মাদক-অস্ত্র পাচার রুখতে বড় পদক্ষেপ পঞ্জাবের, সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম
পঞ্জাব সরকার মাদক ও অস্ত্রের আন্তঃসীমান্ত পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। জানা গিয়েছে, শীঘ্রই ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম মোতায়েন করতে চলেছে। সোমবার পঞ্জবের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (ডিজিপি) গৌরব যাদব এমনই জানিয়েছেন।
এদিন তিনি জানান, এই সিস্টেমের পরীক্ষা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যেই এটি সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ)-এর সাথে সমন্বয় করে দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা লাইনে স্থাপন করা হবে। এদিকে ডিজিপি সাংবাদিকদের জানান, "আমরা ভারত-পাক সীমান্তে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমের কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছি এবং আমাদের কর্মকর্তারা এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। খুব শীঘ্রই আমরা এই প্রযুক্তি সীমান্তে মোতায়েন করব।"

উল্লেখ্য, রাজ্যের আম আদমি পার্টি (এএপি) সরকার গত মাসেই ঘোষণা করেছিল যে, সীমান্ত পেরিয়ে আসা মাদক, অস্ত্র এবং গোলাবারুদ পাচার ঠেকাতে অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এই পদক্ষেপ পঞ্জাবের সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকার সীমান্ত এলাকায় প্রতিরক্ষার দ্বিতীয় স্তরকে আরও জোরদার করার জন্য ৫,৫০০ জন হোমগার্ড নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলেও জানান ডিজিপি যাদব।
মাদক পাচারের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে ডিজিপি বলেন, রাজ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের (এনডিপিএস) অধীনে বিশেষ আদালত স্থাপনের প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি জানান, "আমরা ৩০টি এক্সক্লুসিভ এনডিপিএস আদালত প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। হাইকোর্টের অনুমোদন পেলে এই আদালতগুলি স্থাপনে বছরে প্রায় ২২.৮ কোটি টাকা খরচ হবে। বর্তমানে এই প্রস্তাবটি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।"
পঞ্জাবে চলমান মাদকবিরোধী অভিযান সম্পর্কে তথ্য দিতে গিয়ে ডিজিপি বলেন, চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে এখনও পর্যন্ত এনডিপিএস আইনে ৪,৬৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৭,৪১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে ২৯৭ কেজি হেরোইন, ১০,০০০ কেজি পোস্ত, ১৫৩ কেজি আফিম, ৯৫ কেজি গাঁজা, ২১.৭৭ লক্ষ ট্যাবলেট এবং ৮ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও, রাজ্যজুড়ে ৭৫৫টি মাদকের হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে।
এদিন তিনি সাম্প্রতিক বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ উদ্ধারের প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সমালোচনা করে বলেন, তারা প্রক্সি ওয়ারের মাধ্যমে ভারতকে অস্থির করার চেষ্টা করছে। পঞ্জাব পুলিশ সমস্ত নাশকতামূলক কার্যকলাপের মোকাবিলা করতে সক্ষম এবং তাদের যেকোনও অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।
সরকারের এই পদক্ষেপ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি এনেছে। স্থানীয় মানুষজন মনে করছেন, এই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার ফলে মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালান অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পঞ্জাব সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপ জাতীয় নিরাপত্তা এবং রাজ্যের যুব সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












Click it and Unblock the Notifications