কৃষি আইনের প্রতিবাদে থানাতেই গরু নিয়ে রাত্রিযাপন হরিয়ানার প্রতিবাদী কৃষকদের
গরু নিয়ে রাত্রিযাপন হরিয়ানার প্রতিবাদী কৃষকদের
হরিয়ানার ফতেহাবাদ জেলার তোহানে কৃষক ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে সপ্তাহ জুড়ে। এই সংঘর্ষকে সামনে রেখে শতাধিক কৃষক প্রতিবাদ জানাতে হাজির হয়েছে শহরের সদর পুলিশ স্টেশনে এবং থানা চত্ত্বরেই তাঁবু খাটিয়ে থাকছেন তাঁরা। তবে এক প্রতিবাদকারী কৃষক তাঁর সঙ্গে একটি গরুকে এনেছিলেন কারণ তাঁকে বাড়িতে দেখার মতো কেউ নেই।

বিধায়কের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ
প্রসঙ্গত, তোহানের বিধায়ক জেজেপির দেবেন্দর বাবলির বাসভবনে গত ১ জুন কৃষকরা প্রতিবাদ জানাতে আসেন। সেই সময় ২ জন কৃষককে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রতিবাদকারীরা সেই কৃষকদের ছেড়ে দেওয়ার দাবিতেই থানা চত্ত্বরে তাঁবু করে থেকে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। যদিও ওই দুই কৃষক জেল হেফাজতে রয়েছেন। শনিবার কৃষকরা প্রতিবাদ করতে করতে থানার সামনে আসেন এবং ৬০ জন মহিলা সহ একাধিক কৃষক পুলিশ থানার দুই একর জমিতে রাত কাটান। কৃষক নেতা গুরনাম সিং চাঁদুনি, রাকেশ টিকাইত ও স্বরাজ ইন্ডিয়ার সভাপতি যোগেন্দ্র যাদবও শনিবার রাতে থানা চত্ত্বরেই রাত কাটান আন্দোলনকারী কৃষকদের সঙ্গে। রবিবার এই প্রতিবাদে যোগ দেন আর এক কৃষক নেতা যোগিন্দর সিং উগ্রাহন।

পুলিশ চত্ত্বরে দিন কাটাচ্ছেন কৃ্যকরা
আন্দোলনকারীরা পুলিশ কর্মীদের সেভাবে পাত্তা না দিয়ে যে যাঁর মতো কাজ করতে থাকেন। কেউ কেউ আবার গোলাপি রঙের শামিয়ানার মধ্যে সবুজ কার্পেটে বসে কখনও একে-অপরের সঙ্গে অথবা মাঝে মাঝে কর্তব্যে থাকা পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে আড্ডা মারতে দেখা গেল। থানার সামনে প্রতিবাদরত এক কৃষক বলেন, 'থানা সংলগ্ন এলাকার কৃষকরা আমাদের খাবার ও পানীয় জল সরবরাহ করছেন।'

বিজেপি ও জেজেপি নেতাদের ঘেরাও
কেন্দ্রের তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদের অংশ হিসাবে, কৃষকরা বিজেপি এবং জেজেপির নেতারা, যে দলগুলি ক্ষমতাসীন জোটের অংশ, তারা যখনই প্রকাশ্য কর্মসূচিতে অংশ নেয়, তাদের ঘেরাও করে কৃষকরা। গত ১ জুন তোহারাতে এক সরকারি হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় পথে কৃষকরা আটকায়। এরপর এই সংঘর্ষের জেরে বাবলির ব্যক্তিগত সহযোগীর মাথায় চোট লাগে এবং বিধায়কের গাড়ির জানলার কাঁচ ভেঙে যায়।

দু’জন কৃষককে ছেড়ে দেওয়ার আর্জি
আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ২টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু শনিবার বিধায়ক ঘোষণা করেন যে, যারা তাকে আক্রমণ করেছে এবং সংঘর্ষের সময় তাঁকে যারা গালিগালাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। কৃষকরাও জানিয়েছেন যে এই সমস্যা সমাধান হয়ে গিয়েছে এবং এফআইআর প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ১ জুন আর একটি এফআইআর দায়ের হয় সেটি হল বাবলির বাড়ির সামনে কৃষকদের প্রতিবাদের কারণে। এই ঘটনায় পুলিশ ২৭ জন কৃষকদের গ্রেফতার করে। তবে অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হলেও ২ জন কৃষক এখনও জেল হেফাজতে রয়েছেন। সদর পুলিশ স্টেশনের সামনে প্রতিবাদরত কৃষকরা ওই দুই কৃষকদের ছাড়ার জন্য দাবি তোলেন।












Click it and Unblock the Notifications