিউশনাল আইসোলেশনে থাকতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গ
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে দিয়েছেন, অন্য রাজ্য থেকে যাঁরা বিমান অথবা রেলপথে অথবা সড়কপথে পশ্চিমবঙ্গে আসবেন, তাঁদের বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্রিনিং করার পর নেগেটিভ পাওয়া গেলে ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে তাঁদের ১৪ দিন বাড়িতে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন থাকতে হবে বলেও জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সেই নিয়ম পালন না করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে যাঁরা বাড়িতে থাকবেন, তাঁদেরকে দিন দুয়েকের মধ্যে নিজের জেলাতেই আধিকারিক এসে সোয়াব টেস্ট করে যাবেন। সেই রিপোর্ট পরে দেওয়া হবে। ততদিন বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইন থাকতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে চলতে হবে। বাইরে বেরোনো চলবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার।












Click it and Unblock the Notifications