৭০ বছর পর পরিবর্তন পাঞ্জাবে, দিল্লি মডেলেই কি বাজিমাত আপের

৭০ বছর পর পরিবর্তন পাঞ্জাবে, দিল্লি মডেলেই কি বাজিমাত আপের

৭০ বছর পর পরিবর্তন। আম আদমি পার্টি যেন ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেসকে। বিজেপি শাসনেও দিল্লি নিজের ক্ষমতায় রেখেছেন কেজরিওয়াল। সেই ফরমুলাতেই কি পাঞ্জাবেও জয় এল। এই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েেছ রাজনৈতিক মহলে। আম আদমি পার্টি যে আম আদমির মত নিয়েই চলে সেই বিশ্বাস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল কেজরিওয়াল। সেই ক্যারিশ্মাতেই পাঞ্জাবে যুদ্ধ জয় কেজরিওয়ালের। তাতেই ৭০ বছর পর পাঞ্জাবে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন অরবিন্দ কেজরিয়াল। যাকে বলে ইতিহাস তৈরি করে ফেলেছে আপ।

পাঞ্জাবে আপের জয়

পাঞ্জাবে আপের জয়

কংগ্রেসের উপর ভরসা নেই। পাঞ্জাবের আম জনতা বেছে নিয়েছে আমআদমি পার্টিকেই। ১১৭টি আসনের মধ্যে ৪৭টি আসন জিতে গিয়েছে আপ প্রার্থীরা। ৪৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছেন তাঁরা। মোট ৯১িট আসনই আপ পেয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ভগবন্ত মানও জয়ী হয়েছেন। অথচ কংগ্রেসের একের পর এক হেভিওয়েট প্রার্থী চরণজিৎ সিং চান্নি থেকে শুরু করে নভজ্যোত সিং সাধু সকলেই হেরেছেন নিজের নিজের কেন্দ্রে। আপের প্রার্থীরা একের পর এক কেন্দ্রে এগিয়ে গিয়েছেন। ২০১৭ সাল কিন্তু ছবিটা একেবারেই অন্যরকম ছিল। মাত্র ২০টি আসনেই থামতে হয়েছিল আপকে।

৭০ বছর পর পরিবর্তন

৭০ বছর পর পরিবর্তন

২০ থেকে ৯১। এগিয়ে যাওয়ার সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। কিন্তু তার পরেও অসাধ্য সাধন করেছে আমআদমি পার্টি। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বের জোরেই এই বিপুল সাফল্য। পাঞ্জাবের আম জনতার মনে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন কেজরিওয়াল। আপের এই জয় ৭০ বছর পর পাঞ্জাবে পরিবর্তনের জোয়ার নিয়ে এসেছে। গত ৭০ বছর ধরে হয় শিরোমণি অকালি দল না হলে কংগ্রেস। এরাই দফায় দফায় সরকার গড়েছে। কিন্তু এদের লাগাতার দলাদলি আর বিদ্বেষে যাকে বলে বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন পাঞ্জাবের মানুষ। নতুন কিছু চাইছিলেন তাঁরা। ২০১৭ সালে আপ প্রথম পাঞ্জাবে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সেসময় তেমন ভরসা করতে পারেনি পাঞ্জাবের মানুষ। তাঁরা অনেকটা রক্ষণশীল হয়েই কংগ্রেসকে ক্ষমতায় ফিরিয়েছিলেন। কিন্তু সেই কংগ্রেসও শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিশ্বাস রাখতে পারেনি। তাই বিকল্প কিছু পেতে শেষ পর্যন্ত আপকেই বেছে নিয়েছেন তাঁরা।

হাওয়া বদলের নেপথ্যে কোন কারণ

হাওয়া বদলের নেপথ্যে কোন কারণ

পাঞ্জাবে আপের এই বিপুল জয়ের নেপথ্যে রয়েছে কৃষক আন্দোলন এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মোদী সরকার শেষ পর্যন্ত কৃষি আইন প্রত্যাহার করলেও সেটা অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল। পাঞ্জাবে কর্মসংস্থানের যে বিপুল সংকট তৈরি হয়েছে সেটা বুঝতে পেরেই একেবারে মেপে মেপে ভোট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ নির্বাচনে জনতার রায় নিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন আম আদমি পার্টি শুধু নামে নয় কাজেও আম আদমির পার্টি। তাই মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় ভগবন্ত মানকেই বেছে নিয়েছিলেন তিনি। তার সঙ্গে কাজ করেছে পাঞ্জাবে সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাব। অমরিন্দরের জায়গায় সিধুর নেতৃত্ব মেনে নিতে পারেননি অনেকেই। শিরোমণি অকালি দলের প্রতিও আস্থা হারিয়েছিলেন তাঁরা। কেজরিওয়ালের সুযোগ্য নেতৃত্বকেই সেকারণে বেছে নিয়েছেন পাঞ্জাবের মানুষ।

দিল্লির ফরমুলাতেই বাজি মাত

দিল্লির ফরমুলাতেই বাজি মাত

পাঞ্জাবে বিধানসভা ভোটে মূল দুটি ইস্যু ছিল মাদক বিরোধী অভিযান আর সীমান্ত সুরক্ষা। কংগ্রেস এবং শিরোমণি অকালি দল, বিজেপি সকলেই এই দুটি ইস্যুতে ভর করেই যুদ্ধ জয়ের দৌড়ে সামিল হয়েছিল। কিন্তু আম আদমি পার্টি হেঁটেছিল অন্যপথে। তাঁরা সাধারণ মানুষের সমস্যাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল। ঠিক যেমনটা হয়েছিল দিল্লিতে। নামমাত্র খরচে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ এবং পানীয় জল পরিষেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। প্রতি মাসে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ১ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। সেই সঙ্গে পাঞ্জাবে বিপুল পরিমানে কর্মসংস্থান তৈরির কথা বলেছিলেন তিনি। আর সেই গুলোই ম্যাজিকের মত কাজ করেছে আপের ভোট বাড়াতে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+